ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

কাঠামোগত সংস্কারের বিকল্প নেই

পিআরআইর সেমিনারে বক্তারা

কাঠামোগত সংস্কারের বিকল্প নেই
×

 সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১৯ মে ২০২৬ | ০৯:০৪ | আপডেট: ১৯ মে ২০২৬ | ১৫:২৪

| প্রিন্ট সংস্করণ

প্রবৃদ্ধির মন্থর গতি, লাগামহীন মূল্যস্ফীতি আর উচ্চমানের কর্মসংস্থানের চরম সংকটের মধ্য দিয়ে এক জটিল সময় পার করছে দেশের অর্থনীতি। তা ছাড়া এতদিনের উন্নয়ন মডেল পর্যাপ্ত কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে না পারায় সামষ্টিক অর্থনৈতিক সূচকগুলো দুর্বল হয়ে পড়ছে। এ সংকট কাটিয়ে উঠতে কাঠামোগত সংস্কার এখন আর কোনো ঐচ্ছিক বিষয় নয়, বরং একটি অপরিহার্য প্রয়োজনীয়তা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

গতকাল সোমবার পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউট অব বাংলাদেশ (পিআরআই) এবং বিশ্বব্যাংক আয়োজিত ‘বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট আপডেট: স্পেশাল ফোকাস– এ বিজনেস এনভায়রনমেন্ট দ্যাট ডেলিভারস জবস’ শীর্ষক সেমিনারে এমন মতামত দিয়েছেন দেশের শীর্ষস্থানীয় অর্থনীতিবিদরা। রাজধানীর বনানীতে নিজস্ব কার্যালয়ে গবেষণা প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান ড. জাইদী সাত্তারের সভাপতিত্বে এ সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়।

সেমিনারে সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন বলেন, বাংলাদেশের উন্নয়ন মডেলে ‘কর্মসংস্থানহীন প্রবৃদ্ধি’ একটি বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা গত কয়েক বছরে উল্লেখযোগ্যভাবে দুর্বল হয়েছে। ব্যাংকিং খাতের ভঙ্গুর দশা, ঋণের উচ্চ হার এবং রাজস্ব আদায়ের অত্যন্ত নিম্নগতি অর্থনীতির ভবিষ্যৎকে ঝুঁকিতে ফেলছে।

বিদেশি বিনিয়োগকারীদের সংগঠন ফিকির নির্বাহী পরিচালক টিআইএম নুরুল কবীর বিনিয়োগ পরিবেশের ওপর আলোকপাত করেন। তিনি বলেন, বিদেশি বিনিয়োগকারীরা কোনো দেশে বিনিয়োগের আগে সেই দেশের নীতিমালার ধারাবাহিকতা ও দূরদর্শিতা বিচার করেন। কিন্তু বাংলাদেশে নীতিমালার ঘন ঘন পরিবর্তন এবং অনিশ্চয়তা বিনিয়োগকারীদের আস্থা কমিয়ে দিচ্ছে। কয়েক মিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগের জন্য যখন একটি বিদেশি কোম্পানি কাজ শুরু করে, তখন এনবিআর ২৫ শতাংশ সাপ্লিমেন্টারি ডিউটি আরোপ করেছে।

পিআরআইর প্রিন্সিপাল ইকোনমিস্ট ড. আশিকুর রহমান তাঁর বক্তব্যে সতর্ক করে দেন, সংস্কার প্রক্রিয়ায় দেরি করলে বাংলাদেশের মধ্যম আয়ের ফাঁদে পড়ার ঝুঁকি রয়েছে। তিনি বলেন, ২০১৯ সালের পর থেকে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধির গতি কমছে এবং অর্থনৈতিক অস্থিরতা বাড়ছে। 

মূল প্রবন্ধে বিশ্বব্যাংকের সিনিয়র ইকোনমিস্ট ড. ধ্রুব শর্মা বাংলাদেশের অর্থনীতির বর্তমান চ্যালেঞ্জ ও উত্তরণের বিশদ রূপরেখা তুলে ধরেন। তাঁর মতে, কভিড-১৯ মহামারি, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ এবং সাম্প্রতিক মধ্যপ্রাচ্য সংকটের প্রভাবে বাংলাদেশের অর্থনীতি বারবার ধাক্কা খাচ্ছে। 

ড. শর্মা উল্লেখ করেন, বাংলাদেশে ব্যবসা পরিচালনা করা অত্যন্ত সময়সাপেক্ষ ও ব্যয়বহুল। তিনি উদাহরণ দেন, বরিশালের মতো অঞ্চলে ব্যবসায়ীদের তাদের মোট সময়ের প্রায় ৬০ শতাংশ ব্যয় করতে হয় কেবল বিভিন্ন নিয়ন্ত্রক সংস্থার নিয়মকানুন পরিপালনে। এমনটা হলে তারা ব্যবসা উন্নয়নে কাজ করবেন কখন!

‘বেশি কর সংগ্রহ করুন, গুণগত খরচ করুন’– ড. শর্মা এই মূলমন্ত্রের ওপর ভিত্তি করে রাজস্ব নীতি সংস্কারের পরামর্শ দেন। তিনি বলেন, ভ্যাট ব্যবস্থা সহজ করা এবং যত্রতত্র কর ছাড় বন্ধ করে একটি স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক কর কাঠামো গড়ে তুলতে হবে। প্রয়োজনে নির্দিষ্ট সময়ের পর কর ছাড় স্বয়ংক্রিয়ভাবে বন্ধ হওয়ার বিধান রাখার পরামর্শও তাঁর।

সেমিনারে বক্তারা বলেন, শুধু সংস্কার দিয়ে বেশিদূর এগোনো যাবে না, যদি নতুন উদ্ভাবন এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মতো আধুনিক প্রযুক্তির সুযোগ কাজে লাগিয়ে উৎপাদনশীলতা বাড়ানো না যায়। 

আরও পড়ুন

×