ঢাকা শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬

সাড়ে ৩ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস আইএমএফের

সাড়ে ৩ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস আইএমএফের
×

 সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১৭ জুলাই ২০২৬ | ০৯:৩৫

| প্রিন্ট সংস্করণ

চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে বাংলাদেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি মাত্র সাড়ে ৩ শতাংশ হতে পারে বলে মনে করছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)। পাঁচ দিনের ঢাকা সফর শেষে সংস্থার একটি মিশন গতকাল বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে অর্থনীতি নিয়ে এমন পূর্বাভাস দিয়েছে। আইএমএফের পূর্বাভাস সরকারের লক্ষ্যমাত্রার প্রায় অর্ধেক। চলতি অর্থবছরে সরকার সাড়ে ৬ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। 
গত সপ্তাহে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) পূর্বাভাস দেয়, চলতি অর্থবছরে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ৪ দশমিক ৫ শতাংশ হবে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সাময়িক হিসাবে গত অর্থবছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৪ দশমিক ১৪ শতাংশ।

আইএমএফ মিশন মনে করছে, রাজস্ব ও ব্যাংকিং খাতের চাপ অব্যাহত থাকলে মধ্যমেয়াদে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৩ শতাংশেরও নিচে নেমে যেতে পারে। তবে রাজস্ব আহরণ জোরদার এবং ব্যাংকিং খাতের দুর্বলতা দূর করতে সংস্কার এগিয়ে নেওয়া গেলে মধ্যমেয়াদে অর্থনীতির সম্ভাবনা উন্নত হবে। 
সরকারের অনুরোধে নতুন অর্থনৈতিক সংস্কার কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা করতে আইএমএফের প্রতিনিধি দল গত ১২ জুলাই ঢাকায় আসে। গতকাল বৃহস্পতিবার তারা অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সঙ্গে সমাপনী বৈঠক করেন। কয়েক দিনের বৈঠকে সাম্প্রতিক অর্থনৈতিক ও আর্থিক পরিস্থিতি পর্যালোচনার পাশাপাশি সরকারের সংস্কার অগ্রাধিকার নিয়ে আলোচনা হয়। 
বিবৃতিতে বলা হয়, বাংলাদেশকে নতুন ঋণ দেওয়ার বিষয়ে আলোচনা আগামী মাসগুলোতে চলতে থাকবে। এ আলোচনা হবে ঋণের সম্ভাব্য আকার, পরিধি এবং এর সঙ্গে সম্পর্কিত সংস্কার অঙ্গীকার নিয়ে। এর আগে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে নেওয়া ঋণ কর্মসূচির পাঁচ কিস্তি নেওয়ার পর দুপক্ষের সম্মতিতে তা বাতিল করা হয়। 

গতকাল সচিবালয়ে আইএমএফ প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠক শেষে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, আইএমএফের সঙ্গে কর্মসূচির ভিত্তি কী হবে, তা নিয়ে ইতোমধ্যে আলোচনা হয়েছে। নির্বাচিত সরকারের প্রতি সম্মান বজায় রেখেই সংস্কারের কাজ পরিচালিত হবে। একই সঙ্গে প্রয়োজন অনুযায়ী ধাপে ধাপে পরিবর্তন আনা হবে।
ঢাকায় আইএমএফের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন সংস্থাটির কর্মকর্তা ইভো ক্রজনার। বিবৃতিতে ইভো ক্রজনার বলেন, বাংলাদেশের কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সাম্প্রতিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি এবং তাদের নীতিগত অগ্রাধিকার নিয়ে গঠনমূলক আলোচনা হয়েছে। তথ্য-সংগ্রহমূলক সফরের মাধ্যমে সরকারের নীতিগত পরিকল্পনা, অর্থনৈতিক সংস্কারের অগ্রাধিকার এবং সক্ষমতা উন্নয়নের প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে আরও ভালো ধারণা পাওয়া গেছে। নতুন সম্ভাব্য কর্মসূচির পরিধি, ঋণের আকার এবং এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সংস্কার অঙ্গীকার নিয়ে আগামী কয়েক মাসে আলোচনা হবে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ এখনও রাজস্ব, আর্থিক খাত ও মূল্যস্ফীতিজনিত বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি, যা মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে আরও তীব্র হয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যমূল্য বৃদ্ধি এবং সরবরাহ ব্যবস্থায় বিঘ্ন মূল্যস্ফীতির চাপ বাড়িয়েছে এবং ভর্তুকি ব্যয় বাড়িয়েছ। এর ফলে সরকারের সীমিত রাজস্ব সক্ষমতার ওপর আরও চাপ সৃষ্টি হয়েছে। আমদানি ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় বৈদেশিক লেনদেনের ভারসাম্যের ওপরও চাপ তৈরি হয়েছে। যদিও প্রবাসী আয় বা রেমিট্যান্স শক্তিশালী রয়েছে। ব্যাংকিং খাতের চাপও এখনও উচ্চ পর্যায়ে রয়েছে।
তাঁর মতে, সামাজিক সুরক্ষা ও উন্নয়ন ব্যয় বাড়ানোর জন্য রাজস্ব আহরণ বৃদ্ধি এবং ভর্তুকি ব্যবস্থার যৌক্তিক সংস্কার প্রয়োজন। একই সঙ্গে রাজস্ব সংস্কারের প্রভাব থেকে ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীকে সুরক্ষা দিতে লক্ষ্যভিত্তিক সামাজিক সহায়তা জোরদার করা দরকার। মূল্যস্ফীতি কমানো এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ পুনর্গঠনের জন্য কঠোর মুদ্রানীতি ও বিচক্ষণ রাজস্বনীতি অব্যাহত রাখা উচিত। 
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এবারের আলোচনায় ২০২৫ সালের আর্টিকেল-৪ পরামর্শ প্রতিবেদনে চিহ্নিত নীতিগত অগ্রাধিকারকে ভিত্তি করে পরিচালিত হয়েছে। ওই প্রতিবেদনে প্রতিবেদনে ভর্তুকি যৌক্তিক পর্যায়ে আনতে সার ও বিদ্যুতের মূল্য সমন্বয়ের জন্য একটি কৌশল গ্রহণের পরামর্শ দেওয়া হয়। একই সঙ্গে ব্যাংকি চ্যানেলে রেমিট্যান্স পাঠানোকে উৎসাহীত করতে আড়াই শতাংশ প্রণোদনা ধীরে ধীরে প্রত্যাহারের ওপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে।

আরও পড়ুন

×