আর্জেন্টিনা থেকে আমদানি বেশি, স্পেনে রপ্তানি
আবু হেনা মুহিব
প্রকাশ: ১৭ জুলাই ২০২৬ | ০৮:৫১ | আপডেট: ১৭ জুলাই ২০২৬ | ০৯:১১
| প্রিন্ট সংস্করণ
ফুটবল জ্বরে কাঁপছে বিশ্ব। টানটান উত্তেজনায় ভরপুর সব ম্যাচ পেরিয়ে বিশ্বকাপ ফুটবলের ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে আর্জেন্টিনা ও স্পেন। সারাবিশ্বের মতো বাংলাদেশের ফুটবলপ্রেমীরাও এখন শিরোপার লড়াই দেখার অপেক্ষায়। ফাইনালে মুখোমুখি হতে যাওয়া এই দুই দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক নিয়েও আগ্রহ রয়েছে অনেকের। স্পেন ও আর্জেন্টিনার সঙ্গে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক এবং আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য দীর্ঘদিনের। বাংলাদেশ আর্জেটিনা থেকে আমদানি করে বেশি, রপ্তানি করে কম। অন্যদিকে ইউরোপের দেশ স্পেনের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য মূলত একতরফা রপ্তানির। দেশটি থেকে আমদানি হয় খুব কম।
বাংলাদেশের শীর্ষ ২০ আমদানির উৎসের মধ্যে আর্জেন্টিনার অবস্থান ১৭তম। প্রতি বছর যে পরিমাণ আমদানি হয় তাতে আর্জেন্টিনার হিস্যা ১ দশমিক ২ শতাংশ। প্রধানত ভোজ্যতেল, গম, ভুট্টা পশুখাদ্য, পোশাক উৎপাদনের প্রধান কাঁচামাল তুলা আমদানি হয় দেশটি থেকে। এর মধ্যে ভোজ্যতেলের ভেজিটেবল অয়েলই মোট আমদানির ৭৫ শতাংশ। বছরে দেশটি থেকে আমদানির পরিমাণ ৮০ কোটি ডলারের মতো।
বাংলাদেশ ব্যাংক সাধারণত অর্থবছর শেষ হওয়ার পর দেশ ও পণ্যভিত্তিক আমদানির চূড়ান্ত প্রতিবেদন তৈরি ও প্রকাশ করে থাকে। সদ্য সমাপ্ত ২০২৫-২৬ অর্থবছরের দেশভিত্তিক আমদানি তথ্যউপাত্ত এখনও প্রকাশ করা হয়নি। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সর্বশেষ ২০২৪-২৫ অর্থবছরের তথ্য বলছে, আর্জেন্টিনা থেকে বাংলাদেশের আমদানির পরিমাণ ছিল ৭৮ কোটি ৪৭ লাখ ডলারের। দেশীয় মুদ্রায় যা ৯ হাজার ৫০৫ কোটি টাকা।
বড় অঙ্কের এই আমদানির বিপরীতে দেশটিতে বাংলাদেশের রপ্তানির চিত্র বেশ মলিন। বাংলাদেশের শীর্ষ ২০ রপ্তানি বাজারের তালিকায় নেই দেশটি। দেশটিতে রপ্তানি হয় নামমাত্র। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্যমতে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে দেশটিতে রপ্তানি হয়েছে মাত্র তিন কোটি ৪৯ লাখ ডলারের পণ্য। রপ্তানির তালিকায় রয়েছে তৈরি পোশাক। এ ছাড়া পাটপণ্যসহ সাধারণ কিছু পণ্য রপ্তানি হয় দেশটিতে।
বুন বক্স অ্যাপারেলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আক্তার হোসেন অপূর্ব সমকালকে বলেন, আর্জেন্টিনা তৈরি পোশাকের বড় বাজার হতে পারে। প্রচলিত বাজারের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে বাজার বৈচিত্র্য আনার চেষ্টায় আর্জেন্টিনা থেকে ভালো সাড়া পাওয়া যাচ্ছে। ক্রমেই দেশটিতে পোশাক রপ্তানি বাড়ছে।
অন্যদিকে স্পেন বাংলাদেশের চতুর্থ প্রধান রপ্তানি বাজার। ২৭ জাতির জোট ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে দ্বিতীয় প্রধান রপ্তানি বাজার স্পেন। জোটে স্পেনের চেয়ে বেশি রপ্তানি হয় কেবল জার্মানিতে। বিশ্ববাজারের অন্যান্য দেশের মধ্যে স্পেনের চেয়ে বেশি রপ্তানি হয় যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যে।
ইপিবির তথ্যমতে, গত অর্থবছর স্পেনে বাংলাদেশের পণ্য রপ্তানি হয়েছে প্রায় ৩৮০ কোটি ডলারের। তৈরি পোশাক উৎপাদন ও রপ্তানিকারক উদ্যোক্তাদের সংগঠন বিজিএমইএর তথ্যউপাত্তে দেখা যায়, শুধু তৈরি পোশাক রপ্তানি থেকে ৩৬০ কোটি ডলারের বেশি। আগের অর্থবছরের চেয়ে বেড়েছে ৬ শতাংশ।
স্পেনের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য মূলত রপ্তানিমুখী। বাংলাদেশের মোট আমদানির মাত্র শূন্য দশমিক ২ শতাংশ আসে দেশটি থেকে। গত ২০২৪-২৫ অর্থবছরে আমদানি হয় ১৩ কোটি ২৫ লাখ ডলারের পণ্য। প্রতি ডলারের বিনিময় মূল্য ১২০ টাকা ধরে দেশীয় মুদ্রায় এর পরিমাণ এক হাজার ৫৮৭ কোটি টাকা। প্রধান আমদানি পণ্যের মধ্যে রয়েছে বস্ত্র শিল্পে ব্যবহৃত বিভিন্ন ধরনের রাসায়নিক, বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম, ওষুধ, কসমেটিকস ইত্যাদি।
বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠতে না পারলেও আর্জেন্টিনার মতোই জনপ্রিয়তার লড়াইয়ে অন্যতম শীর্ষস্থানে আছে লাতিন আমেরিকার নান্দনিক ফুটবলের দেশ ব্রাজিল। দেশটির সঙ্গেও বাংলাদেশের বাণিজ্য খুব বেশি নয়। গত অর্থবছর দেশটিতে রপ্তানি হয়েছে ২১ কোটি ৪৭ লাখ ডলারের পণ্য। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ব্রাজিল থেকে আমদানি হয়েছে ২৬৪ কোটি ডলারের, যা মোট আমদানির প্রায় ৪ শতাংশ। অর্থাৎ এ ক্ষেত্রে আর্জেন্টিনার চেয়ে এগিয়ে ব্রাজিল।
- বিষয় :
- আমদানি-রপ্তানি