ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

হঠাৎ বৃষ্টিতে লোডশেডিং উধাও

হঠাৎ বৃষ্টিতে লোডশেডিং উধাও
×

হাসনাইন ইমতিয়াজ

প্রকাশ: ২৭ এপ্রিল ২০২৬ | ১১:১০ | আপডেট: ২৭ এপ্রিল ২০২৬ | ১১:১৯

গত শনিবার সন্ধ্যা ৬টায় দেশে বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ১৫ হাজার ২১৬ মেগাওয়াট। সরবরাহ হয় ১৩ হাজার ১৮৬ মেগাওয়াট। লোডশেডিং ছিল দুই হাজার ৩০ মেগাওয়াট। গতকাল রোববার একই সময়ে বিদ্যুতের চাহিদা নেমে আসে আট হাজার ৯৭৪ মেগাওয়াটে। সরবরাহ হয় আট হাজার ৯০৮ মেগাওয়াট। লোডশেডিং ছিল মাত্র ৬৬ মেগাওয়াট। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে চাহিদা কমেছে ছয় হাজার ২৪২ মেগাওয়াট। গতকাল রাত ৮টায় লোডশেডিং ছিল শূন্য। এই এক দিনের মধ্যে বিদ্যুতের চাহিদা ৪১ শতাংশ কমেছে, লোডশেডিং উধাও হয়ে গেছে; এর পেছনের কারণ বৃষ্টি। 

দেশজুড়ে ঝড়বৃষ্টির কারণে তাপমাত্রা কমে যাওয়ায় বিদ্যুতের চাহিদা কমে গেছে। তাই মাসজুড়ে চলমান লোডশেডিং পরিস্থিতির নাটকীয় উন্নতি হয়েছে। তবে ঝড়ে গাছ ভেঙে বা পোল পড়ে বিতরণ লাইন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় দেশের অনেক স্থানে আধা ঘণ্টা থেকে কয়েক ঘণ্টাব্যাপী বিদ্যুৎ বিভ্রাট হয়েছে। 

আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, গত এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে মৃদু থেকে মাঝারি তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছিল। ঢাকাসহ বেশ কয়েকটি জেলায় তাপমাত্রা ক্রমাগত বাড়তে থাকায় ভ্যাপসা গরমে জনজীবন অতিষ্ঠ হয়ে ওঠে। এই পরিস্থিতিতে গতকাল বিকেলের হঠাৎ বৃষ্টি তাপমাত্রা কমিয়ে আনে। ঢাকায় কয়েক ঘণ্টায় ৩২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। আবহাওয়াবিদ কাজী জেবুন্নেসা জানিয়েছেন, আগামী কয়েক দিন দেশের বিভিন্ন স্থানে বিচ্ছিন্নভাবে বৃষ্টি হতে পারে।

প্রসঙ্গত, এপ্রিলের শুরু থেকেই তাপমাত্রা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বিদ্যুতের চাহিদা দ্রুত বাড়ছে। সরকারের প্রাক্কলন অনুযায়ী, চলতি মাসে বিদ্যুতের সর্বোচ্চ চাহিদা ১৮ হাজার ৫০০ মেগাওয়াট ছাড়াতে পারে। কিন্তু উৎপাদন পরিকল্পনা থাকলেও জ্বালানি ঘাটতির কারণে তা পূরণ করা কঠিন হয়ে পড়ছে। গ্যাস ব্যবহার করে সাড়ে চার হাজার থেকে সাড়ে পাঁচ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদিত হয়েছে। যদিও গ্যাসভিত্তিক কেন্দ্রগুলোর উৎপাদনক্ষমতা ১২ হাজার ১৫৪ মেগাওয়াট। অর্থাৎ, গ্যাসের স্বল্পতার কারণে অর্ধেকের কম বিদ্যুৎ উৎপাদন করা গেছে।

গ্যাসচালিত বিদ্যুৎ সক্ষমতার পুরোটা ব্যবহার করতে হলে দিনে ২০০ কোটি ঘনফুট গ্যাসের দরকার। যদি ১২০ কোটি  ঘনফুট গ্যাসও সরবরাহ করা হয়, তাহলে সাত হাজার ২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা যেত। কিন্তু গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে গড়ে ৯২ কোটি ঘনফুট। অর্থ সাশ্রয় করতেই বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যয়বহুল ফার্নেস অয়েল ও ডিজেল কম ব্যবহার করা হচ্ছে। কয়লাভিত্তিক আটটি বিদ্যুৎকেন্দ্রের মধ্যে ভারতে আদানি বিদ্যুৎকেন্দ্রের একটি ইউনিট কারিগরি কারণে বন্ধ। গ্যাস এবং তেল স্বল্পতায় প্রায় পাঁচ হাজার মেগাওয়াট এবং মেরামত ও সংরক্ষণের প্রায় আড়াই হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে আসছে না। 

এ কারণে সরকারি মতে দুই হাজার থেকে তিন হাজার মেগাওয়াট লোডশেডিং করতে হয়েছে। যদিও বেসরকারি হিসাবে লোডশেডিং চার হাজার মেগাওয়াট ছাড়িয়েছে। এতে দেশজুড়ে চলা প্রচণ্ড তাপদাহে নিদারুণ কষ্টে দিনাতিপাত করছে মানুষ। বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলের কষ্ট অবর্ণনীয়। কারণ, এখানে পল্লি অঞ্চলে এলাকাভেদে ১২ থেকে ১৬ ঘণ্টা লোডশেডিংয়ের তথ্য পাওয়া গেছে। প্রচণ্ড গরমে লোডশেডিং যন্ত্রণায় অতিষ্ঠ হয়ে ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটছে। 

পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশের (পিজিসিবি) তথ্যমতে, গতকাল দিনের বেলায়ও ৯০০ থেকে এক হাজার মেগাওয়াট লোডশেডিং হয়েছে। গতকাল দুপুর ১২টায় বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ১৩ হাজার ৯২৮ মেগাওয়াট। সরবরাহ ছিল ১৩ হাজার ৪১৭ মেগাওয়াট। লোডশেডিং হয় ৫১১ মেগাওয়াট। দুপুর ২টায় চাহিদা ছিল ১৩ হাজার ৮৯৩ মেগাওয়াট। সরবরাহ ছিল ১২ হাজার ৮৮৭ মেগাওয়াট। লোডশেডিং হয় এক হাজার ছয় মেগাওয়াট। আগের দিন রোববার একই সময়ে (দুপুর ২টায়) চাহিদা ছিল ১৪ হাজার ৪৬৭ মেগাওয়াট। সরবরাহ ছিল ১২ হাজার ৩৭৭ মেগাওয়াট এবং লোডশিডিং ছিল দুই হাজার ৯০ মেগাওয়াট। লোডশেডিং কম হওয়ার কারণ দিনব্যাপী রোদ থাকলেও গরম অন্য দিনের তুলনায় কম ছিল। আর বিকেল থেকে বৃষ্টি হওয়ায় সন্ধ্যা নাগাদ লোডশেডিং উধাও হয়ে যায়। 

বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) সদস্য (উৎপাদন) জহুরুল ইসলাম বলেন, বাঁশখালীতে এস আলমের এসএস পাওয়ারের বন্ধ ইউনিট চালু হওয়ায় রোববার ৭০০ মেগাওয়াট উৎপাদন বেড়েছে। বৃষ্টির কারণে ছয় হাজার থেকে সাত হাজার মেগাওয়াট চাহিদা কমে গেছে। এ কারণে লোডশেডিং নেই। তিনি বলেন, বৃষ্টি হলে যে ছয় হাজার থেকে সাত হাজার মেগাওয়াট চাহিদা কমে, এটাই হিট লোড। এসি ও ফ্যান চললে এই বাড়তি চাহিদার সৃষ্টি হয়।

আরও পড়ুন

×