জাকসু নেতাদের হল ছাড়ার নিয়ম শিথিল, ক্ষোভ প্রকাশ
ফাইল ছবি
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি
প্রকাশ: ৩১ জুলাই ২০২৬ | ০২:৪৫
নিয়মিত ছাত্রত্ব শেষ হলেও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (জাকসু) ও হল সংসদের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের আবাসিক হলে থাকার নিয়ম শিথিল করা হয়েছে। এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এ ঘটনায় বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের নেতা এবং জাকসুর সদস্যরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
গত বুধবার বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার ড. এ বি এম আজিজুর রহমানের সই করা বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, জাকসু ও হল সংসদের বিভিন্ন পদে নির্বাচিত শিক্ষার্থীরা তাদের পদের মেয়াদ থাকা পর্যন্ত হলে অবস্থান করতে পারবেন।
নিয়মিত ছাত্রত্ব শেষ হওয়ার পর আবাসিক হল ত্যাগের বাধ্যবাধকতা আছে। প্রজ্ঞাপনে এর ব্যত্যয় ঘটানো হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রশৃঙ্খলা-সংক্রান্ত অধ্যাদেশের ৫ ধারার ‘ট’ বিধিতে বলা হয়েছে, স্নাতকোত্তর পরীক্ষা শেষ হওয়ার সাত কর্মদিবসের মধ্যে শিক্ষার্থীদের সব পাওনা মিটিয়ে আবাসন হল ত্যাগ করতে হয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, একজন শিক্ষার্থী চার বছর মেয়াদি স্নাতক কোর্স সম্পন্ন করার জন্য সর্বোচ্চ ছয় বছর এবং এক বছর মেয়াদি স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করার জন্য সর্বোচ্চ দুই বছর সময় পেয়ে থাকেন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কোর্স শেষ করতে ব্যর্থ হলে তারা নিয়মিত ছাত্রত্ব হারান।
অনেকের অভিযোগ, জাকসুর বর্তমান সহসভাপতি (ভিপি) আব্দুর রশিদ জিতুকে বিশেষ সুবিধা দিতেই প্রশাসন এই বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে। পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, জিতু বিশ্ববিদ্যালয়ের তুলনামূলক সাহিত্য ও সংস্কৃতি ইনস্টিটিউটের ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের (৪৭তম ব্যাচ) শিক্ষার্থী। জাকসু নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ছাত্রত্ব ধরে রাখতে তিনি তাঁর ব্যাচের সঙ্গে স্নাতক পরীক্ষা শেষ করেননি। একটি কোর্সের পরীক্ষা বাকি রেখেছিলেন। নিয়ম অনুযায়ী, ওই কোর্সের পরীক্ষা পরবর্তী শিক্ষাবর্ষের (৪৮তম ব্যাচ) সঙ্গে দেওয়ার সুযোগ ছিল তাঁর। তবে জিতুর বিভাগের ৪৮তম ব্যাচ চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে স্নাতকোত্তর পরীক্ষায় অংশ নিলেও তিনি ওই পরীক্ষায় অংশ নেননি। ফলে তাঁর নিয়মিত ছাত্রত্ব শেষ হয়ে যায়।
ছাত্রত্ব শেষ হওয়ার পর গত জুনে হল ত্যাগ করেন জাকসুর জিএস মো. মাজহারুল ইসলাম। প্রশাসনের এমন সিদ্ধান্তে ক্ষোভ জানিয়ে তিনি বলেন, ‘প্রশাসনের এই বিজ্ঞপ্তি নজিরবিহীন। এর মাধ্যমে অনিয়মিত শিক্ষার্থীদের হলে থাকার একটি পথ তৈরি করে দেওয়া হয়েছে। আমরা প্রশাসনের এমন সিদ্ধান্ত প্রত্যাখ্যান করেছি।’
ছাত্রদল জাবি শাখার নেতারাও এ সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছেন। সংগঠনটির জাবি শাখার আহ্বায়ক জহির উদ্দিন মোহাম্মদ বাবর ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন, জাকসু নেতারা নিজেরাই স্বীকার করেছেন যে তারা প্রশাসনের কাছে এমন কোনো সুবিধা চাননি। অথচ ছাত্রদলের যে নেতাকর্মীদের ছাত্রত্ব শেষ হয়েছিল, তাদের জিনিসপত্র হল থেকে বাইরে ফেলে দেওয়া হয়েছিল।
প্রশাসনের এমন সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে জাতীয় ছাত্রশক্তির বিশ্ববিদ্যালয় সংসদের নেতারা।
এ বিষয়ে জানতে জাকসুর সহসভাপতি আবদুর রশিদ জিতুর মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কল ধরেননি।