নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলের সঙ্গে মিলেছে ইনোভিশনের জরিপ
ফাইল ছবি
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | ২২:০৩
জনমত জরিপের পূর্বাভাসের সঙ্গে সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের ফলের বড় ধরনের মিল খুঁজে পেয়েছে গবেষণা প্রতিষ্ঠান ইনোভিশন কনসালটিং। রোববার ঢাকায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তাদের ‘পিপলস ইলেকশন পালস সার্ভে’-এর তৃতীয় ও চূড়ান্ত পর্বের ফল এবং প্রকৃত নির্বাচনী ফলের একটি তুলনামূলক বিশ্লেষণ তুলে ধরা হয়। প্রতিষ্ঠানটি জানায়, গত জানুয়ারিতে পরিচালিত তাদের জরিপটি চূড়ান্ত নির্বাচনী ফলের নিখুঁত ইঙ্গিত দিতে সক্ষম হয়েছে।
ভোটের শতাংশ ও জোটভিত্তিক অবস্থান
ইনোভিশনের জরিপ অনুযায়ী, সিদ্ধান্ত জানানো ভোটারদের মধ্যে বিএনপি ও তাদের শরিকদের পক্ষে সমর্থন ছিল ৫২.৮ শতাংশ। বিপরীতে জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ও তাদের জোটের পক্ষে সমর্থন ছিল ৩১ শতাংশ। নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলাফলে দেখা যায়, বিএনপি জোট পেয়েছে ৬০.৮৩ শতাংশ ভোট এবং জামায়াত-এনসিপি জোট ৩৫.৭১ শতাংশ ভোট পেয়েছে। জরিপে দুই জোটের মধ্যে যে ব্যবধানের আভাস দেওয়া হয়েছিল, বাস্তব ফলাফলেও এর প্রতিফলন দেখা গেছে।
বিভাগভিত্তিক শক্তিমত্তা
বিভাগভিত্তিক ফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, ইনোভিশনের পূর্বাভাস অনুযায়ী বিএনপি দেশজুড়ে বিস্তৃত সমর্থন পেয়েছে। বিশেষ করে সিলেট (৭০.৩%), ঢাকা (৬৪.২%), বরিশাল (৫৮%) এবং চট্টগ্রাম (৫৮%) বিভাগে বিএনপি জোট বড় ব্যবধানে জয়ী হয়েছে। অন্যদিকে, জামায়াত জোটের সাফল্য নির্দিষ্ট কিছু অঞ্চলে কেন্দ্রীভূত ছিল। তারা খুলনা (৫১.৮%) ও রংপুর (৫১.৩%) বিভাগে বিএনপি জোটের চেয়ে এগিয়ে থেকে নিজেদের শক্ত অবস্থান প্রমাণ করেছে।
আওয়ামী লীগের ভোটের গতিপথ
আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক কোথায় গেল– এ নিয়ে ইনোভিশনের গবেষণায় গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উঠে এসেছে। জরিপ অনুযায়ী, আওয়ামী লীগের প্রায় ৪১.৩ শতাংশ ভোটার সিদ্ধান্তহীন ছিলেন এবং ১১ শতাংশ তাদের পছন্দ প্রকাশ করেননি। তবে নির্বাচনের দিন যারা ভোট দিয়েছেন, তাদের একটি বড় অংশ (৩২.৯%) বিএনপির পক্ষে রায় দিয়েছেন। বিপরীতে জামায়াত জোটের দিকে আওয়ামী লীগের ভোট গেছে তুলনামূলক কম (১৩.২%)।
ভোটের প্রভাবক: অর্থনীতি বনাম আদর্শ
ভোটারের সিদ্ধান্তে কোন বিষয়গুলো প্রভাব ফেলেছে, এর বিশ্লেষণে দেখা যায়– সড়ক উন্নয়ন, হেলথ কার্ড ও ফ্যামিলি কার্ডের মতো অর্থনৈতিক ও সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিগুলো উভয় জোটের ভোটারের কাছে প্রধান গুরুত্ব পেয়েছে। তবে আদর্শিক ইস্যুতে ভোটারের মধ্যে ভিন্নতা ছিল। জামায়াত ও এনসিপি জোটের ভোটারের কাছে ‘ইসলামী শাসন ব্যবস্থা’ (৬৪.৮%), ‘ভারতবিরোধী রাজনীতি’ (২৮.৪%) এবং ‘আওয়ামী লীগের বিচার’ (৪৩.৩%)-এর মতো বিষয়গুলো সিদ্ধান্ত গ্রহণে বড় ভূমিকা রেখেছে।
লিঙ্গভিত্তিক ও যুব ভোটার বিশ্লেষণ
জরিপে দেখা গেছে, নারী ভোটাররা অর্থনৈতিক নিরাপত্তা ও সামাজিক সুরক্ষাসংক্রান্ত প্রতিশ্রুতিতে (যেমন ফ্যামিলি কার্ড) বেশি প্রভাবিত হয়েছেন। বিপরীতে পুরুষ ও তরুণ ভোটারদের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ আদর্শিক রাজনীতি ও প্রশাসনিক সংস্কারকে বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন।
গণভোট ও উচ্চকক্ষের আসন প্রক্ষেপণ
গণভোটের ক্ষেত্রেও ইনোভিশনের জরিপ সফল হয়েছে। জরিপে ৫৯.৫ শতাংশ ভোটার ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার কথা বলেছিলেন, যেখানে চূড়ান্ত ফলে ‘হ্যাঁ’ ভোট পড়েছে প্রায় ৬৮ শতাংশ। এ ছাড়া উচ্চকক্ষের আসন বণ্টন নিয়ে জরিপে বলা হয়েছে, ৫ শতাংশ ন্যূনতম ভোটের শর্ত থাকলে বিএনপি ৬১টি এবং জামায়াত ৩৯টি আসন পেতে পারে।
