পদত্যাগের দাবি
বাসভবনে অবরুদ্ধ জাবি উপাচার্য
উপাচার্যের বাসভবনের সামনে শত শত শিক্ষার্থী- সমকাল
জাবি প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৪ নভেম্বর ২০১৯ | ০৯:৫৬ | আপডেট: ০৪ নভেম্বর ২০১৯ | ১৫:১০
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ফারজানা ইসলামকে বাসভবন অবরুদ্ধ করে রেখেছে আন্দোলনকারী শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। দুনীতির দায় নিয়ে পদত্যাগের দাবিতে সোমবার সন্ধা ৭টা থেকে উপাচার্যকে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়।
এদিকে বাসভবনের সামনে উপাচার্যপন্থী শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও অবস্থান নিয়েছেন। দুপক্ষের মুখোমুখি অবস্থানের কারণে পুলিশও মোতায়ন করা হয়েছে।
আন্দোলনের মুখপাত্র অধ্যাপক রায়হান রাইন বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরাতন রেজিস্ট্রার ভবনের সামনে থেকে শতাধিক শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণে একটি মিছিল করেন তারা। মিছিলটি উপাচার্যের বাসভবনের সামনে গিয়ে তার বাসভবন অবরোধ করেন। তিনি বলেন, দুর্নীতির দায়ে অভিযুক্ত উপাচার্যের পদত্যাগ বা অপসারণ না হওয়া পর্যন্ত তারা এখানে অবস্থান করে তাকে অবরুদ্ধ করে রাখবেন।
আন্দোলনে যোগ দেওয়া সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের (মার্কসবাদী) জাবি শাখার সভাপতি মাহাথির মুহাম্মদ বলেন, উপাচার্যকে অনেক সময় দেওয়া হয়েছে। কিন্তু তিনি কর্ণপাত করেননি। উল্টো আন্দোলন দমাতে তিনি ৪০-৫০ জনের নামে মিথ্যা মামলা দিয়েছেন। এর আগেও তিনি ৫৪ শিক্ষার্থীর নামে মামলা দিয়েছিলেন। এই মামলাবাজ উপাচার্যকে হঠাতেই তারা এখানে বসতে বাধ্য হয়েছেন। তিনি যখন এখান থেকে বের হবেন তখন আর এই বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য থাকবেন না।

উপাচার্যে বাসভবনের সামনে অবস্থান করে বিভিন্ন প্রতিবাদী কবিতা আবৃত্তি ও দেশাত্মবোধক গান পরিবেশন করছেন আন্দোলনকারীরা। এদিকে আন্দোলনকারীদের ধর্মঘট-অবরোধ কর্মসূচিতে সোমবারও অচল ছিল বিশ্ববিদ্যালয়ে। জাবিতে টানা ১০ম দিনের মতো প্রশাসনিক ভবন অবরোধ ও ৯ম দিনের মতো সর্বাত্মক ধর্মঘট কর্মসূচি পালন করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের সব ধরণের প্রশাসনিক কার্যক্রম কার্যত বন্ধ থাকলেও ধর্মঘট উপেক্ষা করে বিভিন্ন বিভাগের উপাচার্য সমর্থক শিক্ষকেরা ক্লাস-পরীক্ষা নিয়েছেন। এছাড়া বন্ধ ছিল পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক কার্যালয়।
এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের চলমান সংকট সমাধানে সোমবার শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনির সঙ্গে আলোচনার পর সংবাদ সম্মেলন করেন আন্দোলনকারীরা। এ সময় অধ্যাপক রায়হান রাইন বলেন, তারা শিক্ষামন্ত্রীর কাছে উপাচার্যের দুর্নীতি, অনিয়ম, অযোগ্যতা, একগুয়েমি ও অগণতান্ত্রিকভাবে বিশ্ববিদ্যালয় চালানোর বিষয় ও প্রমাণাদি তুলে ধরেছেন। তিনি এসব বিষয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে উপস্থাপন করবেন বলে আশ্বস্ত করেছেন। শিক্ষামন্ত্রী আন্দোলন প্রত্যাহারের আহ্বান জানালেও আন্দোলনকারীরা বলেছেন, উপাচার্যকে অপসারণে দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি ছাড়া তা করবেন না।
প্রতিবাদী গ্রাফিতি: দেয়ালে গ্রাফিতি এঁকে 'দুর্নীতি' ও উপাচার্যের 'স্বেচ্ছাচারিতার' প্রতিবাদ জানিয়েছেন আন্দোলনকারীরা। সোমবার বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন কলা ভবনের মুরাদ চত্বর সংলগ্ন দেয়ালে এই গ্রাফিতি আঁকেন আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা।

আন্দোলনকারীরা বলছেন, এই গ্রাফিতিতে উপাচার্যের 'স্বৈরাচারী কর্মকাণ্ড, দুর্নীতি ও অনিয়মের' চিত্র ফুটে উঠেছে।