অধ্যাদেশ বাতিলে বিল পাস
আদালত, মানবাধিকার কমিশন ফিরছে আগের ধারায়
বৃহস্পতিবার কয়েকটি অধ্যাদেশ বাতিলে বিল পাস হয়েছে জাতীয় সংসদে। ছবি: ফোকাস বাংলা
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ০৯ এপ্রিল ২০২৬ | ২৩:০১ | আপডেট: ১০ এপ্রিল ২০২৬ | ১৫:১২
বিরোধী দলের আপত্তির পরও অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা সুপ্রিম কোর্টে বিচারক নিয়োগ, সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় এবং মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ বাতিলে বিল পাস হয়েছে জাতীয় সংসদে। এতে বিচার বিভাগ ও মানবাধিকার কমিশন স্বাধীনভাবে কাজ করার ক্ষমতা হারাবে।
অধ্যাদেশ রহিত করায় উচ্চ আদালতে বিচারক নিয়োগের ক্ষমতা ফের প্রধানমন্ত্রীর কাছে ফিরবে। সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় বিলুপ্ত হওয়ায় নিম্ন আদালতের বিচারকদের চাকরি, পদোন্নতি, বদলির নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতা ফিরবে আইন মন্ত্রণালয়ের কাছে।
আওয়ামী লীগের সময়ে প্রণীত মানবাধিকার কমিশন আইন-২০০৯ ফিরবে। ফলে সরকারি কর্মচারী ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ পেলেও তদন্ত করতে পারবে না মানবাধিকার কমিশন। সরকারের কাছে কমিশন প্রতিবেদন চাইতে পারবে। শাস্তির সুপারিশ করতে পারবে। সরকার শাস্তি না দিলে কমিশনের কিছুই করার থাকবে না। অন্তর্বর্তী সরকারের অধ্যাদেশে মানবাধিকার কমিশনকে তদন্ত ও শাস্তি দেওয়ার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছিল।
আজ বৃহস্পতিবার স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে সংসদের বৈঠকে আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান ‘জাতীয় মানবাধিকার কমিশন (রহিতকরণ ও পুনঃপ্রচলন) বিল, ২০২৬’ উত্থাপন করলে তা কণ্ঠভোটে পাস হয়। এর বিরোধিতা করেন এনসিপির হাসনাত আবদুল্লাহ। তাঁর আপত্তি কণ্ঠভোটে নাকচ হয়ে যায়।
মানবাধিকার কমিশন নিয়ে বাহাস
মানবাধিকার কমিশন বিল উত্থাপনের বিরোধিতা করে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, আজ যারা সরকারি দলে, তারা চব্বিশের জুলাইয়ের আগে হলে এই বিল পাসের বিরোধিতা করতেন। রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট বদলে যাওয়াতেই বিএনপির অবস্থান বদলে গেছে। অধ্যাদেশ বাতিলে মানবাধিকার কমিশনকে আবারও রাজনৈতিক দমনপীড়নের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হতে পারে। হাসনাত বলেন, মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ এই বছর, আগামী বছর পাস না হলেও সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে ল্যাপস করা হলেও এই সংসদে মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ একদিন অবশ্যই পাস হবে।
হাসনাত আবদুল্লাহ আপত্তিতে বলেন, ২০০৯ সালের আইনে মানবাধিকার কমিশনকে বিরোধী দল ও মতকে দমন কমিশন হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে। বিএনপিকে দমন করার বৈধতা মানবাধিকার কমিশন উৎপাদন করেছে। মানবাধিকার কমিশনকে বলতে শুনেছি, জামায়াতের নেতাকর্মীদের গুলি করা মানবাধিকার টিকিয়ে রাখার স্বার্থে বৈধ। ২০০৯ সালের আইনে ফিরে যাওয়া মানে সংস্কারের পথে এগোনো নয়, পিছিয়ে যাওয়া।
কমিশন গঠনের প্রক্রিয়া নিয়েও আপত্তি তোলেন এনসিপির হাসনাত। তিনি বলেন, ২০০৯ সালের আইনে মানবাধিকার কমিশনকে সরকারি আরেকটি দপ্তর বানানো হয়েছিল। স্পিকারের নেতৃত্বে যে বাছাই কমিটি করা হয়েছে, সেখানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, আইনমন্ত্রী, সরকারদলীয় এমপি ও একজন সচিব থাকেন। ছয় সদস্যের বোর্ডের পাঁচজনই সরকারদলীয়। আইনটির সীমাবদ্ধতা হচ্ছে, বাহিনীর সদস্যদের বিরুদ্ধে তদন্ত করতে পারবে না কমিশন। সরকার যে মানবাধিকার ক্ষুণ্ন করবে, সেই সরকারের পূর্বানুমতি নিয়ে মানবাধিকারের তদন্ত কতটা স্বচ্ছ হবে? মানবাধিকার কমিশন-সংক্রান্ত এ আইন কেবল একটি একক আইনগত প্রশ্ন নয়; এর সঙ্গে গুম অধ্যাদেশ ও জুলাই গণঅভ্যুত্থান দায়মুক্তির অধ্যাদেশের রাজনৈতিক ও নীতিগত সম্পর্ক রয়েছে। সরকার পুরোনো আইনকে দমনপীড়নের অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করবে না, এর নিশ্চয়তা নেই।
আইন ফেরানোর বিলে বলা হয়েছে, অধ্যাদেশটি নিয়ে অংশীজনের সঙ্গে আরও পরামর্শ ও যাচাই-বাছাই প্রয়োজন হওয়ায় ২০০৯ সালের আইন পুনঃপ্রচলন করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় মানবাধিকার কমিশন-সংক্রান্ত তিনটি অধ্যাদেশ রহিত করার কথা বলা হয়েছে। রহিত হওয়ার আগে অধ্যাদেশগুলোর অধীনে আগে যেসব কাজ করা হয়েছে, সেগুলো বৈধ বলেই গণ্য হবে।
হাসনাত আবদুল্লাহর বক্তব্যের জবাবে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেন, পুরোনো কাঠামোতে ফিরতে নয়, ২০২৫ সালের মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ আরও পরামর্শ ও যাচাই-বাছাইয়ের সুযোগ রাখতেই ২০০৯ সালের আইন আপাতত পুনঃপ্রচলন করা হচ্ছে।
মন্ত্রী দাবি করেন, ২০২৫ সালের অধ্যাদেশে এমন কিছু অস্পষ্টতা আছে, যা ভুক্তভোগীর জন্যও ভোগান্তি তৈরি করতে পারে। এর ব্যাখ্যায় তিনি বলেন, মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ কমিশন স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে বা অভিযোগের ভিত্তিতে নিতে পারবে বলা হলেও অভিযোগ নেওয়ার পর কত দিনের মধ্যে তা অনুসন্ধান বা তদন্তে পাঠাতে হবে, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা নেই।
আইনমন্ত্রী বলেন, প্রাথমিক অনুসন্ধান শেষে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত কত দিনে শেষ হবে, তারও সময়সীমা নেই। তদন্ত শেষে কমিশন জরিমানা, ক্ষতিপূরণ, মামলা করার সুপারিশ বা নিজে বাদী হয়ে মামলা করার মতো পদক্ষেপ নিতে পারবে বলা হলেও এসব ক্ষেত্রে কীভাবে তা কার্যকর হবে, আইনটিতে তার স্পষ্ট কাঠামো নেই। তদন্ত ও শুনানি শেষে কমিশন যদি আবার নিজেই এক পক্ষের হয়ে মামলা করে, তাহলে তার নিরপেক্ষতা নিয়েও প্রশ্ন ওঠে।
২০২৫ সালের গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার অধ্যাদেশ পাস না করার বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, অধ্যাদেশের সঙ্গে গুম-সংক্রান্ত আইনগত কাঠামোর সম্পর্ক স্পষ্ট নয়। গুম আইনে তদন্তের দায়িত্ব মানবাধিকার কমিশনের ওপর থাকলেও আলাদা কমিশন গঠনের কোনো সুস্পষ্ট কাঠামো রাখা হয়নি। এ কারণেই আইনটি আরও পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও পরামর্শের মধ্য দিয়ে নিতে হবে।
বিরোধী দলের আপত্তির জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, ২০০৯ সালের আইনে মানবাধিকার কমিশনের স্বায়ত্তশাসন রক্ষার ধারা আছে। আইনে বলা হয়েছে, কমিশন কারও কাছে দায়বদ্ধ থাকবে না।
বক্তব্যের এক পর্যায়ে আইনমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে মানবাধিকার লঙ্ঘনের সবচেয়ে বড় শিকার জিয়া পরিবার। বর্তমান সরকারের সময়ে গুম বা ক্রসফায়ারের ঘটনা ঘটেনি।
আদালতের স্বাধীনতা সংকোচন নিয়ে বিতর্ক
জামায়াত ও এনসিপির তীব্র আপত্তির মুখে বিচার বিভাগের পূর্ণ স্বাধীনতায় জারি করা সুপ্রিম কোর্ট বিচারক ও সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ বাতিল করে সংসদ। এতে সদ্য প্রতিষ্ঠিত সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় বিলুপ্ত এবং বিচারক নিয়োগের আইন বাতিল হয়ে যাবে। আগে যেভাবে বিচারক নিয়োগ ও নিম্ন আদালত আইন মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে পরিচালিত হতো, সে অবস্থায় ফিরে যাবে।
আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় (রহিতকরণ) বিল উত্থাপন করলে তাতে আপত্তি জানান জামায়াতের সদস্য নাজিবুর রহমান। তিনি বলেন, এই বিল বিচার বিভাগের স্বাধীনতার ওপর নগ্ন হস্তক্ষেপ। স্বাধীনতার চরম লঙ্ঘন। ফ্যাসিবাদী কায়দায় নিম্ন আদালতকে ব্যবহারের চেষ্টা চলছে।
জামায়াতের এই সদস্য বলেন, বিচার বিভাগ এখন স্বাধীনভাবে কাজ করছে। বিচার বিভাগের স্বাধীনতার পক্ষে অবস্থান নেওয়ায় কিছু বিচারককে শোকজ করা হয়েছে। আগে মন্ত্রণালয়ের কথা না শুনলে বিচারকদের খাগড়াছড়ি বদলি করা হতো, সেটি ফিরিয়ে আনার চেষ্টা হচ্ছে।
গত মঙ্গলবার প্রকাশিত হাইকোর্টের রায়ের বরাতে নাজিবুর রহমান বলেন, আদালত বলেছেন সংবিধানের ১১৬ অনুচ্ছেদ পরিবর্তন অসাংবিধানিক। স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাহাত্তরের ১১৬ অনুচ্ছেদ পুনপ্রতিষ্ঠিত হয়েছে। সে অনুযায়ী অধ্যাদেশ জারি ও কার্যকর করা হয়েছিল। সেখানে বর্তমান আইনমন্ত্রীও ছিলেন। আজ কীভাবে তিনি এই অধ্যাদেশ রহিত করার বিল আনেন! রহিতকরণ বিলটি অসাংবিধানিক। এটা কোনোভাবেই পাস করা যাবে না। জুলাই জাতীয় সনদে সুপ্রিম কোর্টের সচিবালয় প্রতিষ্ঠার প্রস্তাবে বিএনপি ‘নোট অব ডিসেন্ট’ দেয়নি। আজ রহিতকরণ বিল এনে জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করা হচ্ছে।
জবাবে আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান বলেন, সুপ্রিম কোর্ট কোনো আইন অসাংবিধানিক কিনা, সেটা বলতে পারেন। কিন্তু সংসদকে কোনো আইন করার জন্য নির্দেশ দিতে পারেন না। মাসদার হোসেন মামলার কথা উল্লেখ করে আইনমন্ত্রী বলেন, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা সরকারও চায়। অতীতে স্বাধীনতার যে অপব্যবহার হয়েছে, তা নয়।
আইনমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট বিশ্বের সেরা আদালতের একটি। সাংবিধানিকভাবে বিচারকদের চাকরি, বদলি, পদায়ন রক্ষিত। সেই সুপ্রিম কোর্ট খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছর থেকে বৃদ্ধি করে ১০ বছর জেল দিয়েছিলেন। বিচারকদের শোকজের বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, আচরণবিধি অনুযায়ী বিচারক থাকা অবস্থায় কোচিং সেন্টারে সংযুক্ত থাকতে পারেন না। কিন্তু কেউ কেউ ক্লাস নেওয়ার বিজ্ঞাপন দিচ্ছেন। কোনো কোনো বিচারক ফেসবুকে সংবিধান বিশেষজ্ঞ হচ্ছেন।
পরে আইনমন্ত্রী সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগ (রহিতকরণ) বিল পাসের প্রস্তাব তুললে বিরোধী দলের সদস্য এনসিপির আখতার হোসেন এতে আপত্তি জানান। তিনি বলেন, ‘মানিক চোরা’, খায়রুল হকের মতো লোক বিচারক হয়েছিলেন। ঘুড়ির নাটাই হাতে থাকলে ঘুড়ি যত ওপরেই যাক টান দিলে হাতেই আসবে। বিচারক নিয়োগের ক্ষেত্রেও এটা ছিল। বর্তমান সংবিধান অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শেই রাষ্ট্রপতিকে বিচারক নিয়োগসহ সব কাজ করতে হয়। যে কারণে মানিক চোরার মতো ব্যক্তিরা হাসিনার হাত ধরে নিয়োগ পেয়েছিল।
আইনমন্ত্রীকে কটাক্ষ করে আখতার হোসেন বলেন, ‘যতদূর চিনি তিনি যদি তাঁর বক্তব্য আর পাঁচ মিনিট দিতেন, আত্মগ্লানিতে ভুগে তওবা করে, বিচারক নিয়োগের আইন বাতিলে যে বিল এনেছেন, তা প্রত্যাহার করতেন।’
আইনমন্ত্রীর আগের বক্তব্য প্রসঙ্গে আখতার বলেন, সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিরা সাংবিধানিক সুরক্ষা পেলেও কীভাবে রাতের আলোতে মোমবাতি জ্বালিয়ে বিচারকার্য পরিচালনা করলেন? কীভাবে খালেদা জিয়াকে তারা অতিরিক্ত সাজা দিলেন? কীভাবে বাংলাদেশের বিচার ব্যবস্থাকে তারা ধ্বংস করলেন?
বিচারপতি নিয়োগের সাংবিধানিক বিধান তুলে ধরে আখতার বলেন, ৯৫ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে রাষ্ট্রপতি প্রধান বিচারতির সঙ্গে পরামর্শ করে বিচারপতি নিয়োগ দেবেন। কিন্তু ৪৮ অনুচ্ছেদের কারণে প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শেই নিয়োগ হয়। তখনই গিয়ে শপথবদ্ধ রাজনীতিবিদের মতো, মানিক চোরার মতো ব্যক্তিরা বিচারপতি নিয়োগ হয়। আখতার বলেন, বিচারপতি নিয়োগ অধ্যাদেশের বৈধতার মামলার বর্তমান ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল শুনানিতে ছিলেন। বর্তমান আইনমন্ত্রী তখনকার অ্যাটর্নি জেনারেল ছিলেন। তাঁর দপ্তর তখন এই অধ্যাদেশের পক্ষে ছিল। আদালত সেদিন পর্যবেক্ষণে বলেছিলেন, অধ্যাদেশে অসাংবিধানিকতা নেই। এর পরও কেন অধ্যাদেশ বাতিল করা হবে– প্রশ্ন তুলে আখতার হোসেন বলেন, বিএনপি এটা সংবিধানে যুক্ত না করে আলাদা আইন করার কথা বলেছিল। এখন কেন তারা মানে না?
জবাবে আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান বলেন, তাত্ত্বিকভাবে তিনি বিরোধী দলের সদস্যের বক্তব্যের সঙ্গে একমত। ফ্যাসিস্ট আমলে পার্টি ক্যাডারদের বিচারপতি পদে বসিয়ে দেওয়া হয়েছে। যে নিয়োগের মাধ্যমে খায়রুল হকের জন্ম হয়েছে। বিএনপি এই নিয়োগ প্রক্রিয়া আরও স্বচ্ছ করতে চায়। তিনি বলেন, অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে অধ্যাদেশটির পক্ষে ছিলেন রাষ্ট্রের আইনজীবী হিসেবে। এখন তিনি এই সরকারের মন্ত্রী। সরকারের নীতি হচ্ছে, বিচার বিভাগে নিয়োগের ক্ষেত্রে সম্পূর্ণরূপে স্বচ্ছতা জবাবদিহি, যোগ্যতার মানদণ্ড নিরূপণে নতুন করে পদক্ষেপ গ্রহণ।
জুলাই সনদ নিয়ে বিএনপির অবস্থান সম্পর্কে আইনমন্ত্রী বলেন, বিচারক নিয়োগ-সংক্রান্ত বিষয়ে আইন প্রণয়নের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশে আর কোনো মানিকের জন্ম হোক, আর কোনো খায়রুল হক গজিয়ে উঠুক, তা চাই না। বিচার বিভাগ স্বাধীন স্বকীয়তায় ভরপুর হোক। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের রক্তের ঋণ পরিশোধে সঠিক পথে যেতে হলে সাংবিধানিক কমিটি গঠন করে আসুন চুলচেরা বিশ্লেষণ করি।
পরে কণ্ঠভোটে আখতার হোসেনের আপত্তি নাকচ হয়ে যায়। বিলটি কণ্ঠভোটে পাস হয়। পরে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ সংসদকে জানান, একজন বিচারপতির নামের শেষে একটা বিশেষণ যুক্ত করা হয়েছে। সেটা এক্সপাঞ্জ করা হয়েছে।
- বিষয় :
- বিল পাস
- সংসদ অধিবেশন
