আলোচনা সভায় বক্তারা
চিকিৎসক-নার্সের পারিশ্রমিক দক্ষিণ এশিয়ায় সর্বনিম্ন বাংলাদেশে
স্বতন্ত্র বেতন নীতি প্রণয়ণের দাবি
ছবি: সমকাল
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৫ | ১৯:৪৬ | আপডেট: ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৫ | ১৯:৪৮
দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে বাংলাদেশের চিকিৎসক ও নার্সদের গড় পারিশ্রমিক সবচেয়ে কম। শুধু প্রতিবেশী ভারত ও নেপালই নয়, উন্নত দেশের তুলনায় এই পারিশ্রমিকের ব্যবধান প্রায় ৩০ গুণ। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ ধরনের আয় বৈষম্য চিকিৎসাসেবার মানোন্নয়নে বড় অন্তরায়।
মঙ্গলবার রাজধানীর সিরডাপ অডিটোরিয়ামে ‘স্বাস্থ্যখাতে কর্মরত সরকারি-বেসরকারি জনবলের বেতন নীতি: বর্তমান বাস্তবতা, চ্যালেঞ্জ ও সুপারিশ’ শীর্ষক আলোচনায় সভায় এসব তথ্য জানানো হয়। আলোচনা সভার আয়োজন করে অ্যালায়েন্স ফর হেলথ রিফর্মস, বাংলাদেশ।
সভায় সভাপতিত্ব করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ড. সৈয়দ আব্দুল হামিদ। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল অনকোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান এবং স্বাস্থ্য খাত সংস্কার কমিশনের সদস্য অধ্যাপক ডা. সৈয়দ আকরাম হোসেন।
তিনি বলেন, বাংলাদেশে একজন চিকিৎসক বছরে গড়ে মাত্র ৩ লাখ টাকা পারিশ্রমিক পান। সেখানে ভারতের চিকিৎসকদের গড় বার্ষিক আয় ১৬ লাখ টাকা, আর যুক্তরাজ্যে একজন চিকিৎসক পান ৯৮ লাখ টাকা এবং সিঙ্গাপুরের ১১ লাখ টাকা। নার্সদের ক্ষেত্রেও পারিশ্রমিকের ব্যবধান চোখে পড়ার মতো।
বাংলাদেশে একজন নার্সের গড় বার্ষিক আয় ১ লাখ ৯৮ হাজার টাকা। সেখানে ভারতের নার্সদের গড় বার্ষিক আয় ৬ লাখ টাকা, যা বাংলাদেশের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ। নেপালেও এই পারিশ্রমিক তুলনামূলকভাবে বেশি।
ডা.আকরাম হোসেন বলেন, ‘চিকিৎসক-নার্সদের এ ধরনের বেতন বৈষম্য শুধু পেশাগত অনুপ্রেরণায় বাধা নয়, এটি স্বাস্থ্যসেবার মানেও প্রভাব ফেলে। ফলে, অনেক দক্ষ চিকিৎসক বিদেশে চলে যেতে বাধ্য হচ্ছেন।
ডা.সৈয়দ আকরাম হোসেন বলেন, চিকিৎসা পেশাজীবীদের পারিশ্রমিক বৃদ্ধি করা হলে স্বাস্থ্যখাতে আরও উন্নতি হবে এবং চিকিৎসকদের দেশত্যাগের হার কমবে। সরকারের পক্ষ থেকে এই বিষয়ে ইতোমধ্যে পদক্ষেপ নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে।
সভায় বক্তারা স্বতন্ত্র বেতন নীতি প্রণয়ন এবং একটি আলাদা পে কমিশন গঠনের দাবি জানান। তারা বলেন, স্বতন্ত্র কমিশনের মাধ্যমে চিকিৎসা পেশাজীবীদের বেতন ও ভাতা যৌক্তিকীকরণ করতে হবে এবং তিন বছর পরপর এটি হালনাগাদ করা উচিত।
বাংলাদেশ ডায়াবেটিক সমিতির সভাপতি এবং স্বাস্থ্যখাত সংস্কার কমিশনের প্রধান অধ্যাপক একে আজাদ খান বলেন, স্বাস্থ্যখাতে মানবসম্পদের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা ছাড়া কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন সম্ভব নয়। বেতনের বর্তমান কাঠামো স্বাস্থ্যসেবার মূল ভিত্তিকে দুর্বল করছে। সরকারি ও বেসরকারি খাতে চিকিৎসক, নার্স ও অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মীদের বেতন কাঠামোর অসামঞ্জস্যতা কেবল দক্ষতা ও কর্মপ্রেরণায় নয়, বরং দেশের সামগ্রিক স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার গুণগত মানে বড় প্রভাব ফেলছে।
সভায় আরও বক্তব্য রাখেন পে কমিশনের সদস্য অধ্যাপক সৈয়দ আতিকুল হক, শ্রম স্বাস্থ্য সংস্কার কমিশনের প্রধান সৈয়দ সুলতান উদ্দিন আহমেদ, জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশনের সদস্য অধ্যাপক ডা. শাহিনা সোবহান মিতু, ড্যাবের মহাসচিব ডা. মো. জহিরুল ইসলাম শাকিল এবং এনডিএফ-এর সেক্রেটারি অধ্যাপক ডা. মাহমুদ হোসেন।
- বিষয় :
- চিকিৎসক
- নার্স
- পারিশ্রমিক
- দক্ষিণ এশিয়া
- বাংলাদেশ
