ঢাকা শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

২০০৯ সাল থেকে সব নিয়োগ পর্যালোচনা করবে ঢাবি

জুলাইয়ের বিরোধিতা করা শিক্ষকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা

২০০৯ সাল থেকে সব নিয়োগ পর্যালোচনা করবে ঢাবি
×

 বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক 

প্রকাশ: ৩০ জুলাই ২০২৬ | ০৮:৫৭ | আপডেট: ৩০ জুলাই ২০২৬ | ১২:২৭

| প্রিন্ট সংস্করণ

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এমন শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেট। একই সঙ্গে ২০০৯ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ২০২৪ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সব নিয়োগ পর্যালোচনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

গত মঙ্গলবার উপাচার্য অধ্যাপক এ বি এম ওবায়দুল ইসলামের সভাপতিত্বে সিন্ডিকেট সভায়  গণঅভ্যুত্থানের সময় শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার অভিযোগগুলো পর্যালোচনা এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থার সুপারিশের জন্য চার সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। গতকাল বুধবার উপাচার্য ওবায়দুল ইসলাম ও উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক মোহাম্মদ আলমুজাদ্দেদী আলফেসানী এসব সিদ্ধান্তের বিষয় নিশ্চিত করেছেন।

চার সদস্যের কমিটিতে রয়েছেন উপাচার্য, দুই উপ-উপাচার্য এবং সিন্ডিকেট সদস্য অধ্যাপক মোর্শেদ হাসান খান। অধ্যাপক আলমুজাদ্দেদী আলফেসানী বলেন, জুলাই অভ্যুত্থানের বিরোধিতা করেছেন– এমন অভিযোগ ও বিভিন্ন প্রমাণ বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে জমা পড়েছে। সেসব অভিযোগ যাচাই করে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি এবং তারা যে সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত, সে বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ‘ফ্যাসিবাদবিরোধী শিক্ষক’ প্ল্যাটফর্মের জমা দেওয়া ১২৫ শিক্ষকের তালিকাও তদন্ত কমিটি পর্যালোচনা করবে। উপাচার্য বলেন, অভিযুক্ত কোনো শিক্ষক যদি কোনো শিক্ষক সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত থাকেন, তাহলে অভিযোগের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট সংগঠনের কার্যক্রমও স্থগিত করা হতে পারে।

এর আগে বিএনপিপন্থি শিক্ষকদের সংগঠন সাদা দল এবং জামায়াতপন্থি শিক্ষকদের সংগঠন ইউনিভার্সিটি টিচার্স লিংক উপাচার্যের কাছে আওয়ামী লীগ সমর্থক নীল দলের শতাধিক শিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগ দেন। তাদের অভিযোগ, জুলাই আন্দোলনের সময় শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত না করে প্রশাসনের কিছু ব্যক্তি উল্টো তাদের বিরুদ্ধে অবস্থান নেন। 

সিন্ডিকেট সদস্য অধ্যাপক তাজমেরী এস এ ইসলাম জানান, শিক্ষার্থীবিরোধী অবস্থানের অভিযোগে কয়েকজন শিক্ষকের বিরুদ্ধে প্রাথমিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তাদের একাডেমিক ও প্রশাসনিক দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। তদন্ত শেষে অভিযোগের সত্যতা মিললে অন্যদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ ছাড়া বিশ্বব্যাংক ও বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের অর্থায়নে বাস্তবায়িত ‘হায়ার এডুকেশন কোয়ালিটি এনহ্যান্সমেন্ট প্রজেক্ট (হেকাপ)’-এর আওতায় বাস্তবায়িত গবেষণা প্রকল্পগুলোর অর্থ যথাযথভাবে ব্যবহার হয়েছে কিনা, তা খতিয়ে দেখতে উপ-উপাচার্য আলমুজাদ্দেদী আলফেসানীর নেতৃত্বে আরেকটি তদন্ত কমিটি করা হয়েছে।

সভায় অধ্যাপক সাদেকা হালিমের বিরুদ্ধে স্থায়ী বহিষ্কারের সুপারিশ বিশ্ববিদ্যালয় ট্রাইব্যুনালে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পাশাপাশি বিভিন্ন অভিযোগে অধ্যাপক মো. আবদুল মুহিত, অধ্যাপক আবু সারা শামসুর রউফ, অধ্যাপক মোহাম্মদ বাহাউদ্দিন, ড. রফিক শাহরিয়ার, অধ্যাপক আফরোজা শেলী এবং অধ্যাপক মো. শফিকুল ইসলামকে প্রশাসনিক দায়িত্ব ও ক্লাস নেওয়া থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। 

সিন্ডিকেট সভা চলাকালে ডাকসু, হল সংসদ ও ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা অনিয়মিত শিক্ষার্থীদের আবাসিক সুবিধা-সংক্রান্ত প্রস্তাবিত নীতিমালার প্রতিবাদে বিক্ষোভ করেন। বিক্ষোভের পরিপ্রেক্ষিতে সিট বণ্টনের নতুন নীতিমালা অনুমোদন না দিয়ে সংশ্লিষ্ট অংশীজনের সঙ্গে আরও আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

আরও পড়ুন

×