ঢাকা বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬

কক্সবাজার ও কুয়াকাটায় পর্যটক কমেছে

কক্সবাজার ও কুয়াকাটায় পর্যটক কমেছে
×

 ইব্রাহিম খলিল মামুন, কক্সবাজার ও  আসাদুজ্জামান মিরাজ, কুয়াকাটা (পটুয়াখালী) 

প্রকাশ: ২৪ জুন ২০২৬ | ০৮:৫৬ | আপডেট: ২৪ জুন ২০২৬ | ০৯:৩৮

| প্রিন্ট সংস্করণ

দেশের জনপ্রিয় কক্সবাজার সমুদ্রসৈকত পর্যটক হারাচ্ছে। সাধারণত ঈদ বা টানা ছুটিতে কক্সবাজারে বেশ ভিড় থাকে। হোটেল, রিসোর্ট ও গেস্ট হাউসগুলোতে বুকিং দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। তবে গত কোরবানির ঈদের চিত্র ছিল ভিন্নরকম। একই অবস্থা পটুয়াখালীর কুয়াকাটায়। অব্যবস্থাপনার কারণে সেখানেও পর্যটক কমছে।  
পর্যটকরা বলছেন, গরমের কারণে কক্সবাজারে খুব একটা পর্যটক যাচ্ছে না। তবে পর্যটন-সংশ্লিষ্টরা  বলছেন ভিন্ন কথা। তাদের মতে, কেবল কার, টয় ট্রেন, লেক-শো, ডলফিন শো, অ্যামিউজমেন্ট পার্ক, শিশুপার্ক ছাড়াই সেখানে গড়ে উঠেছে পর্যটনশিল্প। 

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতে প্রতিবছর ৭০ থেকে ৮০ লাখ পর্যটক ভ্রমণ করেন বলে মনে করেন হোটেলমালিকরা। তবে পর্যটক গণনার নির্ভরযোগ্য কোনো পদ্ধতি বা তথ্যভান্ডার নেই। 

হোটেল-গেস্ট হাউস মালিক সমিতির তথ্যমতে, কক্সবাজার শহর ও সৈকত এলাকায় পাঁচ শতাধিক হোটেল, রিসোর্ট ও গেস্ট হাউস আছে। এসব প্রতিষ্ঠানে দৈনিক পর্যটক ধারণক্ষমতা প্রায় ১ লাখ ৬৮ হাজার। এবার ঈদুল আজহার টানা সাত দিনের ছুটি এবং সাপ্তাহিক ছুটি মিলিয়ে অন্তত সাত লাখ পর্যটক কক্সবাজার ভ্রমণ করেছেন।

কক্সবাজার হোটেল-গেস্ট হাউস মালিক সমিতির সভাপতি আবুল কাশেম সিকদার সমকালকে বলেন, ঈদুল আজহার দিন থেকে সাপ্তাহিক ছুটিসহ ৬ জুন পর্যন্ত ১০ দিনে সাত লাখের মতো পর্যটক কক্সবাজার ভ্রমণ করেছেন। তবে এ সংখ্যা গত বছরের তুলনায় অনেক কম। তিনি জানান, এখন কক্সবাজার শহরের হোটেলগুলোয় দিনে ১০ থেকে ১৫ হাজার পর্যটক অবস্থান করছেন। অধিকাংশ হোটেল খালি। হোটেল ভাড়ায় সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ পর্যন্ত ছাড় দিয়েও পর্যটক পাওয়া যাচ্ছে না।

কক্সবাজার চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সভাপতি আবদুস শুক্কুর বলেন, গত ঈদুল ফিতরের আট দিনের ছুটিতে প্রায় ১২ লাখ পর্যটকের সমাগম হয়েছিল। তখন হোটেল, রেস্তোরাঁ ও বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হাজার কোটি টাকার ব্যবসা হয়েছিল। এবার ১০ দিনে সাত লাখ পর্যটক এসেছেন। এতে প্রায় ৬০০ কোটি টাকার ব্যবসা হয়েছে।

সম্প্রতি সৈকত ও এর আশপাশের কয়েকটি হোটেল, রিসোর্ট ও গেস্ট হাউস ঘুরে দেখা গেছে, পাঁচ শতাধিক হোটেলের প্রায় ৮০ শতাংশ কক্ষ খালি। সৈকতেও পর্যটকের উপস্থিতি তেমন একটা নেই। বৃষ্টির মধ্যে হাতেগোনা কিছু মানুষ সাগরে গোসল করছেন। কেউ বালুচরে ছাতার নিচে বসে সমুদ্র দেখছেন। কেউবা ছবি তুলছেন। 
কক্সবাজার ট্যুর অপারেটর অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আনোয়ার কামাল বলেন, কক্সবাজারে আসা বেশির ভাগ পর্যটকের প্রধান আকর্ষণ সমুদ্রে গোসল ও সূর্যাস্ত উপভোগ। পাশাপাশি কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ, হিমছড়ি, ইনানী সৈকত, সাবরাং ট্যুরিজম পার্ক, মাথিন কূপ, নাফ নদী, মহেশখালী ও রামুর বৌদ্ধপল্লিতেও পর্যটকরা ঘুরতে যান। পর্যটকদের ধরে রাখার মতো বিনোদনের জন্য কক্সবাজারে তেমন কিছু গড়ে ওঠেনি। 

কক্সবাজার ট্যুর অপারেটর অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি এস এম কিবরিয়া খান বলেন, কক্সবাজারে রাত্রিকালীন বিনোদনের ব্যবস্থা নেই। কেবল কার, টয় ট্রেন, লেক-শো, ডলফিন শো, অ্যামিউজমেন্ট পার্ক, শিশুপার্ক ছাড়াই গড়ে উঠেছে কক্সবাজারের পর্যটনশিল্প। এই শিল্পকে এগিয়ে নিতে এসব বিনোদনের সুবিধা রাখতে হবে।
জেলা রেস্তোরাঁ মালিক সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ আলী বলেন, দুবাই, থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া তাদের ছোট দ্বীপগুলো পর্যটনের জন্য উন্মুক্ত করেছে। কিন্তু কক্সবাজারে অ্যাডভেঞ্চারের সুযোগ কম। পর্যটকরা বিনোদন থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

গত ২৯ এপ্রিল অর্থনৈতিক বিষয়-সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি সিসিইএ কর্তৃক নীতিগত অনুমোদনের পর প্রকল্পের কাজ সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে ৯ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। এ কমিটির পর্যটন করপোরেশনের পরিচালক (পরিকল্পনা) মো. মাজেদুর রহমান।

অব্যবস্থাপনায় ম্লান ‘সাগরকন্যা’
‘সাগরকন্যা’ হিসেবে খ্যাত পটুয়াখালীর কুয়াকাটা অব্যবস্থাপনার কারণে জনপ্রিয়তা কমছে। স্থানীয় ব্যবসায়ী ও হোটেল মালিকদের মতে, কয়েক বছর আগেও ছুটির মৌসুমে কুয়াকাটার অধিকাংশ হোটেল ও রিসোর্টে কক্ষ পাওয়া কঠিন ছিল। বর্তমানে অনেক সময় অর্ধেক কক্ষও ভাড়া হচ্ছে না। পর্যটনসংশ্লিষ্টরা বলছেন, সৈকতের সৌন্দর্য ও সেবার মান ধরে রাখতে না পারলে কুয়াকাটা ভবিষ্যতে বড় ধরনের সংকটে পড়তে পারে।

পর্যটকদের অভিযোগ, সৈকতের বিভিন্ন স্থানে প্লাস্টিক বোতল, পলিথিন, খাবারের প্যাকেটসহ নানা ধরনের আবর্জনা ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকছে। এ ছাড়া উপকূল রক্ষায় স্থাপন করা জিওব্যাগ ও কংক্রিট কাঠামো সৈকতের নান্দনিকতা নষ্ট করেছে। 

জেলা প্রশাসক ও কুয়াকাটা বিচ ম্যানেজমেন্ট কমিটির আহ্বায়ক ড. মোহাম্মদ শহীদ হোসেন চৌধুরী বলেন, কুয়াকাটার উন্নয়ন নিয়ে পর্যটন মন্ত্রণালয় কাজ করছে। জিও ব্যাগ এবং কংক্রিটের অংশ অপসারণের জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ডকে বলা হয়েছে। ট্যুরিস্ট পুলিশের তৎপরতা বাড়াতে বলা হয়েছে। ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের আচরণগত উন্নয়নের জন্য মনিটরিং ও ক্যাম্পেইন চলমান। 
 

আরও পড়ুন

×