চামড়া শিল্পের শ্রমিকদের বিনামূল্যে চোখ পরীক্ষা করবে ভিশনস্প্রিং
ছবি- সংগৃহীত
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ০৫ মার্চ ২০২৬ | ১৭:২৬ | আপডেট: ০৫ মার্চ ২০২৬ | ১৭:২৯
বাংলাদেশের চামড়া, চামড়াজাত পণ্য ও জুতা শিল্পে প্রতিযোগিতা ধরে রাখতে দক্ষতা ও মান বজায় রাখার লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা ভিশনস্প্রিং এবং লেদারগুডস অ্যান্ড ফুটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (এলএফএমইএবি) এক চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। চুক্তির আওতায় দেশের ১৮৮টি কারখানার ৫ হাজার শ্রমিক চোখের পরীক্ষা ও সাশ্রয়ী মূল্যের চশমা পাবেন।
চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে এলএফএমইএবি’র পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন পরিচালক ও অস্টান লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইবনুল ওয়ারা, মহাসচিব মেজর মো. রফিকুল ইসলাম (অব.), এজিএম শরীফ নওরিন আক্তার এবং অস্টান লিমিটেডের চিফ অপারেটিং অফিসার আরাফ হাবিব। ভিশনস্প্রিংয়ের পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন কান্ট্রি ডিরেক্টর মিশা মাহজাবীন, রিসোর্স মোবিলাইজেশন লিড আশনা আফরোজ আহমেদ এবং ভিশন অ্যাকসেস প্রোগ্রামের সিনিয়র ম্যানেজার উম্মে সাওদা।
সংশ্লিষ্টরা জানান, এটি কেবল একটি আনুষ্ঠানিক সমঝোতা নয়; শ্রমিকদের কল্যাণ ও নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার একটি সুস্পষ্ট উদ্যোগ। দৃষ্টি সমস্যা দূর হলে শ্রমিকরা আরও দক্ষ ও নিরাপদভাবে কাজ করতে পারবেন, যা শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশের চামড়াশিল্পকে আরও এগিয়ে নিতে সহায়তা করবে।
২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ থেকে থেকে শুরু হওয়া এই উদ্যোগটি চলবে ৩১ ডিসেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত। প্রথম ধাপে অস্টান লিমিটেড তাদের কারখানায় শ্রমিকদের চোখ পরীক্ষা কার্যক্রম শুরু করেছে।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশের চামড়া ও জুতা শিল্পে প্রতিদিন হাজার হাজার দক্ষ শ্রমিক নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করে মানসম্মত পণ্য তৈরি করছেন, যা দেশীয় বাজারের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারেও রফতানি হয়। এসব পণ্যের অনেক কাজই অত্যন্ত সূক্ষ্ম, যেমন রঙ মেলানো, নিখুঁত কাটিং, সেলাই কিংবা মেশিন পরিচালনা। তাই স্বচ্ছ দৃষ্টি এখানে অপরিহার্য। কিন্তু বাস্তবে দেখা যায়, অনেক শ্রমিক চোখের সমস্যায় ভুগলেও তা বুঝতে পারেন না কিংবা চিকিৎসা নেওয়ার সুযোগ পান না। ঝাপসা দৃষ্টিতে কাজ করতে গিয়ে তাদের কর্মদক্ষতা কমে যায়, ভুল বেড়ে যায় এবং অনেক সময় নিরাপত্তা ঝুঁকিও তৈরি হয়। সূক্ষ্ম কাজে সামান্য দৃষ্টিজনিত ত্রুটির ফলেও উৎপাদন ব্যাহত করতে পারে, এমনকি দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে। অনেক শ্রমিক নিয়মিত চোখ পরীক্ষা করাতে পারেন না বা প্রয়োজনীয় চশমা কেনার সামর্থ্যও তাদের থাকে না। ফলে বাধ্য হয়ে তারা দৃষ্টিসমস্যা নিয়েই কাজ চালিয়ে যান। এই প্রেক্ষাপটে ভিশনস্প্রিং এই বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে।
ভালোভাবে দেখতে পারলে শ্রমিকরা আরও আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে কাজ করতে পারেন। এতে কাজের মান উন্নত হয়, ভুল কমে এবং কর্মক্ষেত্র নিরাপদ হয়। শিল্পমালিকদের জন্যও এটি সুফল বয়ে আনে কারণ এতে উৎপাদন বৃদ্ধি পায় এবং পণ্যের মান নিশ্চিত করা সহজ হয়।
- বিষয় :
- উন্নয়ন
- চোখের স্বাস্থ্য
