ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

চাকসু নির্বাচন

ছাত্রশিবির সমর্থিত প্রার্থীর বিরুদ্ধে পাহাড়ি সংস্কৃতিকে বিকৃতভাবে উপস্থাপনের অভিযোগ

ছাত্রশিবির সমর্থিত প্রার্থীর বিরুদ্ধে পাহাড়ি সংস্কৃতিকে বিকৃতভাবে উপস্থাপনের অভিযোগ
×

শনিবার সকাল সাড়ে ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের চাকসু ভবনে নির্বাচন কমিশনের কার্যালয়ে লিখিতভাবে অভিযোগ দাখিল করেন ‘বৈচিত্র্যের ঐক্য’ প্যানেলের নেতাকর্মীরা- সমকাল

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১১ অক্টোবর ২০২৫ | ১৭:৫০ | আপডেট: ১১ অক্টোবর ২০২৫ | ১৯:১৩

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (চাকসু) নির্বাচনকে সামনে রেখে ইসলামী ছাত্রশিবির সমর্থিত ‘সম্প্রীতির শিক্ষার্থী জোট’-এর বিরুদ্ধে আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলেছে বামধারার ‘বৈচিত্র্যের ঐক্য’ প্যানেল।

শনিবার সকাল সাড়ে ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের চাকসু ভবনে নির্বাচন কমিশনের কার্যালয়ে লিখিতভাবে এই অভিযোগ দাখিল করেন প্যানেলটির ভিপি প্রার্থী ধ্রুব বড়ুয়া, জিএস প্রার্থী সুদর্শন চাকমা ও এজিএস প্রার্থী জাকিরুল ইসলাম জসিম (জশদ জাকির)।

অভিযোগে বলা হয়, গত ১০ অক্টোবর ‘সম্প্রীতির শিক্ষার্থী জোট’-এর সহ–সাহিত্য, সংস্কৃতি ও প্রকাশনা সম্পাদক প্রার্থী জিহাদ হোসাইন নিজের ফেসবুক আইডিতে দুটি ছবি পোস্ট করেছেন, যা আচরণবিধির ৫(গ) ও ১০(ক) ধারার লঙ্ঘন। পোস্টে পাহাড়ি সংস্কৃতিকে বিকৃতভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে—যা একটি সম্প্রদায়ের সাংস্কৃতিক অনুভূতিতে আঘাত হেনেছে বলে অভিযোগকারীদের দাবি।

অভিযোগে আরও বলা হয়, একই প্যানেলের জিএস প্রার্থী সাঈদ বিন হাবিব গত ৮ অক্টোবর সকাল ১১টা ৪ মিনিটে চবির সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ক্রিমিনোলজি অ্যান্ড পুলিশ সায়েন্স বিভাগের ১১২ নম্বর ক্লাসরুমে প্রবেশ করে নির্বাচনী প্রচারণা চালান। যা চাকসু কেন্দ্র ও হল সংসদ নির্বাচন আচরণবিধিমালা ২০২৫–এর ৪(ঙ) ও ৬(জ) ধারার লঙ্ঘন। ঘটনাটির ছবি প্রমাণ হিসেবে কমিশনে জমা দেওয়া হয়েছে।

বৈচিত্র্যের ঐক্যের জিএস প্রার্থী সুদর্শন চাকমা বলেন, ‘আমরা দুটি বিষয়ের ভিত্তিতে অভিযোগ জানিয়েছি। শিবির সমর্থিত প্যানেলের এক প্রার্থী ক্লাসে গিয়ে প্রচারণা চালিয়েছে, যা আচরণবিধি অনুযায়ী সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। একইসঙ্গে আরেক প্রার্থী পাহাড়ি সমাজের পোশাক বিকৃতভাবে উপস্থাপন করে একটি সম্প্রদায়কে অসম্মান করেছেন।’

অভিযোগে উল্লেখিত ধারাগুলোর মধ্যে ৪(ঙ) ধারায় বলা আছে— ‘যেখানে ক্লাস বা পরীক্ষা হয়, সেখানে সভা বা প্রচারণা করা যাবে না।’ আর ৫(গ) ও ১০(ক) ধারায় নিষিদ্ধ করা হয়েছে ধর্মীয়, বর্ণ বা সম্প্রদায়ভিত্তিক উসকানি, ব্যক্তিগত আক্রমণ ও মানহানিকর মন্তব্য।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে জিএস প্রার্থী সাঈদ বিন হাবিব বলেন, ‘আমাকে কয়েকজন শিক্ষার্থী পরিচয় করাতে একটি ক্লাসে নিয়ে গিয়েছিল। আমি কোনো লিফলেট বিতরণ করিনি বা প্রচারণা চালাইনি। আর কোন ক্লাসে গিয়েছিলাম, সেটাও মনে নেই।’

অন্যদিকে সহ–সাহিত্য, সংস্কৃতি ও প্রকাশনা সম্পাদক প্রার্থী জিহাদ হোসাইন বলেন, ‘আমি ভিডিওর মাধ্যমে সম্প্রীতির বার্তা দিতে চেয়েছিলাম। কিন্তু অজ্ঞতার কারণে বিষয়টি ভুলভাবে উপস্থাপিত হয়েছে। আমি ইতোমধ্যে ফেসবুকে এ বিষয়ে প্রকাশ্যে ক্ষমা চেয়েছি।’

চাকসু নির্বাচন কমিশনের প্রধান অধ্যাপক মনির উদ্দিন বলেন, ‘বামধারার প্যানেলের পক্ষ থেকে অভিযোগ পেয়েছি। আচরণবিধি কমিটির পরিচালক অধ্যাপক আমির মুহাম্মদ নসরুল্লাহ বিষয়টি খতিয়ে দেখছেন। অভিযোগকারীরা যাতে ন্যায্য প্রতিকার পান, কমিশন সে বিষয়ে সচেষ্ট থাকবে।’

আরও পড়ুন

×