ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে গুরুতর কারসাজির অভিযোগ

গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে গুরুতর কারসাজির অভিযোগ
×

ফাইল ছবি

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ০৫ নভেম্বর ২০১৯ | ১০:২১

'এক সময় অধিগ্রহণের পরিকল্পনা ছিল'- এমন উছিলায় বাউনিয়া মৌজার প্রায় তিনশ' জমির মালিকের ঘরবাড়ি বানানোর অনুমতি দিচ্ছে না জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ। আবার ওই জমি অধিগ্রহণও করছে না। ফলে ওই জমির মালিকরা পড়েছেন মহাবিপাকে। ভুক্তভোগীরা সর্বস্ব বিনিয়োগ করে ওই জমি কিনেছিলেন। এখন তারা কী করবেন বুঝতেও পারছেন না। 

অথচ ঢাকার জেলা প্রশাসকের কার্যালয় বিভিন্ন সময় ওই জমিতে ঘরবাড়ি তৈরির অনুমতি দেওয়ার জন্য জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষকে চিঠি দিয়েছে। উচ্চ আদালতও ভুক্তভোগীদের জমিতে বাড়ি তৈরি করার অনুমতি দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। অথচ আদালতের নির্দেশনাও মানছে না গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ। উপরন্তু ওই জায়গাটা মাঝেমাঝেই দখল করতে আসে তারা। বিভিন্ন সময় প্লটগ্রহীতাদের হুমকি-ধমকিও দেয়। ভীতিরও সঞ্চার করে সাধারণ মানুষের মাঝে। এ অবস্থায় চোখেমুখে অন্ধকার দেখছেন সাগুফতা হাউজিংয়ের ওইসব প্লট মালিক। বিপাকে পড়েছে প্লট বরাদ্দদাতা আবাসন প্রতিষ্ঠান সাগুফতা হাউজিং কোম্পানিও।

মঙ্গলবার মিরপুরের ডিওএইচএস এলাকায় সাগুফতা হাউজিং কোম্পানির কার্যালয়ে ভুক্তভোগীরা সংবাদ সম্মেলন করে এসব অভিযোগ উত্থাপন করেন। 

সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন সাগুফতা হাউজিং কোম্পানির উপব্যবস্থাপনা পরিচালক আবু শোয়েব খান, পরিচালক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) এসএমএ জাফর, সাগুফতা প্লট ওনার্স সোসাইটির সভাপতি জান্নাতুল বাকের খান, সোসাইটির সাবেক সাধারণ সম্পাদক সুমন্ত আসলাম।

অভিযোগকারীরা জানান, ১৯৭২-৭৩ সালে বাউনিয়া মৌজার ১৪৮ একর জায়গা অধিগ্রহণ করে জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ। পরবর্তীকালে ওই জায়গার পাশেই গড়ে ওঠে বেসরকারি আবাসন প্রকল্প সাগুফতা হাউজিং। তারা বিভিন্নজনের কাছ থেকে যে জমি কিনে প্লট বরাদ্দ দিয়েছেন তার মধ্যে ১২ একর জমিতে গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ বাড়ি তৈরির ছাড়পত্র দেওয়া বন্ধ রাখে। গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ জানায়, তাদের আরও ১৯ দশমিক ৬৬ একর জমি অধিগ্রহণের পরিকল্পনা রয়েছে। তার মধ্যেই পড়েছে ওই ১২ একর।

এই জমিতে গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ জাল-জালিয়াতিরও আশ্রয় নেয়। ১৯৭০ সালে অধিগ্রহণ করার একটি ভুয়া গেজেট তৈরি করে ওই জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে বলে জাহির করে। এসব বিষয় নিয়ে সাগুফতা হাউজিং কর্তৃপক্ষ ঢাকা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের শরণাপন্ন হয়। জেলা প্রশাসকের কার্যালয় সকল নথিপত্র পর্যালোচনা করে দুই দফায় গ্রহীতাদের প্লটের ছাড়পত্র প্রদানের অনুরোধ করে। কিন্তু গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ তা আমলে নেয়নি। এক পর্যায়ে তারা আদালতের শরণাপন্ন হন। একটি রিট মামলা দায়ের করলে আদালত ৩০ দিনের মধ্যে ওইসব প্লট মালিককে ভূমি ব্যবহার ছাড়পত্র দেওয়ার নির্দেশ দেন। ২০১৬ সালের ২৯ নভেম্বর আদালতের দেওয়া ওই নির্দেশনার তিন বছর পরও এখন পর্যন্ত ভূমি ব্যবহার ছাড়পত্র দিচ্ছে না জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ।

সাগুফতা প্লট ওনার্স সোসাইটির সভাপতি জান্নাতুল বাকের খান বলেন, 'একটা জায়গা অধিগ্রহণ করার আগে বিভিন্ন প্রক্রিয়া থাকে। এখানে কোনো কিছুই করা হয়নি। জায়গার ম্যাপে একটা লাল দাগ দিয়ে তারা কখনও এটার নিজেদের দাবি করে, কখনও বলে অধিগ্রহণের কথা। এ ব্যাপারে পরিস্কার কাগজপত্র থাকার পরেও গায়ের জোরে তারা জমি দখল করতে আসে। প্রশাসনকেও হুমকি দেয়। অথচ এ জায়গা তাদের হলে আমরা জমির দলিল করলাম কীভাবে? নামজারি হলো কীভাবে? কীভাবে খাজনা দিয়ে আসছি।'

বক্তারা আরও বলেন, অথচ ওই জমির মধ্যেই পুলিশ ও আরেকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে ছাড়পত্র দিয়েছে গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ। সাধারণ প্লট ক্রেতাদের দেওয়া হচ্ছে না। একই জায়গায় দুই নিয়মের মতো, যা কখনও হতে পারে না। এ অবস্থায় বিষয়টির সুরাহার জন্য ভুক্তভোগীরা প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

আরও পড়ুন

×