ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

ইলিয়াস আলীর জন্য সংসদে শোক প্রস্তাব

সাজেদুল ইসলাম সুমনের জন্যও শোক

ইলিয়াস আলীর জন্য সংসদে শোক প্রস্তাব
×

এম ইলিয়াস আলী

 সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১৩ মার্চ ২০২৬ | ০৮:১২

| প্রিন্ট সংস্করণ

আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে গুমের শিকার বিএনপি নেতা এম ইলিয়াস আলীর জন্য জাতীয় সংসদে শোক প্রস্তাব উত্থাপন হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে তাঁর মৃত্যুর বিষয়টি আনুষ্ঠানিকতায় প্রকাশ পেল। ইলিয়াস আলীসহ গুমের শিকার সাজেদুল ইসলাম সুমনের মৃত্যুর বিষয়টিকেও সামনে আনা হয়েছে ওই শোক প্রস্তাবে। 
গতকাল বৃহস্পতিবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে স্পিকারের শোক প্রস্তাবে তাদের নাম উল্লেখ করে বলা হয়, ২০০৭ থেকে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পর্যন্ত দীর্ঘ ১৭ বছরে বাংলাদেশের জনগণের ভোটাধিকার নিশ্চিতকরণসহ গণতন্ত্র, আইনের শাসন, ন্যায় বিচার ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে বহু মানুষ প্রাণ দিয়েছেন। গুম, মানবতাবিরোধী অপরাধ তথা ক্রসফায়ারে এবং যারা রাজনৈতিক হত্যার শিকার হয়েছেন, তাদের মধ্যে সাবেক সংসদ সদস্য ইলিয়াস আলী, সাজেদুল ইসলাম সুমনসহ আরও অনেকেই রয়েছেন। এ মহান জাতীয় সংসদ তাদের সবাইকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছে এবং গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করছে। 

ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ইলিয়াস আলী সর্বশেষ বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন। তিনি সিলেট-২ আসনে দুবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। ২০১২ সালের ১৭ এপ্রিল ঢাকার বনানীতে বাসার কাছ থেকে তুলে নেওয়া হয়েছিল এম ইলিয়াস আলী ও গাড়িচালক আনসার আলীকে। এরপর থেকে তাঁর কোনো হদিস মেলেনি।
৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর গুম হওয়া কয়েকজন ফিরেছেন; যারা দীর্ঘদিন ধরে সরকারের বন্দিশালা ‘আয়নাঘরে’ বন্দি ছিলেন। তবে ইলিয়াস আলী ও আনসার আলীর সন্ধান মেলেনি। 

ইলিয়াস আলীর বিষয়ে গত বছরের ২৫ ডিসেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তৎকালীন প্রধান প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম জানান, বিএনপি নেতা এম ইলিয়াস আলীকে ১৩ বছর আগে গুমের পর হত্যা করা হয়েছে। তদন্তে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তাজুল ইসলাম বলেন, ‘ইলিয়াস আলীকে উঠিয়ে নেওয়া, রাস্তা থেকে তাঁকে গুম করা এবং তাঁকে পরবর্তী সময় হত্যা করা হয়েছে বলে তদন্তে জানা গেছে।’
এবার জাতীয় সংসদে শোক প্রস্তাবের মাধ্যমে ইলিয়াস আলীর মৃত্যুর আইনি ভিত্তি তৈরি হলো। এতে এত দিন গুমের কারণে ইলিয়াস আলীর অস্তিত্ব নিয়ে ধোঁয়াশা পরিষ্কার হলো। 
একইভাবে ২০১৩ সালের ৪ ডিসেম্বর রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা থেকে নিখোঁজ হন ঢাকা মহানগর ৩৮ (বর্তমান ২৫) নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক সাজেদুল ইসলাম সুমন। এর পর আর খোঁজ মেলেনি সাজেদুলের।

গত বছরের ১২ ফেব্রুয়ারি সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস  আয়নাঘর পরিদর্শনে যান। পরে তিনি তাঁর ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে জানান, জিয়াউল আহসানের (সমালোচিত মেজর জেনারেল জিয়াউল আহসান বর্তমানে কারাবন্দি) নির্দেশে সাজেদুলকে ইনজেকশন পুশ করে মেরে শীতলক্ষ্যায় ফেলে দেওয়া হয়।

আরও পড়ুন

×