ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

প্রেস ব্রিফিংয়ে বিশেষজ্ঞরা

জ্বালানি সংকট নিরসনের মাধ্যমে অর্থনীতিকে এগিয়ে নিতে হবে

জ্বালানি সংকট নিরসনের মাধ্যমে অর্থনীতিকে এগিয়ে নিতে হবে
×

ফাইল ছবি

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ০৫ মে ২০২৬ | ০৫:০৫

জ্বালানি সংকট নিরসনে একটি টেকসই, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও ন্যায্য জ্বালানি ভবিষ্যৎ গঠনে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য সরকারকে তাগিদ দিয়েছেন নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি ও বিশেষজ্ঞরা। তারা বলেছেন, ইরানে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলি হামলায় হরমুজ প্রণালি বন্ধ করার প্রভাবে বাংলাদেশে ভয়াবহ জ্বালানি সংকট শুরু হয়ে গেছে। এই সংকট দূর না করে দেশকে এগিয়ে নেওয়া যাবে না। জ্বালানি সংকট নিরসন ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি বাস্তবায়ন কৌশলের মাধ্যমে দেশ ও দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতিকে এগিয়ে নিতে হবে।

গতকাল সোমবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে ২০৩০ সালের মধ্যে ১০ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের সরকারি লক্ষ্যমাত্রাকে স্বাগত জানিয়ে ‘নাগরিক সমাজের প্রত্যাশা ও পথনকশা উপস্থাপন’ শীর্ষক প্রেস ব্রিফিংয়ে তারা এসব কথা বলেন। একশনএইড বাংলাদেশ, জাস্ট এনার্জি ট্রানজিশন নেটওয়ার্ক বাংলাদেশ (জেটনেট-বিডি) এবং বাংলাদেশ সাসটেইনেবল অ্যান্ড রিনিউঅ্যাবল এনার্জি অ্যাসোসিয়েশন (বিএসআরইএ) যৌথভাবে এই প্রেস ব্রিফিংয়ের আয়োজন করে।

একশনএইড বাংলাদেশের জাস্ট এনার্জি ট্রানজিশন ম্যানেজার ও জেটনেট-বিডির সদস্য সচিব আবুল কালাম আজাদের সঞ্চালনায় প্রেস ব্রিফিংয়ে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন জেটনেট-বিডির উপদেষ্টা কমিটির সদস্য শফিকুল আলম এবং চেঞ্জ ইনিশিয়েটিভের প্রধান নির্বাহী ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক জাকির হোসেন খান। আরও বক্তব্য দেন জেটনেট-বিডির উপদেষ্টা কমিটির সদস্য ড. ইজাজ হোসেন, বাংলাদেশ সাসটেইনেবল অ্যান্ড রিনিউঅ্যাবল এনার্জি অ্যাসোসিয়েশনের (বিএসআরইএ) সভাপতি মোস্তফা আল মাহমুদ প্রমুখ।

ড. ইজাজ হোসেন বলেন, মানুষের চরিত্রটাই এমন যে বিপদে না পড়লে টনক নড়ে না। এখন হরমুজ প্রণালি নিয়ে সংকটের মাধ্যমেই দেশে জ্বালানি সংকটের কথা আসছে। তবে আশার কথা, সরকার এই সংকট নিরসনসহ ১০ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের কথা দিয়েছে। টেকসই জ্বালানি ও বিদ্যুৎ ব্যবস্থা গড়ে তোলার এখনই সময়। 

মোস্তফা আল মাহমুদ বলেন, জ্বালানি সংকট নিরসনে টেকসই ও অন্তর্ভুক্তিমূলক নীতি প্রণয়নে দীর্ঘদিন আলোচনা হলেও কেউই কথা শোনেনি। নতুন সরকার সত্যি সত্যি সংকট নিরসনে ১০ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবায়ন করতে চাইলে স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে কথা বলতে হবে। জ্বালানি সংকট নিরসনে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।  

মূল প্রবন্ধে নবায়নযোগ্য জ্বালানির লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে স্পষ্ট বাস্তবায়ন কৌশল, সঠিক বাজেট পরিকল্পনা এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক সুশাসন প্রতিষ্ঠার নানা সুপারিশ তুলে ধরা হয়। এতে বলা হয়, ১০ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুতের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন কেবল বিদ্যুৎ উৎপাদন নয়; বাংলাদেশের জ্বালানি সার্বভৌমত্ব ও জলবায়ু সুরক্ষা নিশ্চিত করার একটি ঐতিহাসিক সুযোগ। এই সুযোগ কাজে লাগাতে সরকারকে সহযোগিতা করা নাগরিক সমাজের অঙ্গীকার। 
 

আরও পড়ুন

×