ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি করা ছাড়া উপায় ছিল না: ড. আনিসুজ্জামান চৌধুরী

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি করা ছাড়া উপায় ছিল না: ড. আনিসুজ্জামান চৌধুরী
×

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ০২ আগস্ট ২০২৬ | ২০:২৯

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে অন্তর্বর্তী সরকারের করা বাণিজ্য চুক্তিকে ‘ভূরাজনৈতিক বাস্তবতা’ উল্লেখ করে সাবেক প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ড. আনিসুজ্জামান চৌধুরী বলেছেন, সে সময় চুক্তিটি করা ছাড়া কার্যত আর কোনো উপায় ছিল না।

রোববার রাজধানীর বনানীতে পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউট অব বাংলাদেশ (পিআরআই) আয়োজিত ‘উন্নয়ন কৌশল ও নীতিগত স্বাধীনতা: বাংলাদেশের উন্নয়ন পথপরিক্রমা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন পিআরআইয়ের চেয়ারম্যান ড. জাইদি সাত্তার। এতে অর্থনীতিবিদ, শিক্ষাবিদ ও ব্যবসায়ী প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তির প্রসঙ্গ তুলে ড. আনিসুজ্জামান চৌধুরী বলেন, একজন শিক্ষাবিদ হিসেবে হয়তো এ ধরনের চুক্তির বিরোধিতা করা সম্ভব, কিন্তু সরকারে থেকে নীতি নির্ধারণের দায়িত্বে থাকলে বাস্তবতাকে গুরুত্ব দিতে হয়। তার ভাষ্য, সে সময়ের ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতিতে চুক্তি না করলে বাংলাদেশের অর্থনীতি আরও বড় ঝুঁকিতে পড়তে পারত।

তিনি বলেন, ‘চুক্তিটি করা বা না করা- দুই ক্ষেত্রেই ঝুঁকি ছিল। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানতেন, বাংলাদেশ কঠিন পরিস্থিতিতে রয়েছে। এ অঞ্চলের ভিয়েতনাম ও মালয়েশিয়া ইতিমধ্যে চুক্তি করেছে, ইন্দোনেশিয়াও একই পথে এগোচ্ছিল। শেষ পর্যন্ত এটি একটি ভূরাজনৈতিক বাস্তবতায় পরিণত হয়েছিল।’

মূল প্রবন্ধে ড. আনিসুজ্জামান চৌধুরী বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নের জন্য নীতিগত স্বাধীনতার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, দক্ষিণ কোরিয়া ও ভিয়েতনাম বৈদেশিক সহায়তা নিলেও নিজেদের উন্নয়ন নীতি প্রণয়নে স্বাধীনতা বজায় রেখেছিল। দক্ষিণ কোরিয়া বিশ্বব্যাংকের পরামর্শ উপেক্ষা করে নিজস্ব অর্থায়নে বড় অবকাঠামো প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছিল, যা দেশটির উন্নয়নের ভিত্তি তৈরি করেছে।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের বর্তমান অর্থনৈতিক সংকটের অন্যতম কারণ সরকার ও নাগরিকদের মধ্যে আস্থার ঘাটতি। টেকসই উন্নয়নের জন্য শক্তিশালী সামাজিক পুঁজি, রাজনীতিমুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠীর প্রভাবমুক্ত অর্থনীতি প্রয়োজন। একই সঙ্গে তিনি নিম্ন কর-জিডিপি অনুপাত ও ব্যাংকিং খাতের দুর্বলতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

পিআরআইয়ের চেয়ারম্যান ড. জাইদি সাত্তার বলেন, গত পাঁচ দশকে বাংলাদেশ বড় অর্থনৈতিক পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে গেছে। তবে বাজারভিত্তিক অর্থনীতিতে রূপান্তরের পরও গত তিন দশকে অনেক প্রয়োজনীয় সংস্কার বাস্তবায়ন হয়নি।

মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এমসিসিআই) সভাপতি কামরান টি. রহমান বলেন, বিশ্বব্যাংক ও আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) সংস্কার–সংক্রান্ত শর্তগুলোর অনেকই বাংলাদেশের নিজস্ব উন্নয়নের জন্য প্রয়োজনীয়। একই সঙ্গে তিনি নীতিগত স্বাধীনতার ধারণা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।

সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন বলেন, বাংলাদেশের দর-কষাকষির সক্ষমতা আগের তুলনায় বেড়েছে। তবে স্বল্পমেয়াদি পদক্ষেপের পরিবর্তে দীর্ঘমেয়াদি কাঠামোগত সংস্কারের দিকে নজর দেওয়া প্রয়োজন। প্রকৃত নীতিগত স্বাধীনতার জন্য দেশীয় স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠীর প্রভাব থেকেও মুক্ত থাকতে হবে।

নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিন ড. এ কে এম ওয়ারেসুল করিম ক্রমবর্ধমান অভ্যন্তরীণ ঋণ ও উচ্চ সুদহারকে ভবিষ্যৎ অর্থনীতির জন্য ঝুঁকি হিসেবে উল্লেখ করেন।

সানেমের নির্বাহী পরিচালক ড. সেলিম রায়হান বলেন, উন্নয়ন সহযোগীরা এখন আগের তুলনায় স্থানীয় বাস্তবতা বেশি বিবেচনায় নিচ্ছে। তবে চূড়ান্ত সুফল নির্ভর করবে বাংলাদেশের নিজস্ব দর-কষাকষির সক্ষমতার ওপর।

বিজিএমইএর সহসভাপতি মো. রেজওয়ান সেলিম শিক্ষার মানোন্নয়ন ও মেধা পাচার রোধের ওপর গুরুত্ব দিয়ে বলেন, দেশে বেকারের অভাব নেই, কিন্তু দেশের সেরা শিল্প খাত তৈরি পোশাক শিল্পে ম্যানেজার পদে দেশীয় দক্ষ লোক পাওয়া যায় না। বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রিধারী কিন্তু দু’কলম ইংরেজি লিখতে পারে না। তাহলে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো কী শিক্ষা দিচ্ছে- প্রশ্ন রাখেন তিনি।

আরও পড়ুন

×