নাগরিক কোয়ালিশনের সংলাপ
নির্বাচনে নিরাপত্তা ঝুঁকি রয়েছে
ছবি: সংগৃহীত
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২২ ডিসেম্বর ২০২৫ | ১২:১৮ | আপডেট: ২২ ডিসেম্বর ২০২৫ | ১২:১৮
আসন্ন নির্বাচনে নিরাপত্তা ঝুঁকি রয়েছে বলে আশঙ্কা করেছেন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি এবং প্রার্থীরা। তারা বলেছেন, ১৭ মাসে সরকার নিরাপত্তার প্রশ্নে প্রতারণা ছাড়া কিছুই করেনি। নির্বাচনের সময়ে প্রার্থী ও তাদের দেহরক্ষীদের অস্ত্র দেওয়ার নীতিমালায় সহিংসতা বৃদ্ধির আশঙ্কা রয়েছে।
গতকাল রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে নাগরিক কোয়ালিশন আয়োজিত ‘নির্বাচন ও নাগরিক নিরাপত্তা’ শীর্ষক সংলাপে এসব আশঙ্কার কথা উঠে আসে। সংলাপ আয়োজনে সহযোগিতায় ছিল ‘ভয়েস ফর রিফর্ম’ এবং ‘ব্রেইন’।
প্রখ্যাত আলোকচিত্রী এবং মানবাধিকারকর্মী শহিদুল আলমের সভাপতিত্বে সংলাপে অংশ নেন জাতিসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিলের স্বাধীন বিশেষজ্ঞ আইরিন খান, গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি, জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহছানুল মাহবুব যোবায়ের, গণঅধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খান, বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য মাহমুদা হাবিবা, এবি পার্টির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আবদুল হক সানি, এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক আশরাফ উদ্দিন মাহাদি, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক মুখপাত্র উমামা ফাতেমা প্রমুখ। সংলাপ সঞ্চালনা করেন নাগরিক কোয়ালিশনের সহসমন্বয়ক ফাহিম মাশরুর।
শহিদুল আলম বলেছেন, নির্বাচনের আগে জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ। শুধু প্রার্থী এবং ভোটারদের জন্য নয়, সাধারণ নাগরিকদের জন্যও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। সরকারের এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের বক্তব্যের অসংগতি তুলে ধরে শহিদুল আলম বলেন, এই অস্পষ্টতা জনসাধারণের অবিশ্বাসকে আরও বাড়িয়ে তুলছে। সরকার যদি সাংবাদিক, গণমাধ্যম বা শরিফ ওসমান হাদির মতো তরুণ রাজনৈতিক নেতাদের সুরক্ষা দিতে ব্যর্থ হয়, তাহলে সাধারণ নাগরিকরা নিরাপদ বোধ করবে না।
হাদির খুনিরা কীভাবে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছে– এ প্রশ্ন তুলে শহিদুল আলম বলেন, তাঁকে আমরা আর ফেরত পাব না। কিন্তু যাদের অনুপ্রাণিত করেছিলেন, তাদের রক্ষা করতে হবে।
অন্তর্বর্তী সরকারের ভূমিকা জনগণের নিরাপত্তা দেওয়ার জায়গায় নেই অভিযোগ করে জোনায়েদ সাকি বলেন, দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হওয়ার পরও প্রশাসনের জবাবদিহিতা নেই। সরকার আসলে কাদের কথায় চলে– এ প্রশ্ন তোলেন তিনি। সাকি বলেন, রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিসহ নির্বাচনের পরিবেশ মনিটরিং কমিটি করতে সরকারকে বারবার বলা হলেও তারা জবাব দেননি।
ইসলামী আন্দোলনের শাহ ইফতেখার তারিক বলেন, সরকারের ক্ষমতা ব্যবহারে অনীহা রয়েছে।
নির্বাচনের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র চলছে অভিযোগ করে রাশেদ খান বলেন, উপযুক্ত নির্বাচনী পরিবেশ তৈরিতে ব্যর্থ হলে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা এবং বর্তমান নির্বাচন কমিশনে পরিবর্তন আনা উচিত।
দেশে এত বাহিনী ও সংস্থা থাকতে হাদির খুনিরা কীভাবে পালাল– এই প্রশ্ন তোলেন এহছানুল মাহবুব। খুনিদের পালাতে সংস্থাগুলোতে থাকা ফ্যাসিবাদের দোসররা জড়িত কিনা, তা খতিয়ে দেখার দাবি করেন তিনি।
সিসি ক্যামেরা এবং ভোটকেন্দ্রের দায়িত্বে থাকা পুলিশের জন্য ‘বডিক্যাম’ কেনার টাকা নেই– অর্থ উপদেষ্টার এই বক্তব্যের সমালোচনা করেন বক্তারা। আশরাফ মাহাদি বলেন, নির্বাচন কমিশন যে দায়িত্বহীন বক্তব্য দিচ্ছে, তাতে ভোটাররা নিরাপদ বোধ করবেন– এমন পরিবেশ নেই। পেশিশক্তির জন্য নির্বাচন কঠিন হয়ে গেছে।
আইরিন খান বলেন, নির্বাচনে গণআস্থা তৈরির প্রথম দায়িত্ব সরকারের। হাদিকে হত্যা এবং গণমাধ্যমে হামলার তদন্ত করতে হবে। তদন্ত ছাড়া আস্থার পরিবেশ তৈরি হবে না। তিনি বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর যৌথ ঘোষণা দেওয়া উচিত, তারা সহিংসতাকে প্রশ্রয় দেবে না।
প্রার্থীদের নিরাপত্তায় অস্ত্রের লাইসেন্স দেওয়ার সিদ্ধান্তকে নিরাপত্তা ঝুঁকি বলেছেন আইরিন খান। তিনি বলেছেন, সবার হাতে বন্দুক ঝুঁকিপূর্ণ।
উমামা বলেন, ফেসবুকে কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই। যার যা ইচ্ছা করতে পারে। আবদুল হক সানী জানান, নির্বাচনী জনসংযোগ শুরুর পর তিনি ভারতীয় ফোন নম্বর থেকে হুমকি পাচ্ছেন। ব্রেইনের নির্বাহী পরিচালক ড. শফিকুর রহমান বলেন, গত এক সপ্তাহে কালো মেঘ চলে এসেছে নির্বাচনী পরিবেশে। সুষ্ঠু নির্বাচন না হলে অভ্যুত্থান ব্যর্থ হবে।
