রক্তের গন্ধ পেয়ে গিয়েছিল আর্জেন্টিনা
স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশ: ১৭ জুলাই ২০২৬ | ০৯:৪৮
২০১৮ সালে অনেকটা ঘটনাচক্রেই আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের দায়িত্ব পেয়েছিলেন লিওনেল স্কালোনি। সেই স্কালোনি এখন অমরত্বের দ্বারপ্রান্তে। ২০২২ বিশ্বকাপজয়ী এ কোচ গত বুধবার রাতে ২-১ গোলে ইংল্যান্ডকে হারিয়ে আর্জেন্টিনাকে আবার ফাইনালে নিয়ে গেছেন। আগামী রোববারের ফাইনালে যদি স্পেনকে হারিয়ে ট্রফি জিততে পারেন, তাহলে ইতালির ভিত্তোরিও পোজ্জোর পর টানা দুটি বিশ্বকাপ জেতা একমাত্র কোচ হবেন তিনি। সেই স্কালোনি দলের হার না মানা মানসিকতায় মুগ্ধ। বিশেষ করে, ইংল্যান্ডের বিপক্ষে তাঁর দল নাকি রক্তের গন্ধ পেয়ে গিয়েছিল। রক্তের গন্ধ পেলে বাঘ কিংবা হাঙর যেমন শিকারের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে, তারাও তেমন করেই ছিন্নভিন্ন করে দিয়েছেন ইংলিশদের।
খাদের কিনারা থেকে ঘুরে দাঁড়ানো যেন অভ্যাসে পরিণত করেছে আর্জেন্টিনা। নকআউট পর্বে কেপ ভার্দে ম্যাচ থেকে শুরু করে সেমির ম্যাচ– পরিস্থিতি যতই প্রতিকূল হোক না কেন, ঠিকই তারা পথ খুঁজে নিয়েছে। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে জয়ের পর মাঠে দাঁড়িয়ে দলের এই ঘুরে দাঁড়ানোর মানসিকতা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে আবেগ আপ্লুত হয়ে পড়েন স্কালোনি, ‘আমি ভাষা হারিয়ে ফেলেছি। আমার দেশ, আমার দেশের মানুষের জন্য এটা আনন্দের মুহূর্ত। সেদিনও বলেছিলাম, এই দল আমাকে প্রতিনিয়ত বিস্মিত করে চলেছে।’
সংবাদ সম্মেলনেও আবেগ সামলাতে পারেননি তিনি। এর মধ্যেও দলের এই ঘুরে দাঁড়ানোর মানসিকতার রহস্য নিয়ে বলেছেন, ‘আমার মনে হয়, কঠিন পরিস্থিতিতে এই দলের সেরা খেলাটা বের হয়ে আসে। আজও চ্যালেঞ্জিং একটি ম্যাচ ছিল, আমরা কঠিন পরিস্থিতিতে ছিলাম। ওরা একটু চাপে পড়েছিল। ব্যস, রক্তের গন্ধ পেয়ে গিয়েছিলাম। আমরা ওদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েছিলাম। ওদের ছিন্নভিন্ন করে দিয়েছি। এখন এটাই আমার মনে হচ্ছে।’
এই হাল না ছাড়া নিয়ে তিনি আরও যোগ করেন, ‘আমাদের প্রচেষ্টাগুলো ক্রসবারে লাগছিল, পোস্টে লাগছিল, কিন্তু কিছুতেই ভেতরে যাচ্ছিল না। আমাদের ছয় থেকে সাতটি সুযোগ এভাবে ব্যর্থ হয়েছে। যদি হারতাম, তাও সন্তুষ্ট থাকতাম। কারণ এই দল একেবারে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত লড়াই করেছে। আমার মনে হয়, এটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।’
নকআউটে এই নিয়ে দ্বিতীয়বার পিছিয়ে পড়েও অন্তিম সময়ে জয় ছিনিয়ে নিল আর্জেন্টিনা। মিসরের বিপক্ষে শেষ ষোলোর ম্যাচে ৭৮ মিনিট পর্যন্ত ২-০ ব্যবধানে পিছিয়ে ছিল তারা। কিন্তু শেষ ১৩ মিনিটের ঝড়ে ৩-২ গোলে জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে তারা। আর ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ৮৪ মিনিট পর্যন্ত ১-০ ব্যবধানে পিছিয়ে ছিল আর্জেন্টিনা। ৮৫ মিনিটে এনজো ফার্নান্দেজ সমতা ফেরানোর পর যোগ করা সময়ের দ্বিতীয় মিনিটে জয়সূচক গোলটি করেন লাউতারো মার্তিনেজ। মিসরের বিপক্ষে জয়টিকে ‘মহাকাব্যিক’ বলেছিলেন। বুধবারের জয়টিকে কী বলবেন? এমন প্রশ্নের জবাব ৪৮ বছর বয়সী কোচ স্কালোনি বলেন, ‘একে ব্যাখ্যা করা আসলে কঠিন। দলবদ্ধ প্রচেষ্টার একটি অনুপম প্রদর্শনী বলতে পারেন। আমাদের মধ্যে যে ভ্রাতৃত্বের বন্ধন, এই শেষ পর্যন্ত লড়াই করার মানসিকতার ফসল বলা যায়।’
স্কালোনির অধীনে চতুর্থ মেজর শিরোপার দ্বারপ্রান্তে আর্জেন্টিনা। দুটি কোপা, কাতার বিশ্বকাপ জয়ের পর আরও একটি বিশ্বকাপের ফাইনালে তারা। এর পুরো কৃতিত্ব তিনি দলকে দিয়েছেন, ‘আমি এই ছেলেদের খুব ভালো করে জানি। তারা কোনো কিছুকে ভয় পায় না। তারা চাপও অনুভব করে না। তারা সাত-আট বছরের বাচ্চাদের মতো ফুটবল খেলে, উপভোগ করে। তাদের মাথায় সেমিফাইনাল, ফাইনাল এসব কোনো কিছুই থাকে না।’ ১৯৮৬ সালের জয়ের সঙ্গে এই জয়কে তুলনা করতেও রাজি নন স্কালোনি। দিয়েগো ম্যারাডোনার দুটি অমর গোলের জন্য ওই ম্যাচটি ইতিহাস হয়ে থাকবে বলে মনে করেন তিনি।
- বিষয় :
- লিওনেল স্কালোনি
- আর্জেন্টিনা
- বিশ্বকাপ ফুটবল