ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

আলোচনা সভায় বিশেষজ্ঞরা

স্বাস্থ্য খাতে সংস্কার শুরু করা জরুরি

স্বাস্থ্য খাতে সংস্কার শুরু করা জরুরি
×

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ০৪ মার্চ ২০২৬ | ০৮:২১

| প্রিন্ট সংস্করণ

দেশে স্বাস্থ্য ব্যবস্থার উন্নয়নে স্বাস্থ্য খাত সংস্কার কমিশনের অধিকাংশ সুপারিশের সঙ্গে বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারের মিল রয়েছে বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। এখন প্রয়োজন প্রাধান্য নির্ধারণ করে সুপারিশগুলো ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন শুরু করা। একইসঙ্গে কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন নিশ্চিত করতে দ্রুত একটি শক্তিশালী ও অন্তর্ভুক্তিমূলক স্বাস্থ্য কমিশন গঠনের আহ্বান জানান তারা।

গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে ‘স্বাস্থ্যখাত সংক্রান্ত ইশতেহার বাস্তবায়ন: অংশীদার সংলাপ ও অগ্রাধিকার রূপরেখা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় এসব কথা বলা হয়। অ্যালায়েন্স ফর হেলথ রিফর্মস বাংলাদেশ এবং বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল অনকোলজি বিভাগ আয়োজন করে।

জাতীয় অধ্যাপক ও বাংলাদেশ ডায়াবেটিক সমিতির সভাপতি ডা. এ কে আজাদ বলেন, সংস্কার কমিশনের সব সুপারিশ এক দিনে বাস্তবায়ন সম্ভব নয়। আমাদের ঠিক করতে হবে কোনগুলো এখনই শুরু করা যাবে, আর কোনগুলো পর্যায়ক্রমে করা হবে।

তিনি আরও বলেন, আধুনিক স্বাস্থ্য ব্যবস্থা দ্রুত জেনেরিক বায়োমেডিসিন ও নতুন প্রযুক্তির দিকে এগোচ্ছে। ১৮ কোটির দেশে ভ্যাকসিন (টিকা) উৎপাদন ও সম্প্রসারণে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নেওয়া জরুরি। নির্দিষ্ট বয়সের পর ফ্লু ও নিউমোনিয়ার মতো ভ্যাকসিন বাধ্যতামূলক করার বিষয়টিও বিবেচনায় আনা যেতে পারে।
রেফারেল ব্যবস্থাকে কার্যকর করতে প্রাইমারি হেলথকেয়ারে প্যাকেজভিত্তিক সেবা চালুর ওপর জোর দেন ডা. এ কে আজাদ। তিনি বলেন, প্রাথমিক স্তরে নির্দিষ্ট সেবা প্যাকেজ নিশ্চিত করা গেলে অপ্রয়োজনীয় রেফার এবং উচ্চতর হাসপাতালে চাপ কমবে। ডিজিটাল স্বাস্থ্যসেবা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রত্যন্ত অঞ্চলেও টেলিমেডিসিন, পয়েন্ট-অব-কেয়ার টেস্ট ও ডিজিটাল প্রেসক্রিপশন সম্প্রসারণ করা প্রয়োজন।

ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) নেতা ডা. এম এ শাকিল বলেন, স্বাস্থ্য কমিশনের প্রস্তাবগুলো ইশতেহারে অন্তর্ভুক্ত হওয়া ইতিবাচক পদক্ষেপ। চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের নিরাপত্তা, প্রশিক্ষণ ও আত্মমর্যাদার বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দেওয়ায় তিনি সন্তোষ প্রকাশ করেন।

ডা. শাকিল জানান, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা জোরদারে এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে, যার ৮০ শতাংশ থাকবেন নারী। পরিবার পরিকল্পনা ও স্বাস্থ্যসেবা একীভূত হওয়ায় একই কাঠামোর মধ্যে জনবল ব্যবহারের সুযোগ তৈরি হয়েছে।
রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) উপদেষ্টা ডা. মুশতাক হোসেন বলেন, কাঙ্ক্ষিত সংস্কার বাস্তবায়নে দ্রুত একটি শক্তিশালী ও অন্তর্ভুক্তিমূলক স্বাস্থ্য কমিশন গঠন জরুরি। এতে সরকারি ও বিরোধী দলের প্রতিনিধি, সংসদ সদস্য, বিশেষজ্ঞ, সাবেক ও বর্তমান কর্মকর্তাদের অন্তর্ভুক্ত করা উচিত। তবে এটি নির্বাহী ক্ষমতাসম্পন্ন সংস্থা হবে না; বরং মনিটরিং, পরামর্শ ও দিকনির্দেশনা দেবে।

ডা. মুশতাক হোসেন বলেন, টেকসই সংস্কারের জন্য বাংলাদেশ হেলথ সার্ভিসকে আলাদা কাঠামোয় গড়ে তোলা এবং পরিবর্তন বাস্তবায়নে একটি উপযুক্ত কর্তৃপক্ষ তৈরি করা এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ। যথাযথ কর্তৃপক্ষ না থাকলে ছোট উদ্যোগ টেকসই হবে না।
সদ্য সাবেক স্বাস্থ্য সচিব সাইদুর রহমান বলেন, সংস্কার কমিশনের বহু প্রস্তাব ইশতেহারে অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় বাস্তবায়নের সুযোগ তৈরি হয়েছে। কিন্তু চাহিদাভিত্তিক পরিকল্পনার অভাবে অপ্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ও ওষুধ কেনা হচ্ছে, যা অপচয়ের জন্ম দিচ্ছে। প্রকৃত প্রয়োজন যাচাই করে ক্রয় প্রক্রিয়া পরিচালনা করলে অনেক সমস্যার সমাধান সম্ভব।
সভায় ‘রাজনৈতিক অঙ্গীকার ও সংস্কারের সমন্বয়’ বিষয়ে অধ্যাপক ডা. সৈয়দ আকরাম হোসেন এবং ‘কাঠামো থেকে সেবায়: বাংলাদেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থার কার্যকর বাস্তবতা’ বিষয়ে অধ্যাপক সৈয়দ আবদুল হামিদ মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন।

আরও পড়ুন

×