দুর্যোগের মধ্যে এইচএসসি পরীক্ষা নিয়ে তোপের মুখে শিক্ষামন্ত্রী
টানা বৃষ্টি ও জলাবদ্ধতার মধ্যে এইচএসসি পরীক্ষা নেওয়ার প্রতিবাদে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলনের পদত্যাগসহ তিন দফা দাবিতে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে নগরীর ষোলশহর চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের সামনে সমকাল
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১৫ জুলাই ২০২৬ | ০৮:৩০
| প্রিন্ট সংস্করণ
পরীক্ষার্থীদের ফার্মের মুরগির সঙ্গে তুলনা করায় শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে নামার পর জাতীয় সংসদে ওই বক্তব্যের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। গতকাল মঙ্গলবার একটি বিলের ওপর আলোচনাকালে তিনি বলেন, আমার ব্যক্তিগত মন্তব্য, সেটি নিয়ে অনেকে আপত্তি করেছেন। সেই ব্যাপারে বলতে চাই, আমি কাউকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে কিছু বলতে চাইনি। যদি কেউ আহত হয়ে থাকেন, আমি দুঃখ প্রকাশ করছি।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের পড়ার টেবিলে ফিরে যাওয়ার অনুরোধ জানিয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেছেন, শিক্ষার্থীরা যার যার পড়ার টেবিলে ফিরে যাক। আমরাই উদ্বিগ্ন তাদের চেয়ে বেশি– কীভাবে পরীক্ষা সঠিকভাবে নেব; কীভাবে এ দুর্যোগ মোকাবিলা করব। আমরা আশ্বাস দিচ্ছি, যেসব পরীক্ষাকেন্দ্রে ভুলত্রুটি হয়েছে, সেখানে পুনরায় পরীক্ষা নেওয়ার বিধান আমাদের রয়েছে।
এ ছাড়া চলমান বন্যা পরিস্থিতির কারণে স্থগিত হওয়া চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষাগুলো নতুন প্রশ্নপত্র সেটে পুনরায় গ্রহণ করা হবে বলে জানিয়েছেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, সার্বিক বিষয় বিবেচনা করে মন্ত্রণালয় সিদ্ধান্ত নিয়েছে, চট্টগ্রাম বোর্ডের জন্য পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, যুক্তিবিদ্যা এবং হিসাববিজ্ঞান বিষয়ের পরীক্ষা অন্য আরেকটি প্রশ্নপত্র সেটে নেওয়া হবে।
এর আগে দুইজন সংসদ সদস্য চলমান বৃষ্টি-বন্যার পানির মধ্যে পরীক্ষা এক-দুদিন পিছিয়ে দিতে কী সমস্যা ছিল এবং শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ প্রশমনে সরকারের উদ্যোগ সম্পর্কে শিক্ষামন্ত্রীর কাছে জানতে চান। জবাবে এহছানুল হক বলেন, সংশ্লিষ্টরা বলেছিলেন, আবহাওয়া ভালো থাকবে। তাই পরীক্ষা বহাল রাখা হয়।
জামায়াতে ইসলামীর শফিকুল ইসলাম মাসুদ সম্পূরক প্রশ্নে শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ প্রশমনে সরকারের উদ্যোগ সম্পর্কে জানতে চান। জবাবে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, আমরা সকলেই উদ্বিগ্ন বর্ষা মৌসুমে পরীক্ষা নিয়ে। পরীক্ষা নিয়ে আমরা সার্বক্ষণিক মনিটরিংয়ে ছিলাম এবং আছি। সারাদিনই এ কাজটি করে থাকি। সেখানে দেখা গেছে, কোনো কোনো কেন্দ্রে পানি উঠে থাকলে তাৎক্ষণিক কেন্দ্র সরিয়ে দিয়েছি। স্থানীয় প্রশাসনকে আমরা এ দায়িত্ব দিয়েছি।
কুমিল্লার পরীক্ষাকেন্দ্রটির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, অন্য যেসব জায়গায় পানি উঠেছে, তা তেমন বেশি নয়, গুটিকয়েক; সেগুলো সঙ্গে সঙ্গে কেন্দ্র পাল্টানো হয়েছে। পরীক্ষার্থীদের যে সুবিধা দেওয়ার, তা হয়েছে। এ নিয়ে উদ্বিগ্ন ছিলাম। নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করে কাজটি করছি।
মন্ত্রী বলেন, শিক্ষার্থীরা আমাদের জাতির ভবিষ্যৎ। তাদের আমরা বঞ্চিত করতে পারি না; বঞ্চিত করব না।
অপর সম্পূরক প্রশ্নে স্বতন্ত্র সদস্য রুমিন ফারহানা বলেন, এইচএসসি পরীক্ষা চলছে। গত তিন-চার দিন ধরে ঢাকা-চট্টগ্রামসহ বড় বড় শহর পানির নিচে তলিয়ে গিয়েছিল। শিক্ষার্থীরা অনুরোধ করেছিল পরীক্ষা পেছানোর জন্য। কিন্তু এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। যে কারণে আজ ঢাকায় আন্দোলন হচ্ছে। এইচএসসির মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা এক-দুদিন পিছিয়ে দিতে কী সমস্যা ছিল, তা তিনি জানতে চান।
জবাবে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, সারাদেশে একযোগে পরীক্ষা নেওয়া হয়। এইচএসসি পরীক্ষার প্রায় ২ হাজার ৭০০টি কেন্দ্র রয়েছে এবং ৬৪টি জেলায় একই সময়ে পরীক্ষা শুরু হয়। চট্টগ্রামে বন্যার পর পর্যায়ক্রমে রাঙামাটি, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি এবং এরপর পুরো চট্টগ্রাম বোর্ডের পরীক্ষা স্থগিত করা হয়।
নিয়মিত পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, ৬৪ জেলার এসপি, আটটি বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার এবং প্রতিটি শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানের সঙ্গে আমরা কথা বলেছি। পাশাপাশি আবহাওয়া অধিদপ্তরের সঙ্গেও যোগাযোগ করেছি। তারা জানিয়েছিলেন, আর বৃষ্টি হবে না। বিকেল ৫টা পর্যন্ত আমরা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে সিদ্ধান্ত নিয়েছি। সংশ্লিষ্ট সবাই বলেছেন, আবহাওয়া ভালো থাকবে। সে কারণেই আমরা পরীক্ষা বহাল রেখেছি।
এহছানুল হক মিলন বলেন, কিন্তু সকালে ঘুম থেকে উঠে দেখি, কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজের মাঠ পানিতে ভরে গেছে। সঙ্গে সঙ্গে আমরা মেয়র, ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ এবং জেলা প্রশাসককে নির্দেশ দিই পরীক্ষাকেন্দ্র স্থানান্তরের ব্যবস্থা করতে। পরে পরীক্ষার্থীদের নৌকায় করে ওই স্কুলের পাঁচতলা ভবনে নিয়ে গিয়ে পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে। আমরা পুরো বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করেছি।
তিনি আরও বলেন, সারাদেশের জেলা প্রশাসকদের সঙ্গে কথা বলেছি। তারা জানিয়েছেন, কোথাও পরীক্ষা গ্রহণে কোনো ধরনের দুর্যোগজনিত সমস্যা হয়নি। শুধু কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজে এ ঘটনা ঘটেছে।
শিক্ষামন্ত্রী জানান, পদার্থবিজ্ঞান বিষয়ের ৬ ও ৭ নম্বর প্রশ্নে ভুল ছিল। ওই দুটি প্রশ্নের জন্য শিক্ষার্থীদের পূর্ণ নম্বর দেওয়া হবে।
কক্সবাজার-৩ আসনের লুৎফুর রহমানের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানিয়েছেন, ২০২৭ সালের এসএসসি পরীক্ষা জানুয়ারি এবং এইচএসসি পরীক্ষা জুনে নেওয়ার পরিকল্পনা করছে সরকার। পাবলিক পরীক্ষার সময়সূচি পুনর্বিন্যাসের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের একাডেমিক সময় সাশ্রয় এবং শিক্ষাবর্ষকে আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে আরও সামঞ্জস্যপূর্ণ করতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
- বিষয় :
- পরীক্ষা