রোহিঙ্গা সংকট রাজনৈতিক ইস্যু: বিশ্বব্যাংক
ফাইল ছবি
বিশেষ প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৩ নভেম্বর ২০১৯ | ০৯:২৪
বিশ্বব্যাংক বলেছে, রোহিঙ্গা সংকট একটি রাজনৈতিক ইস্যু। এর সমাধান করা বিশ্বব্যাংকের কাজ নয়। রোহিঙ্গা সংকটের সমাধান করতে হবে রাজনৈতিকভাবে। জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহযোগিতায় বাংলাদেশ সরকারকে এ উদ্যোগ নিতে হবে। বিশ্বব্যাংক যা করতে পারে তা হলো রোহিঙ্গাদের জীবনমান উন্নয়নে কারিগরি ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা করা। ইতোমধ্যে তারা রোহিঙ্গাদের জন্য সহায়তা দিয়েছে এবং ভবিষ্যতেও এটা অব্যাহত থাকবে।
বিশ্বব্যাংক গ্রুপের নির্বাহী পরিচালক ও সংস্থার বাংলাদেশে সফররত প্রতিনিধি দলের মুখপাত্র প্যাটরিজিও প্যাগানো রোববার ঢাকায় সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন।
মিয়ানমার সরকার সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা মুসলমানদের ওপর অমানবিক নির্যাতন চালালেও দেশটির ওপর কোনো নিষেধাজ্ঞা বা সহায়তা বন্ধ করা হবে না বলে জানিয়েছে বিশ্বব্যাংক। বরং সংস্থাটি বলেছে, প্রয়োজনে আরও বেশি সহায়তা দেওয়া হবে। এ ব্যাপারে প্যাটরিজিও সাংবাদিকদের বলেন, নিষেধাজ্ঞা আরোপ বিশ্বব্যাংকের কাজ নয়। মিয়ানমার তাদের শরিক দেশ। সংস্থাটির সব সদস্যের জন্য দ্বার উন্মুক্ত। যে কেউ সহায়তা চাইলে দেওয়া হবে। মিয়ানমার যদি চায় তাদেরও দেওয়া হবে।
বিশ্বব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের ১১ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল গত শুক্রবার চার দিনের সফরে বাংলাদেশে আসে। শনিবার তারা কক্সবাজারে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের দুটি ক্যাম্প পরিদর্শন করেন এবং নির্যাতিত রোহিঙ্গাদের সঙ্গে কথা বলেন।
রোববার সোনারগাঁও হোটেলে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকে বিশ্বব্যাংকের কান্ট্রি ডিরেক্টর মার্সিয়া মিয়াং টেম্বন, বিশ্বব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক অপর্ণা সুব্রামানি, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবির, অর্থসচিব আব্দুর রউফ তালুকদার, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সচিব মনোয়ার আহমেদ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠক শেষে প্রেস ব্রিফিংয়ে অর্থমন্ত্রী মুস্তফা কামাল বলেন, বাংলাদেশের জিডিপির প্রবৃদ্ধি বাড়াতে আরও বেশি সহায়তা চান তিনি। বাংলাদেশের দারিদ্র্য বিমোচনে ঈর্ষণীয় সাফল্যের প্রশংসা করেছে বিশ্বব্যাংক। পাশাপাশি এ কথাও বলছে, এ দেশের বিশাল জনগোষ্ঠী এখনও দারিদ্র্য সীমার নিচে বাস করছে।
এ প্রসঙ্গে প্যাটরিজিও বলেন, দারিদ্র্য দ্রুত কমিয়ে আনতে হলে বাংলাদেশকে আরও বিনিয়োগ বাড়াতে হবে। শুধু অবকাঠামো নয়, বিনিয়োগ বাড়াতে হবে শিক্ষা, স্বাস্থ্যসহ মানবসম্পদ খাতে। একই সঙ্গে বেসরকারি খাতে গুরুত্ব দিতে হবে। বেসরকারি খাতে বেশি কাজের সুযোগ তৈরি হয়। এ জন্য এ খাতকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে।
রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এই জনগোষ্ঠীর জন্য বাংলাদেশ সরকার যা করেছে তা প্রশংসনীয়। এজন্য শেখ হাসিনার সরকার ও বাংলাদেশের জনগণকে ধন্যবাদ জানিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে প্যাটরিজিও বলেন, বাংলাদেশের লক্ষ্য হচ্ছে জিডিপির হার ১০ শতাংশে উন্নীত করা। উচ্চাভিলাষী এই লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে হলে বিনিয়োগ বৃদ্ধির পাশাপাশি নিজস্ব সম্পদ তথা রাজস্ব আহরণে আরও বেশি নজর দিতে হবে। গুরুত্ব দিতে হবে সংস্কারে। আর্থ-সামাজিক সূচকে বাংলাদেশের অগ্রগতির প্রশংসা করেছে বিশ্বব্যাংক। বিশ্বব্যাংক প্রতিনিধি দলের মুখপাত্র বলেন, বাংলাদেশের জনগণের আয়ুস্কাল অনেক বড়েছে। এ ক্ষেত্রে অন্য দেশের তুলনায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে দেশটির।
এক প্রশ্নের জবাবে বিশ্বব্যাংকের কান্ট্রি ডিরেক্টর মার্সিয়া বলেন, ২০২০ সালের পর বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে সরকার কান্ট্রি পার্টনারশিপ চুক্তি করবে। এর আওতায় নতুন করে ঋণ দেওয়া হবে। বিশ্বব্যাংকের পর্যাপ্ত তহবিল আছে। ফলে ঋণ পেতে কোনো সমস্যা হবে না।
বিশ্বব্যাংক গ্রুপের প্রতিনিধি দল আজ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে বাস্তবায়িত বিভিন্ন প্রকল্প পরিদর্শন করবে। সোমবার ঢাকা ছাড়বেন তারা।
- বিষয় :
- বিশ্বব্যাংক
- রোহিঙ্গা