ঢাকা মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬

অসংক্রামক রোগে বাড়ছে অকালমৃত্যু

অসংক্রামক রোগে  বাড়ছে অকালমৃত্যু
×

 সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ২৩ জুন ২০২৬ | ০৮:২৭

| প্রিন্ট সংস্করণ

দেশে অসংক্রামক রোগ নীরব মহামারির মতো বিস্তার লাভ করছে। বর্তমানে হৃদরোগ, ডায়াবেটিস, ক্যান্সার, দীর্ঘস্থায়ী শ্বাসতন্ত্রের রোগ ও মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যার মতো অসংক্রামক রোগে মারা যায় মোট মৃত্যুর ৭১ শতাংশেরও বেশি। উদ্বেগজনক বিষয় হলো, এসব মৃত্যুর প্রায় ৫১ শতাংশ অকালমৃত্যু। এটি শুধু জনস্বাস্থ্যের জন্য নয়, দেশের উৎপাদনশীলতা ও টেকসই উন্নয়নের জন্যও বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে।
গতকাল সোমবার সচিবালয়ে অসংক্রামক রোগ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণে গঠিত সমন্বয় কমিটির উচ্চপর্যায়ের সভায় এসব কথা বলেন সংশ্লিষ্টরা। সভায় অসংক্রামক রোগ মোকাবিলায় নতুন ও উদ্ভাবনী উদ্যোগ নেওয়ার পাশাপাশি সময়সীমাভিত্তিক কর্মপরিকল্পনা তৈরির ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির সভাপতিত্বে সভায় যৌথ ঘোষণায় স্বাক্ষর করা ৩৫টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সিনিয়র সচিব ও সচিবরা অংশ নেন। স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ ও মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ যৌথভাবে সভার আয়োজন করে। এতে কারিগরি সহযোগিতা দেয় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)।

সভায় মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, অসংক্রামক রোগ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। প্রচলিত চিন্তার বাইরে গিয়ে কার্যকর ও উদ্ভাবনী উদ্যোগ গ্রহণের প্রয়োজন রয়েছে। তিনি বলেন, ‘সুস্থ থাকতে হলে মানুষকে হাঁটাচলা ও কায়িক পরিশ্রম বাড়াতে হবে। কোনো কোনো দেশে মানুষ প্রতিদিন অন্তত তিন কিলোমিটার হাঁটে। যদি মানুষকে বোঝানো যায় যে চিকিৎসার চেয়ে প্রতিরোধ বেশি গুরুত্বপূর্ণ, তাহলে অসংক্রামক রোগ কমিয়ে আনা সম্ভব।

তিনি আরও বলেন, অসংক্রামক রোগ মোকাবিলায় গত বছরের ২০ আগস্ট ৩৫টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগের অংশগ্রহণে যৌথ ঘোষণা স্বাক্ষরিত হয়। এর ধারাবাহিকতায় চলতি বছরের ১৯ জানুয়ারি মন্ত্রিপরিষদ সচিবের নেতৃত্বে সমন্বয় কমিটি গঠন করা হয়। সভায় বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগ কয়েকটি অগ্রাধিকার ক্ষেত্র চিহ্নিত করে। এর মধ্যে রয়েছে— সব নীতিতে স্বাস্থ্যবিষয়ক দৃষ্টিভঙ্গি অন্তর্ভুক্ত করা, সমন্বিতভাবে জনসচেতনতা বাড়ানো, মন্ত্রণালয়ভিত্তিক সময়সীমা নির্ধারিত কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন, প্রয়োজনীয় অর্থ ও কারিগরি সহায়তা নিশ্চিত করা এবং অগ্রগতি মূল্যায়নে পরিমাপযোগ্য সূচক নির্ধারণ।
সভায় কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। আগামী এক মাসের মধ্যে সব মন্ত্রণালয় ও বিভাগকে একজন করে জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাকে ফোকাল পয়েন্ট হিসেবে মনোনয়ন দিতে হবে। এ ছাড়া বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সুপারিশ করা সীমিত অর্থ ও সম্পদ ব্যবহার করে মানুষের জীবন বাঁচানো এবং রোগের বোঝা কমানোর সবচেয়ে কার্যকর উপায়গুলোর কার্যক্রম ও যৌথ ঘোষণা বাস্তবায়ন বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। আগামী তিন মাসের মধ্যে প্রতিটি মন্ত্রণালয়কে নিজ নিজ খাতভিত্তিক কর্মপরিকল্পনা তৈরি করতে বলা হয়েছে। এতে বাস্তবায়ন, পর্যবেক্ষণ ও অগ্রগতি মূল্যায়নের বিষয় অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

আরও পড়ুন

×