ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

অধ্যাদেশ জারি

বাঘ-হাতি শিকারে ১২ বছর জেল

জাতীয় উদ্যানে বনভোজন করলে জেল, সংরক্ষিত বনে ভিডিও করলে সাজা

বাঘ-হাতি শিকারে ১২ বছর জেল
×

 সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১০ জানুয়ারি ২০২৬ | ০৮:৪৮

| প্রিন্ট সংস্করণ

ক্রমবর্ধমান জলবায়ু পরিবর্তন এবং বাস্তুতন্ত্রের ভারসাম্য রক্ষায় এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের লেজিসলেটিভ ও সংসদবিষয়ক বিভাগ ‘বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) অধ্যাদেশ’ জারি করে। পরে তা বিজি প্রেসের ওয়েবসাইটে গেজেট আকারে প্রকাশ করা হয়েছে।

গতকাল শুক্রবার আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা ড. রেজাউল করিম এ তথ্য জানান।

দেশের জীববৈচিত্র্য, বন ও বন্যপ্রাণী সুরক্ষায় এমন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বন্যপ্রাণী শিকার, নিষ্ঠুর আচরণ এবং বনজসম্পদ ধ্বংসের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ কঠোর শাস্তি এবং বাঘ ও হাতির মতো ঐতিহ্যবাহী প্রাণী শিকারের দায়ে সর্বোচ্চ ১২ বছরের কারাদণ্ড এবং ১৫ লাখ টাকা অর্থদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। এই অধ্যাদেশ বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) অধ্যাদেশ, ২০২৬ নামে অভিহিত হবে। এটি অবিলম্বে কার্যকর হবে। এই অধ্যাদেশ জারির ফলে ২০১২ সালের ‘বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন’ রহিত করা হয়েছে।

বাঘ ও হাতি শিকারে কঠোর শাস্তি
নতুন অধ্যাদেশে বাঘ বা হাতি শিকারের অপরাধে দণ্ড বহুগুণ বাড়ানো হয়েছে। ধারা ৪১ ও ৪৪ অনুযায়ী, তপশিল-১(ক)ভুক্ত বাঘ বা হাতি শিকারের জন্য সর্বনিম্ন দুই বছর এবং সর্বোচ্চ সাত বছর কারাদণ্ড এবং সর্বনিম্ন এক লাখ থেকে সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে। একই ব্যক্তি দ্বিতীয়বার এই অপরাধ করলে তার সাজা বেড়ে ১২ বছর কারাদণ্ড এবং ১৫ লাখ টাকা অর্থদণ্ডে উন্নীত হবে। এ ছাড়া বাঘ বা হাতির ট্রফি, মাংস বা দেহাংশ অনুমতি ছাড়া দখলে রাখলেও পাঁচ বছর পর্যন্ত সাজার বিধান রাখা হয়েছে।

নতুন অধ্যাদেশে অভয়ারণ্য ও জাতীয় উদ্যানের সীমানা নির্ধারণের ক্ষেত্রে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর মতামত নেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। রক্ষিত এলাকার ২ কিলোমিটারের মধ্যে কোনো বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান বা ইটভাটা স্থাপন করা যাবে না। অভয়ারণ্যের ভেতরে চাষাবাদ, খনিজসম্পদ আহরণ, আগুন লাগানো এবং আগ্রাসী প্রজাতির বিদেশি উদ্ভিদ প্রবেশ করানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তবে বননির্ভর জনগোষ্ঠীর প্রথাগত অধিকার ও জীবিকার প্রয়োজনে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার বিশেষ বিধান রাখা হয়েছে অধ্যাদেশে।

নতুন আইনে বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ প্রাচীন বৃক্ষ, ঐতিহ্যবাহী স্মারক বৃক্ষ, পবিত্র বৃক্ষ এবং প্রথাগত ‘কুঞ্জবন’ সংরক্ষণের ধারা যুক্ত করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি জীবন রক্ষার প্রয়োজন ছাড়া এসব বৃক্ষ বা বন ধ্বংস করতে পারবেন না। এই বিধান অমান্য করলে সর্বোচ্চ ছয় মাসের কারাদণ্ড বা ৫০ হাজার টাকা জরিমানার বিধান রয়েছে। 
আইনের ১৯ ধারায় অভয়ারণ্য ও জাতীয় উদ্যানে প্রবেশের বিষয়ে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। ১৯ এর (ড) ধারায় অভয়ারণ্য ও জাতীয় উদ্যানে বনভোজন নিষিদ্ধের বিধান রাখা হয়েছে। এই ১৯ ধারার ১৪টি বিধিনিষেধের যে কোনোটি লঙ্ঘন করলে সর্বোচ্চ তিন বছরের কারাদণ্ড অথবা সর্বোচ্চ তিন লাখ টাকা অর্থদণ্ড অথবা উভয় শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে। একই অপরাধের পুনরাবৃত্তি ঘটলে সর্বোচ্চ পাঁচ বছর কারাদণ্ড অথবা সর্বোচ্চ চার লাখ টাকা অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত করার বিধান রাখা হয়েছে নতুন আইনে।

নতুন আইনে বন কর্মকর্তাদের ম্যাজিস্ট্রেটের আদেশ ছাড়াই অপরাধীকে গ্রেপ্তার করার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া জব্দকৃত দ্রুত পচনশীল দ্রব্য তাৎক্ষণিক ধ্বংস বা অপসারণের সুযোগ রাখা হয়েছে। সংক্ষুব্ধ ব্যক্তি দণ্ডাদেশের বিরুদ্ধে ৩০ দিনের মধ্যে আপিল করার সুযোগ পাবেন।
 

আরও পড়ুন

×