চীন সফর
বিনিয়োগ ও উন্নয়নে ১৩ সমঝোতা স্মারক সই
ছবি-সংগৃহীত
সমকাল ডেস্ক
প্রকাশ: ২৬ জুন ২০২৬ | ০৯:৫৫ | আপডেট: ২৬ জুন ২০২৬ | ১০:১৩
| প্রিন্ট সংস্করণ
চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াংয়ের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। গতকাল বৃহস্পতিবার বেইজিংয়ের গ্রেট হল অব দ্য পিপলে এই বৈঠক হয়েছে। এতে দুই দেশের সম্পর্কের রূপরেখা, বাণিজ্য ঘাটতি কমানো, নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং পারস্পরিক সহযোগিতার বিষয়ে আলোচনা হয়।
বৈঠকে বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। চীনের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াং। বৈঠক শেষে দুই প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে ১৩টি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই হয়েছে।
বৈঠকের পর প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন সংবাদ সম্মেলনে বলেন, যৌথ উন্নয়ন উদ্যোগ, বিনিয়োগ, চীনে রপ্তানি বাড়ানোসহ বিভিন্ন বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ সমঝোতা হয়েছে। তিস্তা প্রকল্পে চীন বাংলাদেশের পাশে থাকার আগ্রহ প্রকাশ করেছে। তিস্তার বিষয়ে একটা মহাপরিকল্পনা রয়েছে যেটা বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারে পঠিত হয়েছে। তার আলোকে এই মহাপরিকল্পনার পরিকল্পনা পর্যায় থেকে শুরু করে কারিগরি সহায়তা করা– সর্বক্ষেত্রে ধারাবাহিকভাবে তারা সম্পৃক্ত হবে বলে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। খবর বাসস ও ইউএনবির।
বিকেলে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন দিয়াওইউতাই থেকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মোটর শোভাযাত্রা সহকারে গ্রেট হলে পৌঁছালে চীনের প্রধানমন্ত্রী তাঁকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান। শুভেচ্ছা বিনিময় এবং দুই দেশের প্রতিনিধিদের সঙ্গে পরিচয় পর্বের পর প্রধানমন্ত্রীকে লাল গালিচা দিয়ে অভিবাদন মঞ্চে নিয়ে যান লি কিয়াং। অভিবাদন মঞ্চে তারেক রহমান ও লি কিয়াংকে সশস্ত্র সালাম দেয় চীনের সশস্ত্র বাহিনীর সুসজ্জিত একটি চৌকস দল। এ সময় দুই দেশের জাতীয় সংগীত বাজানো হয়। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে অভিবাদন জানিয়ে তোপধ্বনি দেওয়া হয়। পরে দুই প্রধানমন্ত্রী সশস্ত্র বাহিনীর প্যারেড পরিদর্শন করেন।
স্থানীয় সময় বিকেল ৫টায় শুরু হওয়া দ্বিপক্ষীয় বৈঠক পৌনে ৬টায় শেষ হয়। এতে বাংলাদেশের প্রতিনিধি দলে ছিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান, তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির, অর্থনীতি ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, শিক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন, পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়ামসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের সদস্যদের সম্মানে গ্রেট হল অব দ্য পিপলে রাষ্ট্রীয় ভোজের আয়োজন করেন চীনের প্রধানমন্ত্রী।
শিক্ষা-স্বাস্থ্যসহ বিভিন্ন বিষয়ে সমঝোতা স্মারক
বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে সমঝোতা স্মারকগুলোয় সই করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান, তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপনসহ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। বৈঠকের পর সন্ধ্যায় সংবাদ সম্মেলনে মাহদী আমিন জানান, সমঝোতা স্মারকগুলো মূলত বিনিয়োগ সহযোগিতাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়ানোর লক্ষ্যে সই করা হয়েছে। এ ছাড়া বৈঠকে একটি যৌথ কর্মপরিকল্পনা (জয়েন্ট অ্যাকশন প্ল্যান) নিয়েও আলোচনা হয়েছে।
তিনি বলেন, আমাদের গ্লোবাল ডেভেলপেন্ট ইনিশিয়েটিভ, অর্থাৎ যার অধীনে স্বাস্থ্য, শিক্ষা এবং দক্ষতা উন্নয়ন সম্পর্কিত বিষয়গুলো রয়েছে, সেগুলো নিয়ে এমওইউ হয়েছে। একই সঙ্গে মানবসম্পদ উন্নয়নে পৃথক কো-অপারেশন প্ল্যান সই হয়েছে। বাংলাদেশ থেকে আমাদের জাতীয় ফল কাঁঠালের রপ্তানি বিষয়েও একটা এমওইউ হয়েছে। তিনি বলেন, টেকনিক্যাল ও ভোকেশনাল শিক্ষার ক্ষেত্রে সহযোগিতায় দুটো পৃথক এমওইউ হয়েছে। গণমাধ্যম খাতে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা জোরদার, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং তথ্য আদান-প্রদান বৃদ্ধির লক্ষ্যে চারটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির বলেন, দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে চীন সরকার বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতি তাদের সম্পূর্ণ সমর্থনের কথা জানিয়েছেন। শিক্ষা, সংস্কৃতি, বাণিজ্যসহ সব বিষয়ে চীন বাংলাদেশের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করতে চায়। প্রধানমন্ত্রী রোহিঙ্গা সমস্যা নিয়েও কথা বলেছেন। এ বিষয়ে চীন বাংলাদেশের পাশে থাকবে বলে আশ্বস্ত করেছে।
চীনা কোম্পানিগুলোর প্রতি বিনিয়োগ আহ্বান
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চীনের বিনিয়োগকারীদের পরবর্তী এশীয় অর্থনৈতিক বিস্ময় রচনায় অংশীদার হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। বেইজিংয়ের দিয়াওইউতাই হোটেলে গতকাল বাংলাদেশ ইনভেস্টমেন্ট ফোরামে ব্যবসায়ী নেতা, শিল্পপতি ও প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের উদ্দেশে প্রধান অতিথির ভাষণে তিনি এ আহ্বান জানান। বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
প্রধানমন্ত্রী চীনা কোম্পানিগুলোকে বাংলাদেশে বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘ক্রমবর্ধমান বৃহৎ অভ্যন্তরীণ বাজারের সুবিধা গ্রহণের পাশাপাশি আমরা চীনা কোম্পানিগুলোকে বৈশ্বিক বাজারে আরও কার্যকরভাবে সেবা দিয়ে সহায়তা করতে পারি। বাংলাদেশ আপনাদের এশিয়ার পরবর্তী অর্থনৈতিক বিস্ময়ের অংশীদার হওয়ার আমন্ত্রণ জানাচ্ছে। ইতোমধ্যে বহু চীনা বিনিয়োগকারী বাংলাদেশে সফলভাবে ব্যবসা পরিচালনা করছেন। তারা আমাদের জনগণের কর্মক্ষমতা, সহনশীলতা এবং বিপুল সম্ভাবনার কথা তুলে ধরতে পারেন। তারা বলতে পারেন, বাংলাদেশ সফল হতে পারে।’ তিনি বিনিয়োগকারীদের আশ্বস্ত করে বলেন, ‘তাদের বিনিয়োগ যথাযথ মূল্যায়ন পাবে; উদ্বেগ ও প্রত্যাশার বিষয়গুলো গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করা হবে এবং আরও গতিশীল ও সংবেদনশীল বিনিয়োগ পরিবেশের মাধ্যমে তাদের প্রবৃদ্ধিকে সমর্থন করা হবে।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশ এক বিশাল অর্থনৈতিক ও প্রশাসনিক রূপান্তরের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। আমরা আমাদের যাত্রাপথের এক গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছি। আমি স্পষ্টভাবে বলতে পারি, বাংলাদেশ ব্যবসার জন্য উন্মুক্ত, ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত এবং আমাদের অন্যতম দীর্ঘদিনের ও বিশ্বস্ত বন্ধু চীনের সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী।’ তিনি উল্লেখ করেন, চীন এখন বৈশ্বিক মূল্যশৃঙ্খলের আরও উচ্চস্তরে এগিয়ে যাচ্ছে। চীনা কোম্পানিগুলো উন্নত উৎপাদন শিল্প, উচ্চ মূল্যের অবকাঠামো এবং পরিচ্ছন্ন জ্বালানি খাতে নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা করছে। চীন যখন শিল্প ও প্রযুক্তিগত উৎকর্ষের আরও উচ্চ ধাপে এগিয়ে যাচ্ছে, তখন উৎপাদন ব্যবস্থার কিছু অংশ নতুন, প্রতিযোগিতামূলক ও নির্ভরযোগ্য গন্তব্যের সন্ধান করবে। বাংলাদেশ সেই সম্ভাবনাময় গন্তব্যগুলোর একটি হতে পারে।
তারেক রহমান বলেন, ‘আমরা চীনা বিনিয়োগকারীদের জন্য বিশেষ শিল্পাঞ্চল গড়ে তুলছি। এর মধ্যে রয়েছে আনোয়ারায় চীনা অর্থনৈতিক ও শিল্পাঞ্চল এবং মোংলায় দ্বিতীয় অর্থনৈতিক অঞ্চল। এসব অঞ্চলে উন্নত লজিস্টিকস সুবিধা, সমুদ্রবন্দর সংযোগ, নিরবচ্ছিন্ন ইউটিলিটি সেবা, দক্ষ শ্রমশক্তি, সরবরাহকারী নেটওয়ার্ক এবং দীর্ঘমেয়াদি শিল্প-পরিবেশ নিশ্চিত করা হবে।’ তিনি বলেন, ‘বিডা এখন চীনা বিনিয়োগকারীদের জন্য বিশেষায়িত সম্পর্ক ব্যবস্থাপনা ডেস্ক চালু করেছে। পাশাপাশি চীনা বিনিয়োগকারীদের জন্য একটি বিশেষায়িত ওয়েবসাইটও চালু করা হয়েছে, যাতে তারা বিভিন্ন খাতের বিনিয়োগ সম্ভাবনা, প্রণোদনা ও প্রক্রিয়া সম্পর্কে সহজে তথ্য পেতে পারেন।’
প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা দেন, খুব শিগগিরই চীনে বাংলাদেশে প্রথম বিনিয়োগ কার্যালয় চালু করা হবে। সরকার সামগ্রিক বিনিয়োগ পরিবেশ উন্নয়নেও জোর দিচ্ছে। নতুন লাইসেন্স অনুমোদন ব্যবস্থা চালুর প্রস্তুতি চলছে। যার ফলে নতুন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ১৫ দিনেরও কম সময়ে বাংলাদেশে কার্যক্রম শুরু করতে পারবে। ভাষণ শেষে তিনি চীনা বিনিয়োগকারীদের উদ্দেশে বলেন, ‘বাংলাদেশে আসুন, বাংলাদেশে বিনিয়োগ করুন। সমমর্যাদার এক প্রকৃত অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে আমরা একসঙ্গে সমৃদ্ধির নতুন দিগন্ত উন্মোচন করি।’
অনুষ্ঠানে বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী চীনা ব্যবসায়ী নেতাদের সামনে বাংলাদেশের বিনিয়োগ সম্ভাবনা ও প্রণোদনা নিয়ে একটি বিশেষ উপস্থাপনা তুলে ধরেন। সম্মেলনে ১২৫ জন চীনা ব্যবসায়ী প্রতিনিধি অংশ নেন।
তিস্তাসহ বিভিন্ন নদী ব্যবস্থাপনায় ঐকমত্য
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠক করেছেন চীনের পানিসম্পদমন্ত্রী লি গোওইং। বৈঠকে তিস্তাসহ বাংলাদেশের বিভিন্ন নদীর ব্যবস্থাপনায় দুই দেশের সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে ঐকমত্য হয়। গতকাল দুপুরে বেইজিংয়ে রাষ্ট্রীয় দিয়াওইউতাই অতিথি ভবনে এ বৈঠক হয়।
প্রধানমন্ত্রী বৈঠকে বন্যার ঝুঁকি মোকাবিলা, পরিবেশ সুরক্ষা এবং পানিসম্পদের যথাযথ ব্যবস্থাপনার লক্ষ্যে দেশে চলমান নদী খনন কর্মসূচির কথা উল্লেখ করেন এবং বাংলাদেশের পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনায় চীন সরকারের সহযোগিতা চান। প্রধানমন্ত্রী তিস্তা ব্যবস্থাপনা প্রকল্পে চীন সরকারের কারিগরি সহায়তাও প্রত্যাশা করেন। চীনের পানিসম্পদমন্ত্রী সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস দেন। তিনি ২০০৫ সালে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক এবং গত বছর চীনের পানি বিশেষজ্ঞদের বাংলাদেশ সফরের কথা উল্লেখ করে বলেন, পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে বিদ্যমান দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা বাস্তবভিত্তিক ও গবেষণানির্ভর।
প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের নদীভাঙন রোধ, সেচ ব্যবস্থাপনা এবং নৌ-নেভিগেশন উন্নয়নে চীন সরকারের সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন। চীনের পানিসম্পদমন্ত্রী বলেন, পানি ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশ চীনের অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে পারে। তিনি বাংলাদেশের পানি বিশেষজ্ঞ এবং এ খাতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের চীনে প্রশিক্ষণ গ্রহণের আহ্বান জানান। চীনের পানিসম্পদমন্ত্রী এ সময় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে একটি বই উপহার দেন।
চীনের কমিউনিস্ট পার্টির আন্তর্জাতিক বিভাগের মন্ত্রীর সাক্ষাৎ
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন চীনের কমিউনিস্ট পার্টির আন্তর্জাতিক বিভাগের মন্ত্রী লিউ হাইশিং। বৃহস্পতিবার সকালে বেইজিংয়ের রাষ্ট্রীয় দিয়াওইউতাই অতিথি ভবনে সাক্ষাৎ করেন তিনি।
বৈঠকের শুরুতে লিউ হাইশিং তারেক রহমানকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করায় অভিনন্দন জানান। তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার ৯ বার চীন সফরের কথাও উল্লেখ করেন। তিনি জানান, ২০০১ সালে খালেদা জিয়ার চীন সফরের ছবি তাঁর সম্মানে চীনের কমিউনিস্ট পার্টির জাদুঘরে সংরক্ষিত রয়েছে।
লিউ হাইশিং বিএনপি ও চীনের কমিউনিস্ট পার্টির মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের (এমওইউ) কথা উল্লেখ করে দুই দলের মধ্যে যোগাযোগ ও সহযোগিতা আরও জোরদারের আগ্রহ প্রকাশ করেন। বিশেষ করে গণমাধ্যম, গবেষক, জনগণের মধ্যে যোগাযোগ এবং জীবনমান উন্নয়নের ক্ষেত্রে ভবিষ্যতে সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র তৈরি হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প এবং চীন-বাংলাদেশ মৈত্রী হাসপাতাল নির্মাণে চীনের সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন। তিনি দুই দেশের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের ঐতিহ্য ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
চীনের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে তারেক রহমানের বৈঠক আজ
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আজ শুক্রবার স্থানীয় সময় সকাল ১০টায় বেইজিংয়ের গ্রেট হল অব দ্য পিপলে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠক করবেন।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন বলেন, চীনের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বৈঠকে বাংলাদেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরবেন প্রধানমন্ত্রী। এ বৈঠক বাংলাদেশের মানুষের উন্নয়ন-অগ্রযাত্রা আরও সুসংহত করার লক্ষ্যে ইতিবাচক ফল বয়ে আনবে। ভবিষ্যতে বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ক বহুমাত্রিক ক্ষেত্রে আরও গভীর হবে উল্লেখ করে মাহদী আমিন বলেন, কৌশলগত সহযোগিতা থেকে শুরু করে বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান এবং উন্নয়ন প্রকল্প থেকে জনগণের সঙ্গে জনগণের সম্পর্ক– সর্বক্ষেত্রে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পৃক্ততা নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে বলে আমরা মনে করি।
আজ সফরের শেষ দিনে প্রধানমন্ত্রীর অন্যান্য কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে সকালে ন্যাশনাল পিপলস কংগ্রেসের ন্যাশনাল স্ট্যান্ডিং কমিটির চেয়ারম্যান ঝাও লেজির সঙ্গে গ্রেট হলে সাক্ষাৎ এবং চীনের জাদুঘর পরিদর্শন। সফর শেষে বিকেল ৫টায় বেইজিং থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হবেন প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর সফরসঙ্গীরা।
- বিষয় :
- বৈঠক
- সমঝোতা স্মারক
