হাঙর ও শাপলাপাতা মাছের দুই-তৃতীয়াংশ বিলুপ্তির ঝুঁকি
ঢাকায় ‘সাগরের অভিভাবক’ শীর্ষক প্রদর্শনী শুরু
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ০৭ এপ্রিল ২০২৬ | ০৮:৩১
| প্রিন্ট সংস্করণ
হাঙর ও শাপলাপাতা মাছ নিয়ে বাংলাদেশের সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্যে উদ্বেগজনক চিত্র উঠে এসেছে। দেশে পাওয়া একশরও বেশি প্রজাতির এই প্রাণীগুলোর প্রায় প্রতি তিনটির মধ্যে দুটিই এখন বিলুপ্তির ঝুঁকিতে রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অতিরিক্ত আহরণ, অবৈধ বাণিজ্য এবং ধীর প্রজনন হার– এই তিন কারণে দ্রুত হ্রাস পাচ্ছে এসব প্রজাতির সংখ্যা।
বিশ্বপর্যায়ে হাঙর, শাপলাপাতা ও সিমেরাস গোত্র মিলিয়ে এক হাজার ২০০টির বেশি প্রজাতি রয়েছে। এর মধ্যে এক-তৃতীয়াংশের বেশি এখন বিলুপ্তির ঝুঁকিতে বলে আন্তর্জাতিক প্রকৃতি সংরক্ষণ সংস্থা-আইইউসিএনের সর্বশেষ লাল তালিকায় উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে এরা পৃথিবীর সবচেয়ে বেশি বিপন্ন প্রাণীগোষ্ঠীর একটি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
এই প্রেক্ষাপটে জনসচেতনতা বাড়াতে রাজধানীর শিল্পকলা একাডেমিতে গতকাল সোমবার থেকে তিন দিনব্যাপী একটি শিক্ষামূলক প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়েছে। ‘সাগরের অভিভাবক’ শীর্ষক এই আয়োজন করেছে ওয়াইল্ডলাইফ কনজারভেশন সোসাইটি বাংলাদেশ (ডব্লিউসিএস), বন অধিদপ্তর ও মৎস্য অধিদপ্তর। প্রদর্শনীতে দেশের হাঙর ও শাপলাপাতা মাছের বৈচিত্র্য, সামুদ্রিক পরিবেশে তাদের গুরুত্ব, টিকে থাকার ওপর হুমকি এবং সংরক্ষণে সরকারের উদ্যোগ তুলে ধরা হচ্ছে। বাস্তব আকারের নমুনা, প্রামাণ্যচিত্র, আলোকচিত্র ও তথ্যচিত্রের মাধ্যমে বিষয়গুলো সহজভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে।
উদ্বোধন অনুষ্ঠানে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন, হাঙর ও শাপলাপাতা মাছ সংরক্ষণ শুধু জীববৈচিত্র্য রক্ষার বিষয় নয়, এটি দেশের সামুদ্রিক সম্পদ ও ভবিষ্যৎ খাদ্যনিরাপত্তার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। তিনি সবাইকে এই বিপন্ন প্রাণীগুলো রক্ষায় এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে বিশেষজ্ঞরা বলেন, হাঙর ও শাপলাপাতা মাছ ধীরে বড় হয় এবং একবারে অল্পসংখ্যক বাচ্চা দেয়। ফলে তাদের প্রাকৃতিকভাবে সংখ্যা বাড়ার হার কম। কিন্তু আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় বাজারে চাহিদা বাড়ায় নির্বিচারে আহরণ এবং লক্ষ্য করে ধরার প্রবণতা বেড়েছে। এতে এরা দ্রুত বিলুপ্তির ঝুঁকিতে পড়ছে।
অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে প্রধান বন সংরক্ষক আমীর হোসাইন চৌধুরী বলেন, সামুদ্রিক বাস্তুতন্ত্রে এই প্রাণীগুলোর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। খাদ্যশৃঙ্খলের শীর্ষে থাকা এই প্রজাতিগুলো সাগরের জীববৈচিত্র্যের ভারসাম্য বজায় রাখতে সহায়তা করে। এদের সংখ্যা কমে গেলে পুরো সামুদ্রিক পরিবেশে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে, যা শেষ পর্যন্ত মৎস্যসম্পদ ও মানুষের খাদ্যনিরাপত্তাকে হুমকির মুখে ফেলতে পারে।
আয়োজকরা জানান, প্রদর্শনী ৮ এপ্রিল পর্যন্ত প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টা সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে। তারা আশা করছেন, এই উদ্যোগে জনসচেতনতা বাড়বে এবং হাঙর ও শাপলাপাতা মাছ সংরক্ষণে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।
- বিষয় :
- মাছ
