ঢাকা শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬

সেই ইয়ামালের সঙ্গে মেসির লড়াই

সেই ইয়ামালের সঙ্গে মেসির লড়াই
×

১৮ বছর আগে ইউনিসেফ আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে শিশু লামিনে ইয়ামালকে বাথটাবে গোসল করাচ্ছিলেন ২০ বছরের লিওনেল মেসি। সেই ইয়ামাল ফাইনালে মেসির প্রতিপক্ষ। ছবি- সংগৃহীত

স্পোর্টস ডেস্ক

প্রকাশ: ১৭ জুলাই ২০২৬ | ০৯:৫১

সাড়ে ১৮ বছর আগে কি এই দিনের কথা ভেবেছিলেন লিওনেল মেসি? তিনি কি ভেবেছিলেন, যে পুঁচকে ছেলেটাকে গোসল করাচ্ছেন, তার বিরুদ্ধে একদিন খেলতে নামতে হবে বিশ্বকাপ ফাইনাল! কাকতালীয়ভাবে সেটাই বাস্তব হচ্ছে। রোববার নিউইয়র্কে আর্জেন্টিনা বনাম স্পেন ফাইনালে মুখোমুখি হচ্ছেন লিওনেল মেসি ও লামিনে ইয়ামাল। এই ফাইনাল সামনে রেখে ২০০৭ সালের ডিসেম্বরে তোলা সেই ছবি আবার সয়লাব গণমাধ্যম থেকে শুরু করে সামাজিক মাধ্যমে। সেখানে দেখা যাচ্ছে, শিশু ইয়ামালকে গোসল করাচ্ছেন বছর কুড়ির মেসি।

২০০৭ সালের ডিসেম্বরে বার্সেলোনার স্টুডিওতে একটি প্লাস্টিকের বাথটাবের সামনে বসানো হয় ২০ বছরের তরুণ মেসিকে। এরপর তাঁর কোলে তুলে দেওয়া হয় পাঁচ মাস বয়সী শিশু লামিনে ইয়ামালকে। দুই প্রজন্মের দুজন ক্যামেরাবন্দি হয়েছিলেন একটি দাতব্য কাজের অংশ হিসেবে। ছবিটি ছিল বার্সেলোনা ফাউন্ডেশন ও কাতালান দৈনিক দিয়ারিও স্পোর্তের একটি দাতব্য ক্যালেন্ডারের অংশ। প্রতিবছর বার্সার ফুটবলারদের সঙ্গে শিশুদের ছবি তুলে ক্যালেন্ডার বানিয়ে তা বিক্রি করা হতো। সেই অর্থ ইউনিসেফসহ বিভিন্ন দাতব্য প্রতিষ্ঠানে যেত। বার্সা স্কোয়াডের ১২ জন ফুটবলারকে বছরের ১২টি মাসের প্রতীক করে জুড়ে দেওয়া হতো একেকটি শিশুর সঙ্গে। অনেক পরিবারই অংশ নিয়েছিল সেই আয়োজনে। কাকতালীয়ভাবে সেদিন মেসির জোড়া হিসেবে যে শিশুটিকে বেছে নেওয়া হয়েছিল, সে ছিল মাতারো শহরের এক শিশু– লামিনে ইয়ামাল যাঁর নাম।

ছবিটি যিনি তুলেছিলেন, সেই আলোকচিত্রী হুয়ান মনফোর্ত সেদিনের অভিজ্ঞতা জানিয়ে বলেছেন, ‘খুব কঠিন একটি ছবি ছিল। বলতে পারেন, ছবিটি তুলতে আমি ঘেমে-নেয়ে একাকার হয়ে গিয়েছিলাম।’ মেসি তখন বিশ্বসেরা হয়ে ওঠেননি। রোনালদিনহো, স্যামুয়েল ইতো, জাভি, ইনিয়েস্তাদের ভিড়ে বার্সার এক উঠতি প্রতিভা মাত্র। সেই মেসিকে নিয়ে মনফোর্তের স্মৃতিচারণ, ‘মেসির বয়স তখন ২০ বছর হবে। খুব লাজুক ছিল। হঠাৎ করেই তাকে লকাররুমে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে গিয়ে দেখে, একটি পানিভর্তি বাথটাব। এর মধ্যে একটি শিশু। ও থতমত খেয়ে গিয়েছিল। বাচ্চাটাকে কী করে ধরবে, প্রথমে সে বুঝতেই পারছিল না। অস্বস্তিকর পরিবেশ তৈরি হয়েছিল। তবে ধীরে ধীরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয় এবং শেষ পর্যন্ত আমরা দারুণ একটি ছবি পাই।’ তখন সংবাদ সংস্থা এপির হয়ে কাজ করতেন মনফোর্ত। তিনি জানান, এই ছবি তোলায় সবচেয়ে বড় ভূমিকা ছিল ইয়ামালের মা শেইলা এবানার। তিনি পাশে ছিলেন বলেই শিশু ইয়ামালের ছবিটি তোলা সম্ভব হয়েছিল।

ইয়ামালের পরিবার তখন বার্সেলোনা থেকে প্রায় ৪০ কিলোমিটার দূরের মাতারো শহরে থাকত। ছোট্ট শিশুকে নিয়ে এতটা পথ পাড়ি দিয়ে ন্যু ক্যাম্পে আসা, বাথটাবে তাঁকে বসিয়ে রাখা– সবকিছুই ছিল কষ্টসাধ্য। সেই কাজগুলো করেছিলেন ইয়ামালের মা। সাত বছর পর সেই মাতারো থেকে নিয়মিত ন্যু ক্যাম্পে যাতায়াত শুরু করেন ইয়ামাল। ২০১৪ সালে তিনি যোগ দেন বার্সার বিখ্যাত লা মাসিয়াতে। এরপর ২০২৩ সালের এপ্রিলে মাত্র ১৫ বছর বয়সে বার্সার হয়ে লা লিগায় অভিষেক। একই বছর সেপ্টেম্বরে স্পেন জাতীয় দলে অভিষেক। ২০২৪ ইউরোজয়ী স্পেন দলের অন্যতম সদস্য তিনি। তাঁকে ঘিরে বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্নও দেখছে স্পেন।

আরও পড়ুন

×