সাংবাদিক মোজাম্মেল বাবু ও রুপার বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ প্রত্যাহারের আহ্বান সিপিজের
মোজাম্মেল বাবু ও ফারজানা রূপা
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ২৭ জুলাই ২০২৬ | ১৮:১০ | আপডেট: ২৭ জুলাই ২০২৬ | ১৮:৩৯
গ্রেপ্তার সাংবাদিক মোজাম্মেল বাবু ও ফারজানা রূপার বিরুদ্ধে আনা মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ অবিলম্বে প্রত্যাহার এবং তাদের মুক্তি দাবি করেছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম পর্যবেক্ষণ সংস্থা কমিটি টু প্রটেক্ট জার্নালিস্টস (সিপিজে)। সোমবার এক বিবৃতিতে এ আহ্বান জানায় সংস্থাটি।
সিপিজে জানায়, সোমবার বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে (আইসিটি) একটি মামলায় আনুষ্ঠানিক অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়েছে। ওই মামলায় শেখ হাসিনাসহ মোট ৪১ জনকে আসামি করা হয়েছে। ২০১৩ সালের মে মাসে ঢাকার শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশে অভিযান পরিচালনার ঘটনাকে কেন্দ্র করে মামলাটি করা হয়েছে। ওই ঘটনায় ৫৮ জন নিহত হওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
ফারজানা রূপা একাত্তর টেলিভিশনের সাবেক প্রধান প্রতিবেদক ও উপস্থাপক। মোজাম্মেল বাবু চ্যানেলটির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক প্রধান সম্পাদক। গত ১৪ মে মানবতাবিরোধী অপরাধের এই মামলায় তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
মামলার প্রধান কৌঁসুলি মো. আমিনুল ইসলাম গণমাধ্যমকে বলেন, মোজাম্মেল বাবুর নির্দেশনায় ফারজানা রূপা শাপলা চত্বরের অভিযান নিয়ে একাত্তর টেলিভিশনের জন্য একটি প্রামাণ্যচিত্র তৈরি করেন। ওই প্রামাণ্যচিত্রে ঘটনায় কেউ নিহত হননি বলে মিথ্যা দাবি করা হয়েছে বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।
সিপিজের এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের কর্মসূচি সমন্বয়কারী কুনাল মজুমদার বিবৃতিতে বলেন, ‘সাংবাদিকতার কাজ করার কারণে ফারজানা রূপা ও মোজাম্মেল বাবুর বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ আনা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। কর্তৃপক্ষের উচিত তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রত্যাহার করা এবং সংবাদমাধ্যমের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার ধারাবাহিকতা বন্ধ করা।’
সিপিজে বলেছে, এই মামলায় দোষী সাব্যস্ত হলে ফারজানা রূপা ও মোজাম্মেল বাবুর মৃত্যুদণ্ডের ঝুঁকি রয়েছে। কারণ, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের আইনে নির্দিষ্ট অপরাধভিত্তিক সাজা নির্ধারণের পৃথক নির্দেশিকা নেই।
সংস্থাটি আরও জানায়, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানকে কেন্দ্র করে পৃথক হত্যা মামলায় ২০২৪ সালের আগস্ট থেকে এই দুই সাংবাদিক কারাগারে আছেন। যদিও ওই মামলাগুলোতে হাইকোর্ট তাদের জামিন দিয়েছিলেন, পরে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ সেই আদেশের ওপর স্থগিতাদেশ দেন। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের মামলায় তাদের আটক রাখার সুযোগও রয়েছে।
সিপিজের দাবি, এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে বাংলাদেশের আইন মন্ত্রণালয় ও আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রধান কৌঁসুলির কার্যালয়ে ই-মেইল পাঠানো হলেও প্রতিবেদন প্রকাশ পর্যন্ত কোনো জবাব পাওয়া যায়নি।