ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

ডিসি সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী

জনপ্রশাসনের প্রতিটি পদ গুরুত্বপূর্ণ ও অনিবার্য ভাবুন

জনপ্রশাসনের প্রতিটি পদ গুরুত্বপূর্ণ ও অনিবার্য ভাবুন
×

ডিসি সম্মেলনে কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি: ফোকাস বাংলা

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ০৩ মে ২০২৬ | ১৪:০৬ | আপডেট: ০৩ মে ২০২৬ | ১৪:৩৬

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, সবসময় নিজেদের পছন্দের পদে পদায়ন কিংবা পোস্টিং পাওয়ার মানসিকতাই জনপ্রশাসনকে দুর্নীতিপরায়ণ এবং অপেশাদার করে তোলার অন্যতম একটি কারণ বলে আমার মনে হয়। আমার ধারণা, আমার এই পর্যবেক্ষণের সঙ্গে আপনারা একমত। সুতরাং, আপনাদের প্রতি আমার বিশেষ আহ্বান, জনপ্রশাসনের প্রতিটি পদকেই ‘গুরুত্বপূর্ণ এবং অনিবার্য’ ভাবুন। দেশের যেকোনো স্থানেই যেকোনো সময় জনপ্রশাসনের যেকোনো পদে দায়িত্ব পালনের জন্য নিজেদেরকে মানসিকভাবে প্রস্তুত রাখুন। আপনাদেরকে মনে রাখা জরুরি, একটি সরকার যেমন চিরস্থায়ী নয় জনপ্রশাসনের কোনো পদও কারও জন্য চিরস্থায়ী নয়।

আজ রোববার থেকে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে শুরু হয়েছে চার দিনব্যাপী জেলা প্রশাসক (ডিসি) সম্মেলন। সকাল ১০টা ৩০ মিনিটে সম্মেলনের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের পর এটিই প্রথম ডিসি সম্মেলন।

সকাল ১০টা ২০ মিনিটের দিকে প্রধানমন্ত্রী সচিবালয়ে তার নিজ দপ্তর থেকে প্রথাগত প্রোটোকল ভেঙে হেঁটে ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনের উদ্দেশে রওনা হন। প্রধানমন্ত্রীর এই সাধারণ চলন দেখে রাস্তার দু’ধারে উৎসুক সাধারণ মানুষ ভিড় করেন এবং তাকে শুভেচ্ছা জানান। প্রধানমন্ত্রীও অত্যন্ত আন্তরিকতার সঙ্গে হাত নেড়ে তাদের শুভেচ্ছার জবাব দেন।

তারেক রহমান বলেন, শুধুমাত্র পদোন্নতি কিংবা নিজেদের পছন্দের জায়গায় পোস্টিংয়ের জন্য পেশাদারিত্বের সঙ্গে আপোশ করলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা সাময়িকভাবে হয়তোবা লাভবান হতে পারেন। তবে সেটি সার্বিকভাবে জনপ্রশাসনের দক্ষতা এবং নিরপেক্ষতার উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। সুতরাং, জনপ্রশাসনের কর্মকর্তাদের সব পদেই কাজ করার মানসিকতা থাকা জরুরি।

তিনি আরও বলেন, একটি অবাধ সুষ্ঠু এবং নিরপেক্ষভাবে অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচনে জনগণের রায়ে বিএনপি রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণের পর আপনাদের সঙ্গে আমার এটাই সরাসরি আনুষ্ঠানিক বৈঠক।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে জনগণের সামনে একটি বিষয় প্রমাণিত হয়েছে, জনরায়ের প্রতিফলন ঘটে জনপ্রশাসনের পক্ষে এমন সুষ্ঠু নির্বাচন পরিচালনা সম্ভব। অপরদিকে ফ্যাসিবাদী শাসনামলে প্রমাণিত হয়েছে, জনপ্রশাসনের মাধ্যমে সুষ্ঠু নির্বাচন পরিচালনা না করাও সম্ভব। আজকের এই জেলা প্রশাসক সম্মেলন নতুন নয়। বরং এটি জেলা প্রশাসকদের নিয়মিত বাৎসরিক সম্মেলন। আজ থেকে শুরু হওয়া এই সম্মেলন ৬ মে পর্যন্ত চলবে। জনস্বার্থে জনপ্রশাসনের কি ধরনের ভূমিকা পালন করা উচিত সেটি আপনারা সবাই কম বেশি অবগত। এটি নিয়ে মনে হয় আমাদের নতুন করে কিছু বলার নেই। তবে এটি যেহেতু বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকারের সঙ্গে আপনাদের প্রথম আনুষ্ঠানিক বৈঠক সেহেতু সরকারের গৃহীত নীতিমালা এবং জনপ্রশাসন সম্পর্কে সরকারের কিছু পর্যবেক্ষণ এবং নির্দেশনা নিয়েই মূলতঃ আমি আপনাদের সামনের কয়েকটি কথা বলতে চাই।  

তিনি আরও বলেন, একটি দেশের জনপ্রশাসনে পদোন্নতি কিংবা পোস্টিংয়ের জন্য যতগুলো প্রশাসনিক পদ রয়েছে প্রতিটি পদই রাষ্ট্র এবং সরকারের জন্য অবশ্যই প্রয়োজনীয় এবং গুরুত্বপূর্ণ। সুতরাং, শুধুমাত্র পদোন্নতি কিংবা নিজেদের পছন্দের জায়গায় পোস্টিংয়ের জন্য পেশাদারিত্বের সঙ্গে আপোষ করলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা সাময়িকভাবে হয়তোবা লাভবান হিতে পারেন। তবে সেটি সার্বিকভাবে জনপ্রশাসনের দক্ষতা এবং নিরপেক্ষতার উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। সুতরাং, জনপ্রশাসনের কর্মকর্তাদের সব পদেই কাজ করার মানসিকতা থাকা জরুরি।

তারেক রহমান বলেন, জনপ্রশাসনের যেকোনো স্তরের কর্মকর্তারা যদি রাষ্ট্রের প্রয়োজনে যেকোনো সময় যেকোনো পদে দেশের স্বার্থে যেকোনো স্থানে কাজ করার জন্য মানসিকভাবে প্রস্তুত থাকেন। আমার বিশ্বাস, জনপ্রশাসনে পেশাদারিত্ব গড়ে ওঠার ক্ষেত্রে এটি অত্যন্ত সহায়ক ভূমিকা রাখবে।

তিনি বলেন, নিজেরা সরাসরি ভোট দিয়ে একটি গণতান্ত্রিক সরকার নির্বাচিত করেছে। দীর্ঘদিন ধরে একটি জবাবদিহিমূলক, ন্যায়ভিত্তিক ও জনকল্যাণমুখী শাসনব্যবস্থার প্রত্যাশায় থাকা সাধারণ মানুষের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন হচ্ছে বর্তমান সরকার। সুতরাং, জনগণ সরকারের প্রতিটি কাজের মাধ্যমে তাদের আকাঙ্খার বাস্তব প্রতিফলন দেখতে চায়। সরকারের নীতি ও কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে আপনারা বিশেষ করে, বিভাগীয় কমিশনার এবং জেলে প্রশাসকরাই জনপ্রশাসনের সঙ্গে সরকারের প্রধান সেতুবন্ধন। েআপনাদের সততা, কর্মদক্ষতা এবং দায়বদ্ধতার উপর সরকারের গৃহীত কার্যক্রমের সাফল্য অনেকখানি নির্ভর করে। দেশের বর্তমান রাজনৈতিক অর্থনৈতিক সামাজিক অবস্থা ব্যবস্থা সম্পর্কে আপনারা ভালোভাবে অবগত আছেন। 

তারেক রহমান আরও বলেন, দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে ভঙ্গুর অর্থনীতি, দুর্বল বিভাজিত জনপ্রশাসন এবং অবনতিশীল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির মধ্যে বর্তমান সরকারকে কাজ শুরু করতে হয়েছে। আমরা অবস্থার পরিবর্তন করছি। 

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ফ্যাসিবাদী শাসনামলের দুর্নীতি লুটপাট রাষ্ট্র এবং জনগণকে ঋণগ্রস্ত করে ফেলেছে। ৩০ লাখ কোটি টাকা ঋণের বোঝা বর্তমান সরকার যাত্রা শুরু করেছে। দেশকে আমদানিনির্ভর রাষ্ট্রে পরিণত করে ফেলা হয়েছে। দেশে দারিদ্র এবং বেকারত্ব বেড়েছে। নতুন কর্মসংস্থান তৈরি হয়নি।

তিনি আরও বলেন, প্রতিটি সাংবিধানিক এবং বিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠানকে অকার্যকর করে দেওয়া হয়েছিল। বিচার বিভাগ, নির্বাচন কমিশন, দুদক সবকিছুই ছিল অকার্যকর। শিক্ষা, স্বাস্থ্য সব সেক্টরেই ছিল ভঙ্গুর অবস্থা। অপরদিকে, যুদ্ধ পরিস্থিতিও নতুন সরকারের সামনে একটি চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। যুদ্ধ পরিস্থিতি থেকে কোনো দেশই রেহাই পায়নি। 

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, জনগণের ভোগান্তি না বাড়িয়ে কিভাবে পরিস্থিতির মোকাবেলা করা যায় সরকার সেই প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে। এমন পরিস্থিতি মোকাবিলা করেই বর্তমান সরকার দেশের আবহমানকালের ধর্মীয় সামাজিক মূল্যবোধের আলোকে একটি ন্যায়ভিত্তিক কল্যাণ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে চায়। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে সরকার দেশের প্রতিটি শ্রেণি পেশার মানুষের জীবন মানোন্নয়নে বিভিন্ন পদক্ষেপ বাস্তবায়ন শুরু করেছে। সরকার ইতোমধ্যেই একটি নীতিমালারভিত্তিতে জনপ্রশাসন অর্থাৎ আপনাদের মাধ্যমেই কৃষক কার্ড, ফ্যামিলি কার্ড, স্পোর্টস কার্ড দেওয়া শুরু করেছে। দেশের ইমাম মুয়াজ্জিন এবং অন্য ধর্মের ধর্মীয় গুরুদেরকেও প্রতিমাসে সম্মানী ভাতা দেওয়ার কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

তারেক রহমান বলেন, দল মত নির্বিশেষে রাষ্ট্র ও সমাজের প্রতিটি মানুষকে রাষ্ট্রীয় সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর মধ্যে নিয়ে আসাই সরকারের লক্ষ্য। আপনারা বিধিবদ্ধ নিয়ম মেনে জনগণের জন্য সরকারের গৃহীত সেটি সুচারুভাবে বাস্তবায়ন করবেন-এটিই জনপ্রশাসনের সরকারের প্রত্যাশা। সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রথমে নির্ধারিত এবং নির্বাচিত প্রতিটি সেক্টরের মানুষের কাছে বিভিন্ন ধরনের কার্ড সফলভাবে পৌঁছে দেবেন। 

আরও পড়ুন

×