কৃষি
বিশ্ববাজারে দেশের আমের ঘ্রাণ
রাজধানীর বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিল মিলনায়তনে গতকাল বৃহস্পতিবার আম রপ্তানি কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়- সমকাল
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২২ মে ২০২৬ | ০৯:১৬
| প্রিন্ট সংস্করণ
দেশের গণ্ডি পেরিয়ে আবারও বিশ্ববাজারে ছড়িয়ে পড়তে শুরু করেছে বাংলাদেশের আমের ঘ্রাণ। চলতি মৌসুমে আনুষ্ঠানিকভাবে আম রপ্তানির কার্যক্রম শুরু হয়েছে। ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশের পাশাপাশি গত বছরের মতো এবারও চীনের বাজারে বাংলাদেশি আম নিয়ে বাড়ছে আগ্রহ।
কৃষি সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সঠিক পরিকল্পনা ও অবকাঠামোগত সহায়তা নিশ্চিত করা গেলে আম রপ্তানি নতুন উচ্চতায় পৌঁছাতে পারে।
গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিল মিলনায়তনে রপ্তানিযোগ্য আম উৎপাদন প্রকল্প আয়োজিত ‘আম রপ্তানির শুভ উদ্বোধন’ অনুষ্ঠানে কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বলেন, বাংলাদেশের আম বিশ্ববাজারে অন্যতম রপ্তানি পণ্যে পরিণত হওয়ার সক্ষমতা রাখে। দেশের মাটি ও আবহাওয়া কৃষিপণ্যের জন্য অত্যন্ত উপযোগী হলেও নীতি ও অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতার কারণে ওই সম্ভাবনা পুরোপুরি কাজে লাগানো যাচ্ছে না।
মন্ত্রী বলেন, এখন পর্যন্ত মূলত প্রবাসী বাংলাদেশিদের লক্ষ্য করেই আম রপ্তানি হচ্ছে। তবে বিদেশি ভোক্তাদের কাছেও বাংলাদেশি আম জনপ্রিয় করে তুলতে পারলে রপ্তানির পরিধি আরও বাড়বে। তিনি নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন, কীটনাশকের নিয়ন্ত্রিত ব্যবহার এবং আন্তর্জাতিক মানের প্যাকেজিং নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেন।
আম রপ্তানির অন্যতম বড় বাধা হিসেবে বিমান ভাড়া ও কার্গো সংকটের বিষয়টি সামনে এসেছে অনুষ্ঠানে। কৃষিমন্ত্রী বলেন, পচনশীল কৃষিপণ্যের জন্য আলাদা কার্গো সুবিধা জরুরি। বাংলাদেশ বিমানের সঙ্গে আলোচনা করে ভাড়া কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে। তিনি বলেন, নতুন বিমান যুক্ত হলে ভবিষ্যতে কার্গো ফ্লাইট পরিচালনার সুযোগ বাড়বে। তবে কার্গো ফ্লাইট চালু রাখতে নিয়মিত রপ্তানি ও নিরবচ্ছিন্ন সংযোগ নিশ্চিত করতে হবে।
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, বর্তমানে যুক্তরাজ্য, সৌদি আরব, ইতালিসহ ৩৬টি দেশে বাংলাদেশের আম রপ্তানি হচ্ছে। আম্রপালি, হিমসাগর, ফজলি, হাঁড়িভাঙাসহ কয়েকটি প্রিমিয়াম জাত বিদেশে পাঠানো হচ্ছে আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে।
ফুড এক্সপোর্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মো. মনসুর বলেন, থাইল্যান্ড ও পাকিস্তানের তুলনায় বাংলাদেশের বিমান ভাড়া অনেক বেশি। পাশাপাশি বিমানবন্দরে আধুনিক কোল্ড চেইন সুবিধার অভাবও রপ্তানিকে ব্যয়বহুল করে তুলছে।
এদিকে দেশের অন্যতম আম উৎপাদনকারী অঞ্চল সাতক্ষীরা থেকেও শুরু হয়েছে ইউরোপে আম পাঠানো। টানা ১২তম বারের মতো এবারও জেলার আম ইউরোপীয় বাজারে যাচ্ছে। চাষিরা বলছেন, বাম্পার ফলনের কারণে এবারের মৌসুম নিয়ে তাদের প্রত্যাশাও বেশি।
সাতক্ষীরা সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মনির হোসেন বলেন, ভৌগোলিক কারণে সাতক্ষীরার আম দেশের অন্যান্য অঞ্চলের তুলনায় আগে পাকে। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারেও এর আলাদা চাহিদা তৈরি হয়েছে।
রপ্তানিযোগ্য আম উৎপাদন প্রকল্পের পরিচালক আরিফুর রহমান। তিনি জানান, দেশে বছরে প্রায় ২৬ লাখ ৬২ হাজার টন আম উৎপাদিত হয়। আন্তর্জাতিকভাবে সঠিক তথ্য তুলে ধরতে পারলে বাংলাদেশ বিশ্বের শীর্ষ পাঁচ আম উৎপাদনকারী দেশের তালিকায় উঠে আসতে পারে।
তিনি বলেন, বর্তমানে যুক্তরাজ্য, সৌদি আরব, ইতালিসহ ৩৬ দেশে বাংলাদেশের আম রপ্তানি হচ্ছে। আম্রপালি, ফজলি, হিমসাগর, হাঁড়িভাঙাসহ সাতটি প্রিমিয়াম জাত আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে বিদেশে পাঠানো হচ্ছে। তবে রপ্তানির ক্ষেত্রে বিমানের অতিরিক্ত ফ্রেইট চার্জ ও কার্গো স্পেস সংকটকে বড় সমস্যা হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।
- বিষয় :
- কৃষি
