ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

সরাসরি নয়, উন্মুক্ত দরপত্রে হচ্ছে জুলাই স্মৃতি জাদুঘর

সরাসরি নয়, উন্মুক্ত দরপত্রে হচ্ছে জুলাই স্মৃতি জাদুঘর
×

.

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫ | ০৬:৩৯

শেষ পর্যন্ত উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর নির্মাণে ঠিকাদার নিয়োগ হতে যাচ্ছে। গতকাল মঙ্গলবার সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত অর্থনৈতিক বিষয়-সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির বৈঠকে উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতিতে জুলাই স্মৃতিঘর নির্মাণের নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়। এর আগে একই কমিটি সরাসরি ক্রয়পদ্ধতিতে নির্মাণকাজের নীতিগত অনুমোদন দিয়েছিল। তবে সেই অনুমোদন প্রত্যাহার করা হয়। অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বিদেশ থেকে ভার্চুয়ালি যোগ দিয়ে গতকালের বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন।

২০২৪ সালের জুলাই অভ্যুত্থানের স্মৃতিচিহ্ন, শহীদদের স্মারক ও আওয়ামী লীগ সরকারের নিপীড়নের ঘটনা তুলে ধরার জন্য সাবেক প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন গণভবনকে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর’-এ রূপান্তরের সিদ্ধান্ত রয়েছে অন্তর্বর্তী সরকারের। গত বছরের ২৪ ডিসেম্বর উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে গণভবনকে জাদুঘরে রূপান্তরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
গত ৫ আগস্টের মধ্যে জাদুঘর রূপান্তরের কার্যক্রম সমাপ্ত করতে নির্মাণের লক্ষ্য ছিল সরকারের। সরাসরি ক্রয়পদ্ধতিতে এ কাজ করার জন্য গত ১৫ জুলাই নীতিগত অনুমোদন দেয় অর্থনৈতিক বিষয়-সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটি। এ ক্ষেত্রে ব্যয় ধরা হয় প্রায় ১১১ কোটি টাকা। দরপত্র ছাড়াই এ ধরনের কাজ করার উদ্যোগে বিভিন্ন মহল থেকে সমালোচনা হয়। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) এক বিবৃতিতে জানিয়েছিল, সরকারি অর্থ ব্যয়ে বিদ্যমান আইন ও নীতিমালা এড়িয়ে সরাসরি ক্রয়পদ্ধতি রাষ্ট্রীয় কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির প্রতি অন্তর্বর্তী সরকারের অঙ্গীকারের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। সার্বিক প্রেক্ষাপটে সরাসরি পদ্ধতিতে নির্মাণ থেকে সরে এখন উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতিতে নির্মাণের সিদ্ধান্ত নিল সরকার। 
বৈঠকে উপস্থাপিত প্রস্তাব অনুযায়ী জাদুঘরের কাজের মধ্যে একটি অংশ থাকবে বৈদ্যুতিক ও যন্ত্রপাতি-সংক্রান্ত। এর মধ্যে থাকবে বৈদ্যুতিক তার, সুইচসহ বিভিন্ন বৈদ্যুতিক ও যান্ত্রিক সামগ্রী। আর থাকবে পূর্ত অংশ।

গত ১৫ জুলাই অনুমোদিত হওয়া প্রস্তাবে শুভ্রা ট্রেডার্সকে দিয়ে জাদুঘরের বৈদ্যুতিক ও যন্ত্রপাতি কাজ করানোর জন্য ব্যয় প্রাক্কলন করা হয় ৪০ কোটি ৮৩ টাকা। এ ছাড়া পূর্ত অংশের কাজের ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান মনোনীত হয় দি সিভিল ইঞ্জিনিয়ার্স লিমিটেড। এ কাজে ব্যয় প্রাক্কলন করা হয় ৭০ কোটি ৩৭ লাখ টাকা।
অনুমোদিত অন্যান্য প্রস্তাব
অর্থনৈতিক বিষয়ের পর ক্রয়সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির বৈঠকে পৃথক ছয়টি প্রস্তাবে বিভিন্ন দেশ থেকে প্রায় দুই লাখ টন সার কেনার প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়। এতে সরকারের ব্যয় ধরা হয়েছে এক হাজার ৫১৫ কোটি টাকা। এ ছাড়া ৪৮৫ কোটি টাকা ব্যয়ে যুক্তরাজ্যের টোটাল এনার্জিস গ্যাস অ্যান্ড পাওয়ার কোম্পানি থেকে এক কার্গো এলএনজি আমদানির সিদ্ধান্ত হয়েছে। একই সঙ্গে আগামী ২০২৬ শিক্ষাবর্ষে ইবতেদায়ি স্তরের প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয়, চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণির দুই কোটি ৯৪ লাখ ৬৮ হাজার ৩৬৭টি পাঠ্যপুস্তক সংগ্রহ করার প্রস্তাব অনুমোদিত হয়। পাঠ্যপুস্তক মুদ্রণ (কাগজসহ), বাঁধাই ও সরবরাহে ব্যয় হবে ১২৭ কোটি ৬৬ লাখ টাকা।
 

আরও পড়ুন

×