সোনালি মুরগির ‘রেকর্ড’ দামে দিশেহারা ক্রেতা
ছবি: সংগৃহীত
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ০৬ এপ্রিল ২০২৬ | ১১:৩১
বাজারে হু-হু করে বাড়ছে সোনালি মুরগির দাম। গত এক মাসের ব্যবধানে এই জাতের মুরগির দাম কেজিতে বেড়েছে সর্বোচ্চ ১৩০ টাকা। এতে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন গরুর মাংস কেনার সাধ্য কম– এমন নিম্ন ও মধ্য শ্রেণির ক্রেতারা।
ব্যবসায়ীদের দাবি, বিভিন্ন এলাকায় বার্ড ফ্লুর প্রকোপ বেড়েছে। এতে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে সোনালি মুরগি। যার প্রভাব পড়েছে বাজারে। তারা জানান, পাইকারি বাজারে মুরগির সরবরাহ কমে গেছে। এ ছাড়া পরিবহন ভাড়াও বেড়েছে। খুচরা ব্যবসায়ীদের বেশি দামে কিনে এনে বেশি দামেই বিক্রি করতে হচ্ছে। দাম বাড়ার কারণে অনেক দোকানে মুরগি বিক্রি আগের চেয়ে প্রায় অর্ধেক কমে গেছে।
গতকাল রাজধানীর আগারগাঁও, কারওয়ান বাজার ও হাতিরপুল কাঁচা বাজারে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সোনালি মুরগির কেজি বিক্রি হচ্ছে ৪০০ থেকে ৪৩০ টাকা দরে। রোজার মাঝামাঝি সময়ে প্রতি কেজির দর ছিল ২৭০ থেকে ৩০০ টাকা। ঈদের সপ্তাহখানেক আগে কিছুটা বেড়ে প্রতি কেজির দর ওঠে ৩৪০ থেকে ৩৭০ টাকা। সেই হিসাবে মাসখানেকের ব্যবধানে দাম বেড়েছে কেজিপ্রতি ১৩০ টাকা।
এ ছাড়া ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ১৮০ থেকে ১৯০ টাকায়, লেয়ার ৩৪০ থেকে ৩৫০ টাকা এবং দেশি মুরগি আকারভেদে ৬৫০ থেকে ৭০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
সোনালি মুরগির দাম এভাবে বেড়ে যাওয়ায় গরুর মাংসের বাজারে প্রভাব পড়েছে। ঈদের আগে গরুর মাংসের কেজি ৭৫০ থেকে ৭৮০ টাকা ছিল। এখন বিক্রি হচ্ছে ৮০০ টাকা দরে।
কারওয়ান বাজারের মুরগি ব্যবসায়ী মো. নবী জানান, এক-দেড় মাস ধরে খামারগুলোতে বার্ড ফ্লুসহ নানা ভাইরাসের সংক্রমণ দেখা দিয়েছে। এতে অনেক খামারে মুরগি মারা যাচ্ছে, যা বাজারে সরবরাহ সংকট তৈরি করেছে। এ ছাড়া ঈদুল ফিতর-পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন অনুষ্ঠান বাড়ার কারণে মুরগির চাহিদা বেড়েছে। পাশাপাশি জ্বালানি তেলের সংকটে পরিবহন ভাড়া বেড়ে যাওয়ায় তার প্রভাব খুচরা বাজারে পড়ছে।
অন্যদিকে প্রান্তিক খামারিরা জানান, পোলট্রি ফিড (খাবার) এবং ওষুধের দাম বৃদ্ধির কারণে অনেক প্রান্তিক খামারি লোকসান সইতে না পেরে খামার বন্ধ করে দিয়েছেন। ফলে উৎপাদন উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে। তাছাড়া বড় বড় কোম্পানিগুলো কৃত্রিম সংকট তৈরি করে দাম বাড়িয়ে দিচ্ছে বলেও অভিযোগ তাদের।
বাংলাদেশ পোলট্রি অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সুমন হাওলাদার বলেন, গত কয়েক মাস ধরে লোকসান গুনতে গুনতে প্রান্তিক খামারিরা নিঃস্ব হয়ে গেছেন। এখন বাজারে যে সংকট তা মূলত উৎপাদন ঘাটতি এবং বড় কোম্পানিগুলোর বাজার নিয়ন্ত্রণের ফসল।
তবে এভাবে দাম বাড়ার কারণে বড় বিপাকে পড়েছেন সাধারণ ক্রেতারা। হাতিরপুল কাঁচা বাজারে ৪৩০ টাকা দরে সোনালি মুরগি কেনার পর বেসরকারি চাকরিজীবী মাহবুবুল আলম বলেন, গরুর মাংস এখন বিলাসবহুল পণ্যে পরিণত হয়েছে। গরুর মাংসের বদলে সোনালি মুরগিই ছিল ভরসা। এখন সেটিও সামর্থ্যের বাইরে চলে যাচ্ছে।
- বিষয় :
- মুরগি
