রাজস্বের বড় অংশ যাচ্ছে কর ছাড়ে
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১০ এপ্রিল ২০২৬ | ০৯:৩২
দেশের অর্থনীতির আকার বাড়ার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে সরকার প্রদত্ত কর ছাড়ের পরিমাণ। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কর ছাড় নিয়ে করা সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২২-২৩ অর্থবছরে সরাসরি
কর বা আয়কর খাতে সরকার মোট ১ লাখ ৭ হাজার ১৩২ কোটি টাকার রাজস্ব ছাড় দিয়েছে। যা অর্থ ওই বছরের মোট প্রত্যক্ষ কর সংগ্রহের প্রায় ৯৯ শতাংশের সমান এবং দেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ২ দশমিক ৩৯ শতাংশ।
গতকাল বৃহস্পতিবার এনবিআর প্রকাশিত ‘ট্যাক্স এক্সপেন্ডিচার এস্টিমেশন ইন দ্য ডাইরেক্ট ট্যাক্স অব বাংলাদেশ’ শীর্ষক প্রতিবেদনে এই চিত্র উঠে এসেছে।
প্রতিবেদনে দেখা যায়, ২০২১-২২ অর্থবছরে কর ছাড়ের পরিমাণ ছিল ১ লাখ ১৫ হাজার ৫৬ কোটি টাকা, যা ছিল জিডিপির ২ দশমিক ৯ শতাংশ। কর ছাড়ের এই ধারা অব্যাহত থাকায় রাজস্ব আহরণে এক ধরনের ভারসাম্যহীনতা তৈরি হচ্ছে।
প্রতিবেদনে এক অর্থবছরে কী পরিমাণ কর ছাড় দেওয়া হয়, সেই হিসাব করা হয়েছে। এতে দেখা গেছে, তিন ভাগের দুই ভাগের বেশি কর ছাড় দেওয়া হয়েছে উদ্যোক্তা বা প্রতিষ্ঠান পর্যায়ে।
অর্থাৎ মোট ছাড়ের ৬৯ শতাংশ বা ৭৩ হাজার ৯৮৯ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে করপোরেট কর সুবিধা দিতে গিয়ে।
অন্যদিকে ব্যক্তিগত আয়কর খাতে ছাড়ের পরিমাণ ৩৩ হাজার ১৪৩ কোটি টাকা, যা মোট ছাড়ের ৩১ শতাংশ।
সবচেয়ে বেশি কর সুবিধা দেওয়া হয়েছে মাইক্রোক্রেডিট ও সমাজকল্যাণ খাতে। এই খাতে সরকার রাজস্ব হারিয়েছে ১২ হাজার ৫৮৯ কোটি টাকা, যা মোট কর ছাড়ের ১১ দশমিক ৭৫ শতাংশ।
অন্যান্য খাতের মধ্যে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে ৭ হাজার ৯৮৭ কোটি টাকার কর ছাড় দেওয়া হয়েছে, যা মোট ছাড়ের ৭ দশমিক ৪৬ শতাংশ। ৭ হাজার ৭১ কোটি টাকা ছাড় দেওয়া হয়েছে শেয়ার মূলধনি মুনাফা খাতে।
এ ছাড়া তৈরি পোশাক ও টেক্সটাইল খাতে ৫ হাজার ৮২৯ কোটি টাকা, বেতনভোগীদের কর রেয়াতবাবদ ৫ হাজার ৩২৫ কোটি, অর্থনৈতিক অঞ্চল ও হাই-টেক পার্কে ৪ হাজার ৬৩৮ কোটি, মৎস্য ও পোলট্রি খাতে ২ হাজার ৮৫৮ কোটি এবং তথ্যপ্রযুক্তি ও সফটওয়্যার খাতে ১ হাজার ১৫১ কোটি টাকা কর ছাড় দেওয়া হয়েছে।
এনবিআরের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, বড় কোম্পানিগুলোকে বেশি কর সুবিধা দেওয়া হচ্ছে, যার বিপরীতে কর্মসংস্থান সৃষ্টি বা প্রযুক্তিগত উন্নয়নের প্রতিফলন আশাব্যঞ্জক হচ্ছে না। কর-জিডিপি অনুপাত বাড়াতে অপ্রয়োজনীয় কর ছাড় কমিয়ে আনার জন্য ‘সানসেট ক্লজ’ বা সময়সীমা নির্ধারণ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ একটি নির্দিষ্ট সময় পর যেন এই ছাড়গুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে বন্ধ হয়ে যায়।
- বিষয় :
- রাজস্ব
