ঢাকা শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬

কর্মশালায় তথ্য

দেশে এক বছরে ১৪৩৮ জনের এইচআইভি শনাক্ত, মৃত্যু ১৯৫

দেশে এক বছরে ১৪৩৮ জনের এইচআইভি শনাক্ত, মৃত্যু ১৯৫
×

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ০৩ অক্টোবর ২০২৫ | ১৭:৫৭

বাংলাদেশে ২০২৪ সালে এক হাজার ৪৩৮ জন এইচআইভি আক্রান্ত শনাক্ত হয়েছেন। এর মধ্যে ১৪৯ জন রোহিঙ্গা। একই বছরে এইডসের কারণে মৃত্যু হয়েছে ১৯৫ জনের।
জাতীয় এইডস/এসটিডি প্রোগ্রাম এবং ইউএনএআইডিএসের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সাল পর্যন্ত মোট ১২ হাজার ৪২২ জন এইচআইভি আক্রান্ত রোগী (পিএলএইচআইভি) শনাক্ত হয়েছে। তাদের মধ্যে দুই হাজার ২৮১ জনের মৃত্যু হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের ধারণা- দেশে বর্তমানে এইচআইভি আক্রান্ত আছেন ১৬ হাজার ৮৬৩ জনের মতো।

কী-পপুলেশন (গুরুত্বপূর্ণ জনগোষ্ঠী) এবং পিএলএইচআইভির (এইচআইভিতে আক্রান্ত ব্যক্তিদের) জন্য সম্প্রতি অন্তর্ভুক্তিমূলক সামাজিক পরিষেবা বিষয়ক এক জাতীয় কর্মশালায় এসব তথ্য জানানো হয়। স্বাস্থ্যসেবা অধিদপ্তর, ইউএনএইডস এবং ইউনিসেফ বাংলাদেশের যৌথ উদ্যোগে মহাখালীতে অধিদপ্তরের মিলনায়তনে এই কর্মশালা হয়েছে।

কর্মশালায় শিশু সুরক্ষা এবং সামাজিক পরিষেবা ব্যবস্থার মধ্যে এইচআইভি প্রতিরোধ ও যত্নের বিষয়গুলো কীভাবে একীভূত করা যায়, তা তুলে ধরা হয়। এতে ইউএনএইডস বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর ড. সাইমা খান ও স্বাস্থ্যসেবা অধিদপ্তরের জাতীয় এইডস/এসটিডি নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির উপপরিচালক ড. জুবাইদা নাসরীন যৌথভাবে সভাপতিত্ব করেন। অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) অধ্যাপক ড. শেখ সাইদুল হক কর্মশালা উদ্বোধন করেন।

অন্তর্ভুক্তিমূলক সামাজিক পরিষেবা বিষয়ক কর্মশালা

এ সময় ইউনিসেফ এবং ইউএনএইডসের যৌথভাবে প্রকাশিত বই ‘পলিসি অ্যান্ড প্রোগ্রামিং অ্যাপ্রোচ: লিংকিং এইচআইভি প্রিভেনশন উইথ হার্মফুল প্র্যাকটিস প্রিভেনশন ইন বাংলাদেশ’ আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়। কর্মশালায় বলা হয়, বাংলাদেশে এইচআইভি আক্রান্তের হার এখনও দশমিক ১ শতাংশের কম, যা খুব ভালো দিক। কিন্তু ২০১০ সালের পর থেকে নতুন করে আক্রান্তের সংখ্যা ২০ শতাংশের বেশি বেড়েছে। এই বিপদ বাল্যবিয়ে, মেয়েদের ওপর নির্যাতন এবং সুরক্ষার জন্য সঠিক সেবা না পাওয়ার মতো বড় সামাজিক সমস্যাগুলোর সঙ্গে জড়িত।

এ প্রসঙ্গে ইউনিসেফ বাংলাদেশ অফিসের কর্মকর্তা ও শিশু সুরক্ষা বিভাগের প্রধান, ডা. এলিসা ক্যালপোনা বলেন, কিশোর-কিশোরী এবং তরুণরাই সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে আছে। কারণ, এইচআইডি রোগটি বাল্যবিবাহ, মেয়েদের উপর সহিংসতা এবং সুরক্ষার অভাবের মতো সামাজিক সমস্যাগুলোর সঙ্গে খুব ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত।’ 

তিনি বলেন, ‘এই কারণে, ইউনিসেফ, ইউএনএইডস ও বাংলাদেশ সরকার একসঙ্গে কাজ করছে যাতে শিশুদের সুরক্ষার জন্য তৈরি ব্যবস্থার মধ্যেই এইচআইভি প্রতিরোধ ও চিকিৎসার কাজ যুক্ত করা যায়। আমরা নিশ্চিত করতে চাই যে, এই সেবাগুলো যেন সবার জন্য হয়, মানুষের কাছাকাছি পৌঁছায় এবং সবার অধিকার রক্ষা করে।’ 

তিনি বিশেষভাবে গুরুত্ব দেন যে, সবচেয়ে বিপদে থাকা তরুণদের কাছে পৌঁছানোর জন্য সেবাগুলো অবশ্যই গোপনীয়তা এবং মর্যাদা বজায় রেখে দিতে হবে।

আরও পড়ুন

×