মতবিনিময় সভায় আইডিআরএ চেয়ারম্যান
সম্পদ বিক্রি করে বীমা দাবি পরিশোধের ব্যবস্থা করা হবে
মীর নাদিয়া নিভিন
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১৭ জুলাই ২০২৬ | ০৮:৪৭ | আপডেট: ১৭ জুলাই ২০২৬ | ০৯:০১
| প্রিন্ট সংস্করণ
বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (আইডিআরএ) নবনিযুক্ত চেয়ারম্যান মীর নাদিয়া নিভিন জানিয়েছেন, বীমা গ্রাহকদের অধিকার রক্ষা করাই তাঁর প্রধান অগ্রাধিকার। যেসব প্রতিষ্ঠান বছরের পর বছর গ্রাহকের বীমা দাবি পরিশোধ না করে টালবাহানা করছে, প্রয়োজনে তাদের জমি, ট্রেজারি বন্ড ও এফডিআরের মতো সম্পদ ও বিনিয়োগ বিক্রি করে গ্রাহকদের পাওনা বুঝিয়ে দেওয়া হবে।
গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর দিলকুশায় আইডিআরএ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় চেয়ারম্যান তাঁর এই কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরেন। তিনি জানান, বর্তমানে বীমা খাত একটি গভীর সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। তাঁর প্রথম কাজ হলো ‘ক্রাইসিস ম্যানেজমেন্ট’ এবং এই খাত স্থিতিশীল করা।
মীর নাদিয়া নিভিন জানান, পুরো বীমা খাতের বদনাম হচ্ছে মূলত নির্দিষ্ট কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের কারণে। সাতটি প্রতিষ্ঠান গ্রাহকদের প্রায় চার হাজার কোটি টাকার বীমা দাবি আটকে রেখেছে। তিনি এসব প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বৈঠক করবেন। গত দুই সপ্তাহে তিনি সাতটি প্রতিষ্ঠানের মালিকপক্ষ এবং সিইওদের সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে কথা বলেছেন।
তিনি আরও জানান, প্রতিষ্ঠানগুলোর বিনিয়োগ ও স্থাবর সম্পদের সঠিক মূল্যায়ন করার জন্য ইতোমধ্যে সার্ভেয়ারদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজন হলে প্রতিঠানগুলোর সম্পদ লিকুইডেট বা তরলীকরণ হবে। ভালো ব্যাংকে থাকা এফডিআর, ট্রেজারি বন্ড, অন্যান্য বিনিয়োগ এবং জমি এর আওতায় আসবে। তবে জমি বিক্রির ক্ষেত্রে আইনি জটিলতা থাকতে পারে। এই বিক্রয়লব্ধ অর্থ আইডিআরএর নিয়ন্ত্রণে একটি আলাদা ব্যাংক অ্যাকাউন্টে রাখা হবে। সেখান থেকে স্বচ্ছতার সঙ্গে প্রকৃত গ্রাহকদের পাওনা পরিশোধ করার স্বার্থে যে গ্রাহকের দাবি তৈরি হয়েছে, তাঁর দাবি আগে পরিশোধ করা হবে।
মীর নাদিয়া নিভিন বলেন, বিশ্বের উন্নত দেশগুলোতে বীমা খাত হলো বড় প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী। যদি দেশে একটি শক্তিশালী বীমা খাত গড়ে তোলা যায়, তবে পুঁজিবাজার ও বন্ড মার্কেটও শক্তিশালী হবে। এমনকি বড় বড় অবকাঠামো উন্নয়নের জন্য সরকারকে তখন আর চড়া সুদে বিদেশ থেকে ঋণ নিতে হবে না। বীমা খাতের তহবিল থেকেই সেই অর্থের সংস্থান সম্ভব হবে।
সাধারণ বীমা খাতে অতিরিক্ত কমিশন বাণিজ্য নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে আইডিআরএ চেয়ারম্যান বলেন, বাজারে এখনও ৬০ শতাংশ পর্যন্ত কমিশন দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। প্রতিষ্ঠানগুলো বেতন বা বিভিন্ন ভুয়া চুক্তির আড়ালে এই কমিশন লুকিয়ে রাখে। কমিশনের বিষয়ে আইডিআরএ গভীরভাবে কাজ করছে। তিনি আরও জানান, অনেক প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা ব্যয় অনুমোদিত সীমার চেয়ে অনেক বেশি, যা সরাসরি গ্রাহকের স্বার্থ ক্ষুণ্ন করছে। যেসব প্রতিষ্ঠান গ্রাহকের দাবি মেটাচ্ছে না, অথচ উচ্চ ব্যবস্থাপনা ব্যয় দেখাচ্ছে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এমডি বা সিইও নিয়োগের ক্ষেত্রে শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ জালিয়াতিসহ বিভিন্ন সমস্যা বীমা খাতে রয়েছে। এ বিষয়ে চেয়ারম্যান বলেন, এখন থেকে সিইও নিয়োগের আগে তাদের পটভূমি যাচাই করা হবে। এজন্য সিআইডি এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের মতো অন্যান্য নিয়ন্ত্রক সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করার পরিকল্পনা রয়েছে। এমনকি আন্তর্জাতিক মান বজায় রাখতে ইউনেস্কোর পোর্টাল ব্যবহার করে বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রি যাচাই করার চিন্তাভাবনাও করছে আইডিআরএ।
চেয়ারম্যান বলেন, বীমা খাতের সকল সমস্যা রাতারাতি সমাধান করা সম্ভব নয়, তবে শূন্য থেকে যাত্রা শুরু করে ধাপে ধাপে উন্নতির দিকে যাওয়া সম্ভব। দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনার বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি বজায় রেখে আইডিআরএ আগামী দিনগুলোতে আরও কার্যকর ভূমিকা পালন করবে বলে তিনি দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
- বিষয় :
- বীমা