ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬

জুয়া ও বেটিংবিরোধী আইনের খসড়া সংশোধনের আহ্বান

এইচআরএফবির বিবৃতি

জুয়া ও বেটিংবিরোধী আইনের খসড়া সংশোধনের আহ্বান
×

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১১ জুন ২০২৬ | ০৮:৩৭

| প্রিন্ট সংস্করণ

দেশে অনলাইন ও অফলাইন জুয়া এবং বেটিং-সংক্রান্ত অপরাধ নিয়ন্ত্রণের জন্য নতুন আইন প্রণয়নে সরকারের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে হিউম্যান রাইটস ফোরাম বাংলাদেশ (এইচআরএফবি)। তবে খসড়া আইনের কয়েকটি ধারায় নাগরিক অধিকার ও ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ক্ষুণ্ন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে উল্লেখ করে সেগুলো পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।

গত মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে এইচআরএফবি বলেছে, জাতীয় সংসদে উপস্থাপনের আগে ‘বেটিং ও জুয়া প্রতিরোধ আইন (অনলাইন ও অফলাইন), ২০২৬’-এর খসড়া আরও পর্যালোচনা করা প্রয়োজন। বিশেষ করে যেসব ধারা নাগরিকের সাংবিধানিক অধিকার, ন্যায়বিচার পাওয়ার নিশ্চয়তা এবং বিচারিক সুরক্ষার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে, সেগুলো সংশোধন বা প্রয়োজনে বাতিল করা উচিত।
সংগঠনটির মতে, জুয়া ও বেটিং-সংশ্লিষ্ট অপরাধ দমনে কার্যকর আইন প্রয়োজন হলেও সেই আইনে এমন কোনো বিধান রাখা উচিত নয়, যা ভবিষ্যতে ব্যাপক নজরদারি, ব্যক্তিগত গোপনীয়তায় হস্তক্ষেপ কিংবা ক্ষমতার অপব্যবহারের সুযোগ সৃষ্টি করে। 

বিবৃতিতে বলা হয়, খসড়া আইনের ৩৯(১) ও ৩৯(২) ধারায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বা ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের কেবল ‘বিশ্বাস’ বা ‘সন্দেহের’ ভিত্তিতে কোনো ব্যক্তির ডিজিটাল ডিভাইসে প্রবেশ, তল্লাশি, তথ্য সংগ্রহ, জব্দ এবং গ্রেপ্তারের ক্ষমতা দেওয়ার প্রস্তাব রাখা হয়েছে। এসব ক্ষমতা প্রয়োগের ক্ষেত্রে বিচারিক অনুমোদন, স্বাধীন তদারকি এবং জবাবদিহির কার্যকর ব্যবস্থা না থাকলে তা নাগরিক অধিকার সংকুচিত করার পাশাপাশি নজরদারিনির্ভর রাষ্ট্রব্যবস্থার ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

সংবিধানের বিভিন্ন অনুচ্ছেদের উল্লেখ করে এইচআরএফবি বলেছে, বাংলাদেশের সংবিধানের ২৭, ৩১, ৩২, ৩৩, ৩৯ ও ৪৩ অনুচ্ছেদে নাগরিকের আইনের দৃষ্টিতে সমতা, ব্যক্তিস্বাধীনতা, গ্রেপ্তার ও আটক-সংক্রান্ত অধিকার, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং ব্যক্তিগত গোপনীয়তার সুরক্ষা নিশ্চিত করা হয়েছে।
ফলে কোনো ব্যক্তির ডিজিটাল ডিভাইস বা ব্যক্তিগত তথ্যে প্রবেশের ক্ষমতা প্রয়োগের ক্ষেত্রে এসব সাংবিধানিক সুরক্ষার বিষয়টি বিবেচনায় রাখতে হবে। 
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, খসড়া আইনে ভ্রাম্যমাণ আদালতকে যে ধরনের ক্ষমতা দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে, সেটিও পর্যালোচনার দাবি রাখে। বিচারিক প্রক্রিয়া ও ন্যায়বিচারের নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এসব বিধান নির্ধারণ করা প্রয়োজন।

আইনটি চূড়ান্ত করার আগে আইনবিদ, প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ, গণমাধ্যমকর্মী এবং নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণে উন্মুক্ত আলোচনা ও পর্যালোচনার উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।
বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেছেন এইচআরএফবির বিশেষজ্ঞ সদস্য হামিদা হোসেন, সুলতানা কামাল, রাজা দেবাশীষ রায়, আইন ও সালিশ কেন্দ্রের চেয়ারম্যান জেড আই খান পান্না এবং সংস্থাটির আহ্বায়ক তাহমিনা রহমান। এছাড়া স্বাক্ষর করেন স্টিয়ারিং কমিটির সদস্য শাহীন আনাম, জাকির হোসেন, সারা হোসেন, রঞ্জন কর্মকার, সালেহ আহমেদ ও সঞ্জীব দ্রং।
বিবৃতিতে স্বাক্ষরকারীর মধ্যে আরও রয়েছেন টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান, বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সভানেত্রী ফওজিয়া মোসলেম, এএলআরডির নির্বাহী পরিচালক শামসুল হুদা, নিজেরা করির সমন্বয়ক খুশী কবির, এসিড সারভাইভার্স ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক সরদার জাহাঙ্গীর হোসেন, বাংলাদেশ দলিত ও বঞ্চিত জনগোষ্ঠী অধিকার আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক শিপন কুমার রবিদাস, বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব লেবার স্টাডিজের নির্বাহী পরিচালক সৈয়দ সুলতান উদ্দিন আহমেদ এবং ফেয়ারের নির্বাহী পরিচালক দেওয়ান জামান।

আরও পড়ুন

×