ঢাকা শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬

দুই দিন খাবার পায়নি ১৬০০ স্কুলশিক্ষার্থী

দুই দিন খাবার পায়নি ১৬০০ স্কুলশিক্ষার্থী
×

ছবি: সমকাল ইপেপার

নরসিংদী, চাঁপাইনবাগঞ্জ ও কুলিয়ারচর (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ২৬ এপ্রিল ২০২৬ | ০৭:৫৯ | আপডেট: ২৬ এপ্রিল ২০২৬ | ০৮:২৫

| প্রিন্ট সংস্করণ

স্কুল ফিডিং কর্মসূচির খাবার খেয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার একটি বিদ্যালয়ের পাঁচ শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়েছে। গতকাল শনিবার এই ঘটনা ঘটে। একই দিন নরসিংদীতে বিদ্যালয় পরিদর্শনে  গিয়ে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ মিড ডে মিলে দেওয়া খাবারে গন্ধ পান। এদিকে কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরের একটি ইউনিয়নের ১০টি বিদ্যালয়ের প্রায় ১৬০০ শিক্ষার্থী গত বৃহস্পতিবার ও গতকাল শনিবার খাবার পায়নি। এ জন্য সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার স্থানীয় ছাত্রদলের কিছু নেতাকর্মীকে দায়ী করেছেন।

খাবার সরবরাহে বাধা
কুলিয়ারচরের রামদী ইউনিয়নের ১০টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ১৬০০ শিক্ষার্থী গত বৃহস্পতিবার ও গতকাল শনিবার স্কুল ফিডিং কর্মসূচির খাবার পায়নি। ঠিকাদার ও সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, ইউনিয়ন ও উপজেলা ছাত্রদলের কয়েকজন নেতাকর্মীর বাধায় খাবার সরবরাহ করা যায়নি। দুদিন খাবার না পাওয়ায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে হতাশা দেখা দিয়েছে। ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অভিভাবকরা।

রামদী ইউনিয়নের আগরপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আদনানের দাদা বাচ্চু মিয়া (৬০) গতকাল বলেন, খাবার পাওয়ায় তাঁর নাতি আনন্দের সঙ্গে বিদ্যালয়ে যাচ্ছিল। গত বৃহস্পতিবার খাবার না পেয়ে দুপুরে খাবারের কষ্ট করে। এ কারণে আজ (শনিবার) যায়নি।

উপজেলায় স্কুল ফিডিং কর্মসূচি চালু হয় গত ৪ এপ্রিল। উপজেলার ৭৪টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ১২ হাজার ৭১৯ জন শিক্ষার্থী এই সুবিধার আওতায় ডিম, পাউরুটি ও কলা পাচ্ছিল। আগরপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মরিয়ম নেছা বলেন, ‘স্কুল ফিডিং চালুর প্রথম দিনেই কতিপয় ছেলে স্কুলের পাশে খাবার আটকে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে। ফলে যথাসময়ে আমরা শিক্ষার্থীদের খাবার দিতে পারিনি। দুই দিন ধরে আমরা খাবারই পাচ্ছি না।’

মনোহরপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কৃষ্ণা সাহা বলেন, গত বুধবার থেকে তারা খাবার পাচ্ছেন না। বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়ায় এর আগেও যথাসময়ে খাবার পাননি। বিষয়টি তিনি উপজেলা শিক্ষা অফিসকে জানিয়েছেন।

খাবার বিতরণকারী প্রতিষ্ঠান এসএম এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী দেলোয়ার হোসেন মান্নানের ভাষ্য, ‘কতিপয় ছাত্রদল নেতা রামদী ইউনিয়নের বিতরণের কাজ তাদের হাতে তুলে দিতে বলছেন। আমরা রাজি না হওয়ায় তারা বাধা দিচ্ছেন। তাদের বাধার মুখেও আমরা রামদী ইউনিয়নের ১০টি বিদ্যালয়ে বুধবার পর্যন্ত খাবার দিয়েছি। বৃহস্পতিবার থেকে খাবার পৌঁছাতে পারছি না।’

কুলিয়ারচর উপজেলা ছাত্রদলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক ইমরান খান এ বিষয়ে বলেন, ‘স্কুল ফিডিংয়ের খাবার বন্ধের কথা শুনেছি। এ ঘটনায় ছাত্রদল জড়িত এমনটা জানা নেই।’

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মাসুদুর রহমানের দাবি, এ বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না। স্কুল ফিডিং কর্মসূচি বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি ও ইউএনও মো. ইয়াসিন খন্দকার একই মন্তব্য করে বলেন, ‘আমি বিষয়টির খোঁজ নিচ্ছি।’ 

অসুস্থ ৫ শিক্ষার্থী
চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা শহরের পর এবার শিবগঞ্জের একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে স্কুল ফিডিং প্রকল্পের খাবার খেয়ে অসুস্থ হয়েছে পাঁচ শিক্ষার্থী। উপজেলার চককীত্তি ইউনিয়নের চাতরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মেফতাহুদ্দৌলা বলেন, শনিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে শিক্ষার্থীরা সিদ্ধ ডিম ও পাউরুটি খায়। এর কিছুক্ষণ পরে পাঁচ শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়ে। আরও ২৫ শিক্ষার্থী সামান্য ব্যথা অনুভব করেছে ও অস্বস্তিবোধ করেছে।

জানা গেছে, গ্রাম উন্নয়ন কর্ম (গাক) নামের একটি প্রতিষ্ঠান এই উপজেলায় খাবার সরবরাহ করছে। তাদের সরবরাহ করা খাবারে গত বুধবার সদর উপজেলার শঙ্করবাটি-১ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ২০ শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়ে। 

শিবগঞ্জ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মুসাব্বির হোসেন খান বলেন, ‘অসুস্থ শিক্ষার্থীদের বাড়ি গিয়ে তাদের সঙ্গে ও তাদের অভিভাবকের সঙ্গে কথা বলেছি।’ তাঁর দেওয়া তথ্যানুযায়ী, ২৪০টি বিদ্যালয়ে খাবার সরবরাহ করছে গাক। এ বিষয়ে সংস্থার কাছে কৈফিয়ত চাওয়া হয়েছে।

ইউএনও মাজহারুল ইসলাম বলেন, গাকের সরবরাহ করা খাবার পরীক্ষার জন্য নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। পরীক্ষার প্রতিবেদন না আসা পর্যন্ত তাদের খাবার সরবরাহ বন্ধ রাখতে বলা হয়েছে।

প্রতিমন্ত্রীর হুঁশিয়ারি
নরসিংদীর বিভিন্ন প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শন করেছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। গতকাল দুপুরে শুরুতে তিনি যান শহরের বাসাইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। সেখানে মিড ডে মিলের খাবারের মান পর্যবেক্ষণ করেন। খাবারের মান নিয়ে ঠিকাদারের সঙ্গে অসন্তোষ প্রকাশ করেন প্রতিমন্ত্রী। পাশাপাশি খাবারের মানে উন্নতি না হলে কার্যাদেশ বাতিলেরও হুঁশিয়ারি দেন। পরে শিক্ষার্থীদের জন্য বরাদ্দ রুটিতে গন্ধ পান তিনি। প্রতিমন্ত্রীর নির্দেশে দুটি নমুনা পরীক্ষার জন্য ঢাকার ল্যাবরেটরিতে পাঠানো হয়।

প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেন, ‘আজকে বিদ্যালয়ে সাপ্লাইয়ারদের দেওয়া মিড ডে মিলের খাবার পর্যবেক্ষণ করেছি, খাবারে কিছু ত্রুটি পেয়েছি। শিশুদের জন্য দেওয়া মিড ডে মিলে যাতে কোনো ত্রুটি না থাকে এবং শিশুরা যাতে খাবারের প্রতি আকৃষ্ট হয়ে বিদ্যালয়ে নিয়মিত আসে, সে জন্যই আমরা সারাদেশে পর্যবেক্ষণ শুরু করেছি।’

আরও পড়ুন

×