ভোলায় ইসলামী আন্দোলনের নারী কর্মীদের ওপর জামায়াত কর্মীদের হামলায় আহত ৩
প্রশাসনের অনুষ্ঠানে সংঘর্ষে জামায়াত নেতা নিহত
ভাঙ্গায় বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষে আহত ১৫
ঝিনাইগাতী উপজেলার মিনি স্টেডিয়ামে গতকাল বুধবার দুপুরে শেরপুর-৩ আসনের প্রার্থীদের নিয়ে নির্বাচনী ইশতেহার পাঠ অনুষ্ঠানে সামনের সারিতে বসাকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াতের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়- সমকাল
সমকাল ডেস্ক
প্রকাশ: ২৯ জানুয়ারি ২০২৬ | ০৮:৩৫ | আপডেট: ২৯ জানুয়ারি ২০২৬ | ০৯:৪৭
| প্রিন্ট সংস্করণ
শেরপুরের ঝিনাইগাতীতে বিএনপি ও জামায়াত নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষে প্রশাসনের আয়োজনে সংসদ নির্বাচনের প্রার্থীদের ইশতেহার পাঠ অনুষ্ঠান পণ্ড হয়ে গেছে। গতকাল বুধবার দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ঝিনাইগাতী মিনি স্টেডিয়াম ও বাজারে এ সংঘর্ষ হয়। এতে শ্রীবরদী জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা রেজাউল করিম মারা গেছেন। আহত হয়েছেন উভয় পক্ষের অর্ধশতাধিক নেতাকর্মী। রাত সাড়ে ৭টার দিকে পুলিশ ও সেনাবাহিনী দেড় ঘণ্টার চেষ্টায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
গুরুতর আহতদের মধ্যে জেলা শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক আশরাফুল আলম, ঝিনাইগাতী ওয়ার্ড যুবদল সভাপতি আমজাদ হোসেন, উপজেলা কৃষক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক রাজা মিয়া রয়েছেন। গুরুতর আহত জামায়াত নেতা রেজাউল করিমকে রাত সাড়ে ৯টার দিকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে তিনি মারা যান।
উপজেলা প্রশাসন ও স্থানীয় সূত্র জানায়, নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে শেরপুর-৩ আসনের প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের নিয়ে গতকাল বুধবার বিকেলে ঝিনাইগাতী মিনি স্টেডিয়ামে ইশতেহার পাঠ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠান শুরুর আগে চেয়ারে বসা নিয়ে বিএনপি-জামায়াত কর্মীদের তর্কবিতর্কের জেরে শুরু হয় সংঘর্ষ। বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত স্টেডিয়াম মাঠ দখল করে রাখে জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীরা। প্রতিপক্ষের ধাওয়া খেয়ে উপজেলা পরিষদ ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বিএনপি নেতাকর্মীরা অবস্থান নেন। এক পর্যায়ে সংঘর্ষ স্টেডিয়াম এলাকা ছাড়িয়ে ছড়িয়ে পড়ে ঝিনাইগাতী বাজারে।
উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব লুৎফর রহমানের দাবি, জামায়াত-শিবিরের লোকজন পরিকল্পিতভাবে রড-লাঠিসোটা নিয়ে অনুষ্ঠানস্থলে এসেছিল। জামায়াত ভয়ভীতি দেখিয়ে নির্বাচনে জিততে চায়। এভাবে বিএনপিকে মাঠ থেকে সরানো যাবে না।
অভিযোগ নাকচ করে শেরপুর-৩ আসনে জামায়াত প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদল বলেন, অনুষ্ঠান শুরু হওয়ার আগেই বিএনপির সন্ত্রাসীরা আমাদের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা করেছে। এতে আমাদের অর্ধশতাধিক নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। কিন্তু তারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিতে যেতে পারছেন না। সেখানে বিএনপির সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা আছে। আমরা এখনও অনুষ্ঠানস্থলে রয়েছি। বিএনপির ভয়ে আমরা ভীত নই। জোর করে কেউ মাঠ দখল করতে চাইলে আমরা বসে থাকব না।
শেরপুর-১ আসনে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী রাশেদুল ইসলাম রাশেদ বলেন, ইশতেহার পাঠ অনুষ্ঠানে বিএনপি সমর্থকরা দেশি অস্ত্র দিয়ে জামায়াত সমর্থকদের ওপর হামলা করে। এ ঘটনায় অর্ধশতাধিক জামায়াত সমর্থক আহত হন। তিনজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হলে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে রেজাউল করিম মারা যান। যারা এ ঘটনায় ইন্ধন জুগিয়েছে, প্রাথীসহ সবার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
শেরপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান ভূঞা বলেন, পুলিশ ও সেনাবাহিনী ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছে। এখন সবকিছু স্বাভাবিক রয়েছে। কোনো মামলা হয়নি। অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ ঘটনায় বিক্ষোভ মিছিল করেছেন ঢাকার জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। গতকাল রাত সাড়ে ১১টায় দিকে ক্যাম্পাসের মূল ফটকের সামনে থেকে তাঁতীবাজার ঘুরে বিশ্বজিৎ চত্বরের সামনে এসে প্রতিবাদী বক্তব্যে কর্মসূচি শেষ হয়।
ভাঙ্গায় বিএনপির দুই গ্রুপে সংঘর্ষে আহত ১৫
ভাঙ্গায় বিএনপিতে যোগ দেওয়ার পরদিনই দলটির আরেকটি গ্রুপের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়েছেন ফরিদপুর-৪ (ভাঙ্গা-সদরপুর-চরভদ্রাসন) আসনের সাবেক এমপি মুজিবুর রহমান নিক্সন চৌধুরীর অনুসারীরা। সংঘর্ষে নারীসহ অন্তত ১৫ জন আহত হন। গতকাল সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত ভাঙ্গার চুমুরদী ইউনিয়নের বাবনাতলা গ্রামে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশ ও স্থানীয় বিএনপির নেতারা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, গত মঙ্গলবার বিকেলে ঘারুয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি গঙ্গাধরদী গ্রামের মতিউর রহমানের বাড়িতে উপজেলা বিএনপির আয়োজনে উঠান বৈঠক হয়। সেখানে কৃষক দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও ফরিদপুর-৪ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী শহিদুল ইসলাম বাবুলের হাতে ফুল দিয়ে বিএনপিতে যোগ দেন চুমুরদী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি চান মিয়াসহ তাঁর ৩০০ অনুসারী। তারা সবাই এলাকায় সাবেক এমপি নিক্সন চৌধুরীর অনুসারী বলে পরিচিত। অনুষ্ঠানে চুমুরদী ইউনিয়ন বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতা ইস্রাফিল মোল্লা বক্তব্য দেন। তাঁর বক্তব্য দীর্ঘায়িত হলে প্রতিবাদ করেন চান মিয়ার সমর্থক শহিদুল মোল্লা। এ নিয়ে উভয়ের মধ্যে তর্কবিতর্ক শুরু হয়। পরে বিএনপি প্রার্থী শহিদুল ইসলাম বাবুল উভয়কে নিয়ে বিষয়টি মীমাংসা করে দেন। কিন্তু ওই ঘটনার জেরে গতকাল সকালে চান মিয়া ও ইস্রাফিল মোল্লার অনুসারীরা দেশি অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন।
ভাঙ্গা থানার এসআই আফজাল হোসেন জানান, সংঘর্ষের ঘটনায় এখনও কোনো পক্ষ লিখিত অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
গাইবান্ধায় স্বতন্ত্র প্রার্থীর কর্মীদের ওপর হামলা, চার মোটরসাইকেলে আগুন
গাইবান্ধা-৫ (সাঘাটা) আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী নাহিদুজ্জামান নিশাদের সমর্থকদের মারধর ও চারটি মোটরসাইকেলে আগুন দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে বিএনপি কর্মীদের বিরুদ্ধে।
স্বতন্ত্র প্রার্থী নাহিদুজ্জামান নিশাদ জানান, গতকাল সাঘাটা উপজেলার ৫ নম্বর কচুয়া বাজার এলাকায় তাঁর কর্মী নুরুজ্জামান সরদারের বাড়িতে প্রবেশ করে তিনটি মোটরসাইকেলে আগুন দেওয়া হয়। এর আগে প্রচার শেষে বাড়ি ফেরার পথে কচুয়া বাজারে তাঁর কর্মী আবু শাহীসহ কয়েকজনের ওপরও হামলার ঘটনা ঘটে। তিনি এ ঘটনার জন্য ওই আসনের বিএনপি প্রার্থী ফারুক আলমের নেতাকর্মীদের দায়ী করে আসছেন।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে বিএনপি প্রার্থী ফারুক আলমের ফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।
ভোলায় ইসলামী আন্দোলনের নারী কর্মীদের ওপর জামায়াত কর্মীদের হামলায় আহত ৩
ভোলার চরফ্যাসনে ইসলামী আন্দোলনের নারী কর্মীদের ওপর জামায়াত কর্মীদের হামলায় অন্তত তিনজন আহত হয়েছে। গতকাল সকালে পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডে নির্বাচনী প্রচার চলাকালে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, ভোলা-৪ আসনে ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী কামাল উদ্দিনের মেয়ে মারিয়া কামাল গতকাল কর্মীদের নিয়ে পৌরসভা ৬ নম্বর ওয়ার্ডে বাবার পক্ষে প্রচার চালাচ্ছিলেন। এ সময় স্থানীয় জামায়াতের কর্মী সোহেল ও আলাউদ্দিন তাদের বাধা দেন। এ নিয়ে তর্কের জের ধরে সোহেল ও আলাউদ্দিনের লোকজন মারিয়া কামালের অনুসারীদের মারধর করে। খবর পেয়ে ইসলামী আন্দোলনের কর্মীরা এলে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়।
ঘটনার পর থেকে আলাউদ্দিন ও সোহেলের ফোন বন্ধ রয়েছে। চরফ্যাসন উপজেলা জামায়াতের আমির মীর মো. শরিফ বলেন, যদি আমাদের কর্মী এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকে, তাহলে তার বিরুদ্ধ সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
চট্টগ্রাম-১০ আসনে বিএনপি ও জামায়াত প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া
চট্টগ্রামে জামায়াতে ইসলামী ও বিএনপির দুই দলের কর্মী-সমর্থকের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। গত মঙ্গলবার রাতে নগরীর খুলশী থানার আমবাগান এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। সংঘাতে জড়িতরা চট্টগ্রাম-১০ আসনের বিএনপি প্রার্থী সাঈদ আল নোমান ও জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী শামসুজ্জামান হেলালীর কর্মী-সমর্থক। ঘটনার জন্য পরস্পরকে দায়ী করছেন উভয় প্রার্থী।
ঈশ্বরদীতে ব্যানার টানানো নিয়ে বিএনপি ও বিদ্রোহী প্রার্থীর কর্মীদের মারামারি
পাবনা-৪ (ঈশ্বরদী-আটঘরিয়া) আসনে নির্বাচনী ব্যানার টানানো নিয়ে বিএনপির প্রার্থী হাবিবুর রহমান হাবিব ও দলটির বিদ্রোহী প্রার্থী জাকারিয়া পিন্টুর কর্মীদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও মারামারির ঘটনা ঘটেছে। গতকাল উপজেলার সাঁড়া ইউনিয়নের পুরাতন রেললাইনের মাজদিয়া নূরা ঠাকুরের মোড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পরে বিএনপি প্রার্থী হাবিবুর রহমান হাবিব ঘটনাস্থলে গিয়ে উভয় পক্ষের কর্মীদের সঙ্গে কথা বলে পরিস্থিতি শান্ত করেন।
(সংশ্লিষ্ট ব্যুরো ও প্রতিনিধিদের পাঠানো তথ্য)
- বিষয় :
- সংঘর্ষে নিহত
