আধিপত্যের লড়াইয়ে প্রাণ গেল ব্যবসায়ীর, আহত ৯ জন
সমকাল ডেস্ক
প্রকাশ: ২৩ জুন ২০২৬ | ০৮:২৩
| প্রিন্ট সংস্করণ
পাবনার চাটমোহর এবং সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় স্থানীয় আধিপত্য ও অভ্যন্তরীণ কোন্দলকে কেন্দ্র করে পৃথক দুটি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় দুই পক্ষের সংঘর্ষে চিকিৎসাধীন অবস্থায় এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। অন্যদিকে পাবনার চাটমোহরে বিএনপির দুই পক্ষের দফায় দফায় সংঘর্ষে দলটির নেতাসহ অন্তত ৯ জন আহত হয়েছেন।
সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষে আজাদ তালুকদার মোনা (৫৮) নামের এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। বগুড়ার টিএমএসএস হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গতকাল সোমবার ভোরে তিনি মারা যান। এর আগে গত শনিবার রাতে উল্লাপাড়া পৌরসভার ঝিকিড়া মহল্লায় এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। নিহত মোনা ওই মহল্লার শহিদ তালুকদারের ছেলে। এই ঘটনায় মোনার ভাই মনি তালুকদারও আহত হয়ে একই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঝিকিড়া মহল্লার আজাদ তালুকদার মোনার দলের সঙ্গে একই মহল্লার সোহেল ও ইয়ামেন তালুকদারের দলের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে আধিপত্য ও প্রভাব বিস্তার নিয়ে গোলযোগ চলে আসছিল। এরই জের ধরে গত শনিবার রাতে দুই পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এতে মোনা ও তাঁর ভাই মনিসহ কয়েকজন আহত হন। গুরুতর অবস্থায় তাদের বগুড়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হলে সেখানে মোনা মারা যান।
নিহতের ছেলে রায়হান তালুকদার অভিযোগ করেন, প্রতিপক্ষ সোহেল ও ইয়ামেনসহ তাদের লোকজন তাঁর বাবাকে বেধড়ক পেটায়, ইট দিয়ে আঘাত করে এবং কুপিয়ে জখম করে। তিনি এই হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
উল্লাপাড়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মোক্তারুজ্জামান জানান, মোনা হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় সোমবার বেলা ১১টার দিকে তাঁর ছেলে রায়হান বাদী হয়ে ১৩ জনকে আসামি করে একটি খুনের মামলা দায়ের করেছেন। পুলিশ আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চালাচ্ছে।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও উপপরিদর্শক হেলাল আল মামুন জানান, লাশ ময়নাতদন্তের জন্য সিরাজগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে এবং সংঘর্ষের মূল কারণ উদঘাটনে তদন্ত চলছে।
পাবনার চাটমোহরে এলাকার আধিপত্য বিস্তার ও মাদকবিরোধী মিছিলকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের দুই পক্ষের সংঘর্ষে অন্তত ৯ জন আহত হয়েছেন। গত শনিবার দিবাগত রাত সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার গুনাইগাছা ইউনিয়নের চরপাড়া গ্রামে প্রথম দফা এবং সোমবার সকালে দ্বিতীয় দফায় এই সহিংসতার ঘটনা ঘটে। আহতদের মধ্যে ৭ জনকে চাটমোহর ও পার্শ্ববর্তী ভাঙ্গুড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
আহতরা হলেন- চাটমোহর উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক ভিপি সেলিম রেজা, গুনাইগাছা ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি শফিকুল ইসলাম আলাল, আবুল বাশার নবীর চাঁদ, হৃদয় হোসেন, সোহান হোসেন, কেতাব আলী এবং মিজানুর রহমান। সর্বশেষ সোমবার সকালে আলাল গ্রুপের বশির উদ্দিন নামের আরেকজনকে মারপিট করে আহত করা হয়।
জানা গেছে, সম্প্রতি চরপাড়া এলাকায় স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা আলালের নেতৃত্বে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে মাদক বিক্রির অভিযোগ এনে বিক্ষোভ মিছিল করা হয়। পরে ওই ব্যক্তি আলালসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দেন। এই অভিযোগের পেছনে উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক ভিপি সেলিম রেজার সহযোগিতা রয়েছে– এমন দাবি করে তাঁর বিরুদ্ধে মাঠে নামে আলাল গ্রুপ।
শনিবার রাতে আলাল গ্রুপের মিছিল থেকে সেলিম রেজার বিরুদ্ধে স্লোগান দেওয়া হলে দুই পক্ষের মধ্যে প্রথম সংঘর্ষ বাধে। পরে রাত সাড়ে ৯টার দিকে সেলিম রেজা মোটরসাইকেলে চাটমোহরে ফেরার পথে আবারও তাঁর ওপর হামলা ও মারপিটের ঘটনা ঘটে।
সেলিম রেজা বলেন, ‘আলাল, হেলাল ও মুক্তার গং মাদকসেবীদের নিয়ে আমার বিরুদ্ধে উস্কানিমূলক মিছিল বের করে। এলাকার লোকজন বাধা দিলে তারা আমাকেও লাঞ্ছিত ও মারধর করে।’ অন্যদিকে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা আলাল পাল্টা দাবি করেন, ‘সেলিম রেজা মাদক ব্যবসায়ীদের আশ্রয় দিয়েছেন। তাঁর স্বজনরা আওয়ামী লীগের সঙ্গে জড়িত। আমাদের মাদকবিরোধী কর্মসূচিতে তাঁর লোকজন ও বহিরাগতরা হামলা চালিয়েছে।’
চাটমোহর থানার ওসি অলিউর রহমান জানান, এই ঘটনায় উভয় পক্ষ থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন। বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
- বিষয় :
- নিহত
