জুলাই আন্দোলনে সহিংসতার তদন্তে জবির কমিটির এক বছরেও নেই প্রতিবেদন
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়। ছবি: সংগৃহীত
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৩ আগস্ট ২০২৬ | ১৪:২৮
জুলাই ২০২৪-এর বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সময় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) ক্যাম্পাস ও ক্যাম্পাসের বাইরে সংঘটিত সহিংস ঘটনায় জড়িতদের চিহ্নিত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার লক্ষ্যে গঠিত তদন্ত কমিটি এক বছরের বেশি সময় পার হলেও এখন পর্যন্ত কোনো তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে পারেনি। ফলে তদন্তের অগ্রগতি ও বিচার প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, প্রশাসন গত বছরের ৮ মে এক জরুরি গণবিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে ২০২৪ সালের ১৫ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত সংঘটিত সহিংসতা ও বেআইনি কর্মকাণ্ডে জড়িত শিক্ষার্থী, শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তথ্য ও প্রমাণ তদন্ত কমিটির কাছে জমা দেওয়ার আহ্বান জানায়। প্রথমে অভিযোগ জমার সময়সীমা ২২ মে ২০২৫ নির্ধারণ করা হলেও পরে আরেকটি গণবিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে তা বাড়িয়ে ৩০ জুন ২০২৫ পর্যন্ত করা হয়। তবে সময়সীমা শেষ হওয়ার পরও তদন্ত কমিটি কোনো প্রতিবেদন প্রকাশ করতে পারেনি।
তদন্তের ধীরগতিতে ক্ষোভ প্রকাশ করে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (জকসু) মুক্তিযুদ্ধ ও গণতন্ত্রবিষয়ক সম্পাদক নূরনবী বলেন, কমিটি নিজ উদ্যোগে অনুসন্ধান না চালিয়ে কেবল অভিযোগের অপেক্ষায় থাকলে তদন্তের উদ্দেশ্যই প্রশ্নবিদ্ধ হয়। তার দাবি, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি দেখাতে পারেনি।
তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক এবং বিজনেস স্টাডিজ অনুষদের সাবেক ডিন অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ মঞ্জুর মুর্শেদ ভূঁইয়া সমকালকে বলেন, কমিটি একাধিক সভা করেছে এবং যাদের কাছে তথ্য, উপাত্ত বা সাক্ষ্য থাকতে পারে, তাদের সঙ্গে গ্রুপভিত্তিক বৈঠকও করা হয়েছে। কিন্তু প্রত্যাশিত তথ্য-প্রমাণ পাওয়া যায়নি। পর্যাপ্ত সাক্ষ্য ও নির্ভরযোগ্য তথ্য ছাড়া কাউকে দায়ী করে প্রতিবেদন দেওয়া সম্ভব নয়।
তিনি আরও বলেন, প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্তের অভাবে তদন্তকাজ এগোলেও দায় নির্ধারণের মতো পর্যাপ্ত উপাদান পাওয়া যায়নি। এ কারণে প্রতিবেদন এখনো জমা দেওয়া সম্ভব হয়নি।
অধ্যাপক মঞ্জুর মুর্শেদ ভূঁইয়া জানান, তদন্তে অগ্রগতি না হওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন একজন জেলা ও দায়রা জজকে প্রধান করে একক সদস্যবিশিষ্ট একটি পৃথক তদন্ত কমিশন গঠন করেছে। ওই কমিশনের প্রতিবেদনই সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য হবে।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রইছ উদ্দীন বলেন, তদন্ত কমিটি প্রতিবেদন দিতে না পারলেও বিচার প্রক্রিয়া থেমে থাকবে না। জুলাই আন্দোলনের অন্যতম প্রত্যাশা ছিল বিচার নিশ্চিত করা। সে লক্ষ্যেই একজন বিচারককে দায়িত্ব দিয়ে নতুন কমিশন গঠন করা হয়েছে। নতুন কমিশনের মাধ্যমে তদন্তের একটি গ্রহণযোগ্য ফল পাওয়া যাবে এবং সংশ্লিষ্ট সবাইকে প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্ত দিয়ে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান।