ঢাকা রোববার, ১৪ জুন ২০২৬

দাতাদের আস্থা অর্জনে নিয়মিত অডিট রিপোর্ট প্রকাশ করে মাস্তুল ফাউন্ডেশন

দাতাদের আস্থা অর্জনে নিয়মিত অডিট রিপোর্ট প্রকাশ করে মাস্তুল ফাউন্ডেশন
×

ছবি: সংগৃহীত

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ২৩ এপ্রিল ২০২৬ | ২১:০৩

অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর লক্ষ্য নিয়ে এক দশকের বেশি সময় ধরে কাজ করে যাচ্ছে দাতব্য প্রতিষ্ঠান ‘মাস্তুল ফাউন্ডেশন’। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার নজির স্থাপন করে প্রতিষ্ঠানটি প্রতি বছর নিয়মিত অডিট রিপোর্ট শেয়ার করে। ২০১২ সালে একদল তরুণকে সাথে নিয়ে স্বপ্নদ্রষ্টা কাজী রিয়াজ রহমান এই মানবিক উদ্যোগ শুরু করেছিলেন।

মাস্তুল ফাউন্ডেশন সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়, জয়েন্ট স্টক কোম্পানি এবং এনজিও বিষয়ক ব্যুরো নিবন্ধিত একটি জাতীয় পর্যায়ের প্রতিষ্ঠান। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড থেকে বিশেষ এসআরও সনদ প্রাপ্ত হওয়ায় এই প্রতিষ্ঠানে প্রদত্ত যে কোনো দান বা যাকাত দাতার জন্য আয়কর রেয়াত হিসেবে গণ্য হয়। এছাড়া স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনে বেওয়ারিশ মরদেহ দাফনের কাজও পরিচালনা করছে প্রতিষ্ঠানটি।
 
প্রতিবছর যাকাত কনফারেন্স ও ডোনার সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। দাতাদের চাহিদা অনুযায়ী বিভিন্ন মানবিক কর্মসূচিও বাস্তবায়ন করে থাকে প্রতিষ্ঠানটি। মাস্তুল ফাউন্ডেশনের সেবার পরিধি এখন দেশের সীমানা ছাড়িয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়েও বিস্তৃত হয়েছে। ফিলিস্তিনের গাজা ও সুদানে চলমান মানবিক বিপর্যয়ের সময় মাস্তুল ফাউন্ডেশন সরাসরি গিয়ে শিশুদের জন্য পুষ্টিকর খাবার ও প্রয়োজনীয় জীবনরক্ষাকারী ওষুধ সরবরাহ করে। এছাড়াও বহুমুখী প্রকল্পের মাধ্যমে সমাজের বিভিন্ন স্তরে মানবিক সেবা পৌঁছে দিচ্ছে মাস্তুল ফাউন্ডেশন।

মাস্তুল ফাউন্ডেশন মনে করে, সাময়িক সহায়তার চেয়ে স্থায়ী সমাধান বেশি কার্যকর। সেই লক্ষ্যেই যাকাতের অর্থের যথাযথ ব্যবহারের মাধ্যমে অসহায় পরিবারগুলোকে ক্ষুদ্র ব্যবসার পুঁজি দিয়ে স্বাবলম্বী করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তাদের লক্ষ্য যারা আজ যাকাত গ্রহণ করছেন, সঠিক সহায়তার মাধ্যমে ভবিষ্যতে যেন তারাই সম্মানের সঙ্গে যাকাতদাতা হিসেবে সমাজে প্রতিষ্ঠিত হতে পারেন।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের এমআরএ-এর অনুমোদনক্রমে ইসলামিক ফাইন্যান্স কার্যক্রম পরিচালনা করছে মাস্তুল ফাউন্ডেশন। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় তারা বিনামূল্যে খাবার বিতরণ কার্যক্রম পরিচালনা করছে। বিশেষ করে ঢাকার কাওরান বাজারসহ বিভিন্ন স্থানে অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জন্য বিনামূল্যে আহারের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

ঢাকার হাজারীবাগ বারইখালি এলাকায় নিজস্ব মাদ্রাসা, এতিমখানা রয়েছে। বর্তমানে ১০ তলা বিশিষ্ট ‘ইসলামিক শেল্টারহোম কমপ্লেক্স’ নির্মাণের কাজ করছে। যেখানে একই ছাদের নিচে আধুনিক মসজিদ, মাদ্রাসা, স্কুল এবং নিঃসঙ্গ প্রবীণদের জন্য আধুনিক বৃদ্ধাশ্রমের ব্যবস্থা থাকবে। বিশেষ করে সমাজের নিঃসঙ্গ ও আশ্রয়হীন প্রবীণদের জন্য এখানে নিরাপদ ও আধুনিক বৃদ্ধাশ্রমের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

​মাস্তুল ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক কাজী রিয়াজ রহমান বলেন, আমাদের প্রতিটি কাজ মহান আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য। সম্পদের সুষম বণ্টন এবং দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে ইসলামের সামাজিক অর্থনীতি বা যাকাত ও সাদাকার সঠিক ব্যবস্থাপনা অপরিহার্য। আমরা শুরু থেকেই স্বচ্ছতা বজায় রাখতে অডিট রিপোর্ট জনসমক্ষে প্রকাশ করে আসছি যেন দাতাদের আস্থা অক্ষুণ্ণ থাকে।

​উল্লেখ্য, মাস্তুল ফাউন্ডেশনের সব কার্যক্রম একটি শরীয়াহ বোর্ডের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হয়। বিস্তারিত তথ্য ও অডিট রিপোর্ট দেখা যাবে তাদের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট: www.mastul.net

সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

আরও পড়ুন

×