সংবিধান আদেশ ও গণভোটে জোর
জুলাই সনদ বাস্তবায়ন
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ০৪ অক্টোবর ২০২৫ | ০৭:০৯
| প্রিন্ট সংস্করণ
জুলাই সনদ বাস্তবায়নে আবার আলোচনা শুরু হচ্ছে। আজ শনিবার জাতীয় সংসদ ভবনে হবে ঐকমত্য কমিশনের সভা। এতে সংবিধান আদেশ জারি এবং গণভোটের ওপর জোর দিয়ে বিশেষজ্ঞরা যেসব পরামর্শ দিয়েছেন তা নিয়ে আলোচনা হবে।
আগামীকাল রোববার রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আবার সংলাপে বসবে কমিশন। আগামী মঙ্গলবার সংলাপের ইতি টেনে ১৫ অক্টোবরের মধ্যে জুলাই সনদ সই করতে চায় কমিশন।
সংস্কারের জুলাই সনদ আগেই চূড়ান্ত হয়েছে। তবে এখনও ভাষাগত পরিমার্জন চলছে। আগামী সনদ সই আটকে রয়েছে বাস্তবায়ন পদ্ধতি নির্ধারণে। রাজনৈতিক দলগুলো বাস্তবায়ন পদ্ধতি নিয়ে তিন ভাগে বিভক্ত। তবে কমিশন সূত্র জানিয়েছে, গত কয়েক দিনের অনানুষ্ঠানিক আলোচনায় বিএনপিসহ কয়েকটি দল আগের চেয়ে নমনীয়তা দেখিয়েছে।
বিএনপি, ১২ দলীয় জোট, ১১ দলীয় জোট, বিজেপি, এলডিপিসহ কয়েকটি দল চায় সাংবিধানিক সংস্কার হবে পরের সংসদে। বিএনপি চায়, গণভোট হবে নির্বাচিত সংসদে সংস্কার অনুমোদনের পর। জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী আন্দোলনসহ অন্তত সাতটি দল চায়, সংবিধানিক আদেশে নির্বাচনের আগেই জুলাই সনদের সব সংস্কার কার্যকর এবং গণভোটে তা অনুমোদন। সাংবিধানিক আদেশের বিরোধী বিএনপি, সংবিধানের ১০৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সুপ্রিম কোর্টের মতামত গ্রহণের প্রস্তাব করেছে। এই প্রস্তাব অনুযায়ী, সর্বোচ্চ আদালতের কাছে জানতে চাওয়া হবে অন্তর্বর্তী সরকারের সাংবিধানিক আদেশ জারির ক্ষমতা রয়েছে কিনা। ১০৬ অনুচ্ছেদের বিরোধী এনসিপি, গণতন্ত্র মঞ্চের ছয় দল চায়, গণপরিষদ বা সংবিধান সভায় সনদের বাস্তবায়ন।
গত ১৭ সেপ্টেম্বর সর্বশেষ সংলাপে রাজনৈতিক দলগুলোকে সমঝোতার জন্য নিজেদের মধ্যে আলোচনার আহ্বান জানিয়েছিল কমিশন। কয়েকটি দল তা করে। এরপর কমিশনও বিএনপি, জামায়াতসহ অধিকাংশ দলের সঙ্গে অনানুষ্ঠানিক বৈঠক করেছে।
গত ২৭ সেপ্টেম্বর বিশেষজ্ঞ প্যানেল কমিশনকে সনদ বাস্তবায়নে দুটি প্যাকেজের পরামর্শ দেয়। প্রথম প্যাকেজ অনুযায়ী, সাংবিধানিক আদেশ জারির মাধ্যমে সনদ কার্যকর করা হবে। এরপর আদালতের কাছে ১০৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী মতামত নেওয়া হবে, কখন হতে পারে গণভোট। দ্বিতীয় প্যাকেজে বলা হয়েছে, আগামী নির্বাচনে গঠিত সংসদে সনদ বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত, তা গণপরিষদ বা সংবিধান সভার দায়িত্ব পালন করবে। সনদ অনুমোদনের পর গণপরিষদ স্বয়ংক্রিয়ভাবে পাঁচ বছর মেয়াদি সংসদে রূপান্তরিত হবে।
কমিশন সূত্র জানিয়েছে, বিশেষজ্ঞরা গত কয়েক দিনের আলোচনায় এই অবস্থানেই রয়েছেন। একজন বিশেষজ্ঞ সমকালকে বলেছেন, প্রথম পরামর্শ ছিল সংবিধান আদেশে সনদ কার্যকর করে নির্বাচনের দিনে গণভোট হবে। বিএনপির মতো বড় একটি দল ১০৬ অনুচ্ছেদের প্রস্তাব করায়, বিশেষজ্ঞরা তা আমলে নিয়েছেন।
জুলাই সনদে ৮৪টি সংস্কারের সিদ্ধান্ত রয়েছে। বিএনপি পিআর পদ্ধতিতে উচ্চকক্ষ গঠনসহ ৯টি সিদ্ধান্তে নোট অব ডিসেন্ট (আপত্তি) দিয়েছে। দলটি জানিয়েছে, ক্ষমতায় যেতে পারলে, এগুলো বাস্তবায়ন করবে না।
একজন বিশেষজ্ঞ গতকাল শুক্রবার রাতে তাদের সর্বশেষ অবস্থান সম্পর্কে সমকালকে বলেন, সনদে নোট অব ডিসেন্টের বিষয়গুলো উল্লেখ থাকবে। যেসব বিষয়ে নোট অব ডিসেন্ট নেই, তা সংবিধান আদেশে কার্যকর হবে। এগুলো এবং নোট অব ডিসেন্টের বিষয়ে গণভোট হবে। গণভোট বা গণপরিষদ ছাড়া জুলাই সনদ কার্যকরের ক্ষমতা কারও নেই।
এদিকে গতকাল অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়নে কোনো আইনি বাধা নেই।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ সমকালকে বলেন, রোববার সংলাপের যোগ দেব। সেখানে সংবিধান আদেশ এবং ১০৬ অনুচ্ছেদের বিষয়ে আলোচনা হলে, বিএনপি মতামত জানাবে। কমিশন যতক্ষণ না আনুষ্ঠানিকভাবে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ না জানাচ্ছে, ততক্ষণ এ বিষয়ে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ নেই।
আগামী ১৫ অক্টোবর কমিশনের বর্ধিত মেয়াদ শেষ হবে। এর আগেই সনদ সই করার কথা জানিয়েছেন কমিশনের সহসভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজ। জামায়াতের সহকারী জেনারেল হামিদুর রহমান বলেন, বাস্তবায়ন পদ্ধতি চূড়ান্ত না হওয়া পর্যন্ত সনদে সই করার প্রশ্ন আসছে না।
ঐকমত্য কমিশনের সমন্বয়ের দায়িত্বে থাকা প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মনির হায়দার বলেছেন, একটি ‘কমন গ্রাইন্ড’ তৈরির চেষ্টা চলছে। যা সব দলের মতামতের কাছাকাছি হবে। বিশেষজ্ঞরা সনদ বাস্তবায়নে জনগণের অভিপ্রায়কে গুরুত্ব দিচ্ছেন।
- বিষয় :
- জুলাই ঘোষণাপত্র
