গণভোটের মাধ্যমে জুলাই সনদকে সাংবিধানিক স্বীকৃতি দিতে হবে
.
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২৩ আগস্ট ২০২৫ | ২৩:৫৯
গণভোটের মাধ্যমে জনমত গঠন করেই জুলাই সনদকে সাংবিধানিক স্বীকৃতি দিতে হবে। অধ্যাদেশের মাধ্যমে এ সনদ কার্যকর করা হলে পরবর্তী সময়ে নির্বাচিত সরকার তা সহজেই বাতিল করতে পারে। এতে দেশ পড়তে পারে গভীর রাজনৈতিক সংকটে। তাই সব দলের নেতাদের সই নিয়ে বিশেষ ক্রান্তিকালীন বিধান হিসেবে সনদটিকে সংবিধানের চতুর্থ তপশিলে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। এতে করে সনদটি হবে অটল ও নিরঙ্কুশ। এ ছাড়া জাতীয় নির্বাচনের সঙ্গে একযোগে গণভোট আয়োজন করলে খরচও কম হবে।
শনিবার সেন্টার ফর সিভিল সোসাইটির আয়োজনে ‘গণভোট না অর্ডিন্যান্স : প্রসঙ্গ জুলাই সনদ’ বিষয়ে গোলটেবিল বৈঠকে বক্তরা এসব কথা বলেন। সেন্টার ফর সিভিল সোসাইটির সভাপতি সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী পারভেজ হোসেনের সভাপতিত্বে বৈঠকে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি এ এফ এম আব্দুর রহমান।
তিনি বলেন, জুলাই ঘোষণাপত্রে সব রাজনৈতিক দলের নেতাদের সই করার মাধ্যমে জুলাই সনদের কাজ শুরুর আহ্বান করছি। এই জুলাই সনদকে সংবিধানের চতুর্থ তপশিলে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।
মূল প্রবন্ধে ব্যারিস্টার এস এম শাহরিয়ার কবির বলেন, স্বাধীনতার পর থেকে এ দেশের মানুষ প্রতারিত হচ্ছে। যখন যে দলই ক্ষমতায় গেছে, তারা ক্ষমতায় গিয়ে দলীয় স্বার্থ ছাড়া সাধারণ মানুষের জন্য তেমন কিছুই করেনি। তাই জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি যদি মজবুত না হয়, তাহলে পরবর্তী সময়ে নির্বাচিত সরকার এলে আরেকবার এ দেশের মানুষ প্রতারিত হতে পারে।
আলোচনা সভায় ব্যারিস্টার সাজ্জাদ আলী মিসর ও শ্রীলঙ্কার অন্তর্বর্তী সরকারের উদাহরণ টেনে বলেন, সাধারণত দেখা যায়, রাজনৈতিক দলগুলো গণতন্ত্রের কথা বললেও যখন তারা ক্ষমতায় যায়, তখন রাজতন্ত্রের দিকেই ধাবিত হয়। তাই জুলাই সনদের প্রয়োজনীয়তা অনস্বীকার্য এবং এই সনদের আইনি ভিত্তি জরুরি।
জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, সরকার ও রাজনৈতিক দলগুলোর আন্তরিকতা, সদিচ্ছা এবং কার্যকরী পদক্ষেপ নেওয়াটাই জরুরি। আন্তরিকতা থাকলে কীভাবে এই সনদকে শহীদ আহত এবং জনসাধারণের পক্ষে একটি সাংবিধানিক বিধিবদ্ধ হিসেবে তৈরি করা যায়, তার পথ বের হয়ে যাবে।
সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার ইমরান আব্দুল্লাহ সিদ্দিকী বলেন, আমাদের জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি, বৈধতা এবং জনসমর্থন নিশ্চিত করতে হবে।
গুমের শিকার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আব্দুল্লাহিল আমান আযমী বলেন, যত সরকার এসেছে তারা তাদের নিজেদের ও দলের আখের গুছিয়েছে। নানা সময়ে রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি আমরা আস্থা রাখতে পারিনি।
ড. হেলাল উদ্দিন বলেন, ‘জুলাই সনদকে নিয়ে নানা ধরনের বিভ্রান্তি সৃষ্টি করা হচ্ছে। গত ৫ আগস্ট যে ঘোষণাপত্র পাঠ করা হয়েছে, তা জুলাই সনদ নয়, বরং জুলাই ঘোষণাপত্র।
লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মুস্তাফিজুর রহমান ইরান বলেন, জুলাই ঘোষণাপত্রের সমালোচনা নয়, বরং সম্মিলিত ঐক্যের মাধ্যমে জুলাই সনদের গ্রহণযোগ্যতা নিশ্চিত করতে হবে।
গণঅধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খান বলেন, প্রধান উপদেষ্টা তাঁর একটি ভাষণে বলেছেন, মানুষ গণভোট বোঝে না। তাঁর বক্তব্য থেকে এটা পরিষ্কার, তিনি গণভোটের আয়োজন করতে রাজি নন। তবে আমরা দাবি তুলতে পারি।
ব্যারিস্টার শারমিন জাহান মিলি বলেন, গণতন্ত্রের সৌন্দর্য হচ্ছে একই প্ল্যাটফর্মে থেকে ভিন্নমত পোষণ করা। আমি মনে করি, যেহেতু রাজনৈতিক দলগুলোর ঐকমত্য আছে, তাই জুলাই সনদের জন্য গণভোট নয়, রাজনৈতিক দলগুলোর সদিচ্ছাই যথেষ্ট। অর্ডিন্যান্সের মাধ্যমেও এই সনদকে আইনি বৈধতা দেওয়া যায়।
ইসলামী ছাত্রশিবিরের সভাপতি জাহিদুল ইসলাম বলেন, আমরা মনে করি, ফ্যাসিবাদ কায়েম হওয়ার কোনো সুযোগ রাখা যাবে না। তাই জুলাই সনদের পক্ষে গণভোট হওয়া জরুরি।
ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান হাদী বলেন, আমরা আগেই বলেছিলাম, এই জুলাই সনদের ভাষা অত্যন্ত সাবলীল হতে হবে।
- বিষয় :
- জুলাই ঘোষণাপত্র
