বিদেশের মানুষ পারলে আমরাও দেশ সুন্দর করতে পারব: প্রধানমন্ত্রী
দিনাজপুরে খাল খনন কর্মসূচি উদ্বোধন
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গতকাল সোমবার দিনাজপুরের কাহারোল উপজেলার সাহাপাড়ায় নিজে মাটি কেটে খাল খনন কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। পরে তিনি খালের পাড়ে একটি গাছ লাগান -সমকাল
দিনাজপুর প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৭ মার্চ ২০২৬ | ০৮:২০ | আপডেট: ১৭ মার্চ ২০২৬ | ০৯:৪২
| প্রিন্ট সংস্করণ
বিভিন্ন দেশের উন্নয়নের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ওখানে কি জিন-ভূত এসে এত সুন্দর দেশ বানিয়ে দিয়ে গেছে! ওই দেশের মানুষই তো দেশ সুন্দর করেছে। ওই দেশের মানুষই তো ওদের দেশকে গড়ে তুলেছে। ওরা পারলে তাহলে আমরা কেন পারব না? আমরাও পারব।
গতকাল সোমবার দিনাজপুরের কাহারোল উপজেলার ‘সাহাপাড়া খাল’ পুনর্খনন কর্মসূচির উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি। এর আগে প্রধানমন্ত্রী কোদাল দিয়ে মাটি কেটে খাল খনন কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। গতকাল সকালে তিনি বিমানযোগে ঢাকা থেকে সৈয়দপুর বিমানবন্দরে পৌঁছেন। সেখান থেকে সড়কপথে দিনাজপুরের কাহারোল উপজেলার অনুষ্ঠানস্থলে গিয়ে এ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন।
পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় ও দিনাজপুর জেলা বিএনপি যৌথভাবে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। উদ্বোধন শেষে প্রধানমন্ত্রী খালের পাড়ে একটি নিমগাছের চারা রোপণ করেন। সাহাপাড়া খাল পুনর্খনন উদ্বোধনের মাধ্যমে দেশব্যাপী ‘নদী-নালা-খাল ও জলাধার খনন ও পুনর্খনন’ কর্মসূচি বাস্তবায়ন শুরু হলো। সরকারের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী আগামী পাঁচ বছরে সারাদেশে ২০ হাজার কিলোমিটার নদী-নালা-খাল ও জলাধার খনন ও পুনর্খননের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
প্রথম পর্যায়ে দেশের ৫৩টি জেলায় এ কর্মসূচি শুরু হচ্ছে। আশা করা হচ্ছে, এ উদ্যোগ বাস্তবায়নের মাধ্যমে জলাবদ্ধতা নিরসন, সেচ ব্যবস্থার উন্নয়ন, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি এবং জলাধার সংরক্ষণে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
সমাবেশে তারেক রহমান বলেন, মানুষের উপকার করা এবং তাদের ভাগ্যের পরিবর্তন ঘটানোই বিএনপির রাজনীতির মূল লক্ষ্য। কৃষক ভালো থাকলে দেশের মানুষ ভালো থাকবে– এই বিশ্বাস থেকেই কৃষি ও গ্রামীণ উন্নয়নে নানা উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, মানুষের উপকার হবে, এমন কাজ করার চেষ্টা করে বিএনপি। প্রায় ১২ কিলোমিটার দীর্ঘ এই খাল খনন হলে এলাকার ৩১ হাজারের মতো কৃষক সরাসরি সেচ সুবিধা পাবেন। প্রায় ১ হাজার ২০০ হেক্টর জমি এই সেচ ব্যবস্থার আওতায় আসবে এবং সাড়ে তিন লাখ মানুষ বিভিন্নভাবে এই খালের পানির সুবিধা পাবেন। খালটি চালু হলে কৃষি উৎপাদন বাড়বে। বর্তমানের তুলনায় প্রায় ৬০ হাজার টন বেশি ফসল উৎপাদন সম্ভব হবে। দেশের প্রায় ২০ কোটি মানুষের বেশির ভাগই গ্রামে বাস করে এবং তাদের প্রধান পেশা কৃষি। তাই কৃষিকে শক্তিশালী ভিত্তির ওপর দাঁড় করানো জরুরি।
নির্বাচনের আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতির কথা স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কৃষকদের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ সুদসহ মওকুফ করার কথা বলা হয়েছিল এবং সরকার গঠনের পর মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠকেই সে সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
খাল খননের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, দেশের অনেক খাল ও নদী ভরাট হয়ে যাওয়ায় বর্ষার সময় পানি ধরে রাখা যায় না।
বন্যার সময় হঠাৎ উজান থেকে আসা পানি মানুষকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অন্যদিকে শুষ্ক মৌসুমে পানির সংকটে কৃষিকাজ ব্যাহত হয়। খাল খননের মাধ্যমে বর্ষার অতিরিক্ত পানি সংরক্ষণ করা সম্ভব হবে এবং তা কৃষিকাজে ব্যবহার করা যাবে। সারাদেশে পর্যায়ক্রমে বড় পরিসরে খাল খনন কর্মসূচি বাস্তবায়নের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। আগামী পাঁচ বছরে প্রায় ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খননের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে, যাতে পানি সংরক্ষণ, সেচ ব্যবস্থা উন্নয়ন এবং কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি সম্ভব হয়।
তারেক রহমান বলেন, সাহাপাড়ার খালের পাড়ে প্রায় সাত হাজার গাছ লাগানো হবে। পাশাপাশি মানুষের চলাচলের সুবিধার জন্য খালের পাশ দিয়ে রাস্তা নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হবে। বর্তমানে অনেক এলাকায় খাল ও নদীতে পানি না থাকায় কৃষকদের গভীর নলকূপের মাধ্যমে ভূগর্ভস্থ পানি তুলতে হয়। এতে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর ক্রমেই নিচে নেমে যাচ্ছে। তাই মাটির ওপরে থাকা পানিকে সংরক্ষণ এবং পরিকল্পিতভাবে ব্যবহার করা জরুরি।
উত্তরাঞ্চলের কৃষিনির্ভর এলাকাগুলোতে কৃষিভিত্তিক শিল্প গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। এ বিষয়ে কৃষি প্রক্রিয়াজাত করা শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আলোচনা চলছে এবং ঈদের পর তাদের নিয়ে বৈঠক করে দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও, পঞ্চগড়সহ এ এলাকায় কৃষিনির্ভর শিল্প স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানান তিনি। এতে স্থানীয় তরুণ-তরুণীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ হবে বলে আশা প্রকাশ করেন। পাঁচ হাজার টাকা আয় করা মানুষের আয় যেন আগামী কয়েক বছরের মধ্যে দ্বিগুণ হয়ে যায়, এমন নীতি ও পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করা হচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী খালেদা জিয়া কৃষকের বন্ধু ছিলেন। বর্তমান সরকারও কৃষকের পাশে থাকতে চায়। জনগণই দেশের মালিক এবং জনগণের সমর্থন ছাড়া কোনো উন্নয়ন কার্যক্রম সফল করা সম্ভব নয়।’
খাল খনন কর্মসূচি উদ্বোধনের মাধ্যমে দেশ গড়ার একটি নতুন উদ্যোগের সূচনা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ কর্মসূচির মাধ্যমে এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব হবে, যেখানে মানুষ অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিকভাবে শক্তিশালী অবস্থানে থাকবে।
দিনাজপুর জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট মোফাজ্জল হোসেন দুলালের সভাপতিত্বে সমাবেশে বিএনপির মহাসচিব এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, সমাজকল্যাণমন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু, পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, জাতীয় সংসদের হুইপ আখতারুজ্জামান মিয়া, সংসদ সদস্য মনজুরুল ইসলাম মঞ্জু, সাদিক রিয়াজ চৌধুরী, সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম প্রমুখ বক্তব্য দেন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক বখতিয়ার আহমেদ কচি।
বিকেলে তারেক রহমান দিনাজপুর সদরে শেখ ফরিদপুর গোরস্তানে তাঁর নানা ইস্কান্দার মজুমদার, নানি বেগম তৈয়বা মজুমদারসহ আত্মীয়স্বজনের কবর জিয়ারত করেন।
দিনাজপুরে কৃষি প্রক্রিয়াজাত শিল্প-কারখানা গড়ে তোলা হবে
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, দিনাজপুর অঞ্চলে কৃষিভিত্তিক সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে কৃষি প্রক্রিয়াজাত শিল্প-কারখানা গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হবে। কৃষিপণ্য সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াজাত করা গেলে স্থানীয় অর্থনীতি শক্তিশালী হবে এবং কর্মসংস্থানের সুযোগও বাড়বে।
গতকাল দিনাজপুর সার্কিট হাউস মাঠে সুধী সমাবেশে ও ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, নির্বাচনের আগে জনগণের কাছে যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, সরকার গঠনের পর থেকেই সেগুলো বাস্তবায়নের কাজ শুরু হয়েছে। তিনি বলেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ, আমরা সরকার গঠন করার পর প্রায় এক মাসের মধ্যে মানুষের কাছে যে ওয়াদা করেছি, তার অনেকটির কাজ শুরু করেছি।
বরিশালে খননকাজ উদ্বোধন করলেন তথ্যমন্ত্রী
গৌরনদী (বরিশাল) প্রতিনিধি জানান, সোমবার গৌরনদী উপজেলার কুতুবপুর এসইএসডিপি মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে কুতুবপুর স্বনির্ভর খাল পুনর্খনন কর্মসূচি উদ্বোধন করেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী এম. জহির উদ্দিন স্বপন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী বলেন, সরকারের বয়স এক মাস হয়নি; ভোটের কালির দাগ এখনও শুকায়নি। ইতোমধ্যে নির্বাচনের পাঁচটি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন শুরু হয়ে গেছে। স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে তিনি বলেন, ১৯৮১ সালে কুতুবপুরে এই খাল খনন করেছিলেন তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। আজ তাঁর পুত্র প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে আমরা সেই খাল পুনর্খনন করছি। বরিশালের জেলা প্রশাসক মো. খায়রুল আলম সুমনের সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এ ছাড়া বক্তব্য দেন গৌরনদী উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা সৈয়দ সরোয়ার আলম বিপ্লব।
নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করছে সরকার: কৃষিমন্ত্রী
খাদ্য, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বলেছেন, নির্বাচনের আগে জনগণের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করছে সরকার। এতে প্রমাণ হয়– বিএনপি শুধু কথার রাজনীতি করে না; কাজের মাধ্যমে মানুষের প্রত্যাশা পূরণ করে। গতকাল কুমিল্লার লালমাই উপজেলার দোশারীচোঁ মৌজাসহ ডাকাতিয়া নদীর শাখা খাল পুনর্খনন উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন সংসদ সদস্য মো. মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়া, বিএডিসির চেয়ারম্যান মো. আজিজুল ইসলাম। সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক মু. রেজা হাসান।
ফরিদপুরের ভাঙ্গায় খাল খনন উদ্বোধন
ভাঙ্গা (ফরিদপুর) প্রতিনিধি জানান, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী, ফরিদপুর-২ আসনের এমপি শামা ওবায়েদ বলেছেন, ‘জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হবে জাতীয় সংসদ। বিএনপি ইতোমধ্যে প্রমাণ করেছে– তারা যা বোঝে সে কাজ করে দেখিয়ে দেয়। সোমবার ভাঙ্গা উপজেলার মানিকদহ ইউনিয়নের লক্ষ্মীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে খাল খনন কর্মসূচির উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এ কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন ফরিদপুর-৪ আসনের এমপি মো. শহিদুল ইসলাম বাবুল। ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামরুল হাসান মোল্লার সভাপতিত্বে সভায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন ফরিদপুর জেলা বিএনপির সভাপতি সৈয়দ মোদারেস আলী ইছা, ভাঙ্গা উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আইয়ুব আলী মোল্লা।
- বিষয় :
- প্রধানমন্ত্রী
- খাল
