বৃষ্টি বাড়লেও টানা ভারী বর্ষণের সম্ভাবনা কম
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১৭ জুলাই ২০২৬ | ০৯:২০
| প্রিন্ট সংস্করণ
উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপটি আরও ঘনীভূত হতে পারে। তবে এটি নিম্নচাপে রূপ নেওয়ার আশঙ্কা নেই বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর। এর প্রভাবে দেশের বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টিপাতের প্রবণতা বাড়তে পারে, যদিও গত কয়েক দিনের মতো সারাদেশে টানা ভারী বর্ষণের সম্ভাবনা কম।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ আফরোজা সুলতানা বলেন, জুলাইয়ে বৃষ্টিপাত স্বাভাবিকভাবেই বেশি হয়। দেশের বিভিন্ন স্থানে বিক্ষিপ্তভাবে বৃষ্টি হবে। তবে গত আট দিনের মতো টানা দুই থেকে তিন দিন সারাদেশে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা নেই।
গতকাল বৃহস্পতিবার আবহাওয়া অধিদপ্তরের বিশেষ বার্তায় বলা হয়, উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন উত্তর উড়িষ্যা-পশ্চিমবঙ্গ উপকূলীয় এলাকায় অবস্থানরত লঘুচাপটি একই এলাকায় রয়েছে এবং এটি আরও ঘনীভূত হতে পারে। এর প্রভাবে উত্তর বঙ্গোপসাগর, সমুদ্রবন্দর ও বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকায় ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। এ কারণে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্কসংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি সাগরে থাকা মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে উপকূলের কাছাকাছি থেকে সাবধানে চলাচলের পরামর্শ দিয়েছে আবহাওয়া অফিস।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের আরেকটি বিশেষ বুলেটিনে বলা হয়েছে, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, কুমিল্লা, নোয়াখালী, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার অঞ্চলের ওপর দিয়ে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ী দমকা বা ঝোড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি অথবা বজ্রবৃষ্টি হতে পারে। এসব এলাকার নদীবন্দরকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।
এদিকে লঘুচাপ ও অমাবস্যার প্রভাবে দক্ষিণাঞ্চলের নদনদীতে জোয়ারের পানি বাড়ছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) জানিয়েছে, তিন দিন ধরে দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন নদীর পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। গতকাল জোয়ারের সময় অন্তত ১২টি নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। এতে উপকূলীয় চরাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। বরিশাল নগরীর কীর্তনখোলা নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করায় কয়েকটি সড়কেও জোয়ারের পানি ঢুকে পড়ে।
পাউবোর পানি বিজ্ঞান বিভাগের উপসহকারী প্রকৌশলী তাইজুল ইসলাম বলেন, গত মঙ্গলবার থেকে দক্ষিণাঞ্চলের নদনদীর পানি বাড়ছে। অমাবস্যার প্রভাবে আগামী দুই দিন পানির উচ্চতা আরও কিছুটা বাড়তে পারে। তবে ভাটার সময় অধিকাংশ নদীর পানি আবার বিপৎসীমার নিচে নেমে যাচ্ছে।
পাউবোর তথ্য অনুযায়ী, বরিশালের কীর্তনখোলা, ঝালকাঠির সুগন্ধা ও বিষখালী; ভোলার তেঁতুলিয়া ও মেঘনা; পিরোজপুরের বলেশ্বর ও কচা; বরগুনার বিষখালী এবং পটুয়াখালীর পায়রার পানি জোয়ারের সময় বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
সিলেট ও সুনামগঞ্জে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতির আভাস দিয়েছে বন্যা পূর্বাভাস কেন্দ্র। গতকালের বুলেটিনে বলা হয়েছে, কুশিয়ারা নদীর ফেঞ্চুগঞ্জ ও মারকুলি পয়েন্টে পানি এখনও বিপৎসীমার ওপরে থাকলেও সুরমা নদীর পানি কমছে এবং আগামী তিন দিনে দুই নদীর পানিই আরও কমতে পারে।
বন্যা পূর্বাভাস কেন্দ্র জানিয়েছে, উজানে ভারত থেকে নতুন করে ঢল না আসা এবং বৃষ্টিপাত কমে যাওয়ায় সিলেট ও সুনামগঞ্জের বন্যা পরিস্থিতির আরও উন্নতি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বঙ্গোপসাগরের লঘুচাপের প্রভাবেও আগামী তিন দিনে এ দুই জেলায় ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা নেই।
- বিষয় :
- আবহাওয়া