ঢাকা বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল

বাড্ডায় হত্যা মামলায় মেনন ও কামরুলের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য গ্রহণ শুরু

বাড্ডায় হত্যা মামলায় মেনন ও কামরুলের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য গ্রহণ শুরু
×

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ২৪ জুন ২০২৬ | ০৮:৫০

| প্রিন্ট সংস্করণ

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় রাজধানীর বাড্ডা এলাকায় ২৩ জনকে হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের এক মামলায় বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি সাবেক মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন এবং নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য সাবেক মন্ত্রী কামরুল ইসলামের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু হয়েছে। বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদের নেতৃত্বাধীন দুই সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ গতকাল মঙ্গলবার প্রসিকিউশনের সূচনা বক্তব্য উপস্থাপন ও প্রথম সাক্ষ্য গ্রহণের মধ্য দিয়ে এ মামলার বিচারকার্য শুরু হয়। 

এদিন দুই আসামির উপস্থিতিতে ট্রাইব্যুনালে সূচনা বক্তব্য উপস্থাপন করেন প্রসিকিউটর সুলতান মাহমুদ। তিনি এ মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ পড়ে শোনান। একই সঙ্গে সাক্ষীদের কিছু বর্ণনা দেন। এরপর প্রথম সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দেন ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট আন্দোলনে অংশ নেওয়া কলেজছাত্র সাকিব আহমেদ তুলন। তাঁর সামনেই পুলিশের গুলিতে শহীদ হন আরেক ছাত্র মারুফ নামে একজন। তবে প্রসিকিউশন ও আসামিপক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সাক্ষ্য গ্রহণ অসমাপ্ত রেখে আগামী ২৯ জুন পর্যন্ত মুলতবি রাখেন ট্রাইব্যুনাল। 

জবানবন্দিতে তিনি বলেন, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই জুমার নামাজের পর মারুফ, মারুফের মামা ফয়সাল ও রাজিব মিলে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে মিছিলে অংশ নিই। ওই সময় রামপুরা ব্রিজের দিকে যারা যাচ্ছেন, তাদেরই পুলিশ ও বিজিবি গুলি করে মেরে ফেলতে দেখি। রামপুরা ব্রিজের সামনে ব্যারিকেড দেওয়া ছিল। আমি পাঁচজনকে গুলিবিদ্ধ হয়ে মৃত অবস্থায় দেখেছি। এক পর্যায়ে আমরা চারজন ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে থেকে রামপুরার ব্রিজের দিকে এগিয়ে যাই। মাগরিবের আগে রামপুরা ব্রিজের দিক থেকে আসা গুলির একটি প্রকট শব্দ শুনতে পাই। তখনই মারুফকে রাস্তার পাশে ফুটপাতের ওপর পড়ে যেতে দেখি। সামনে যেতেই দেখি তাঁর তলপেটের ডান পাশে গুলি লেগেছে। মারুফ আমাকে বলে, ‘মামা আমার গুলি লেগেছে, আমাকে বাঁচাও’। এরপর অচেতন হয়ে যায়। একটি অ্যাম্বুলেন্স করে তাকে এএমজেড হাসপাতালে নিয়ে যাই। এর মধ্যে মারুফের অনেক রক্তক্ষরণ হচ্ছিল। আবুল হোটেল অতিক্রম করে শান্তিনগর ব্রিজে ওঠার আগেই মারুফ মারা যায়। 

আরও পড়ুন

×