ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

‘আমরা চাই না আর কোনো সন্তান এভাবে হারিয়ে যাক’

জুলাইযোদ্ধাদের জন্য স্মরণসভা

‘আমরা চাই না আর কোনো  সন্তান এভাবে হারিয়ে যাক’
×

শিল্পকলা একাডেমিতে স্মরণসভা ও সম্মাননা অনুষ্ঠান ‘ভয় দেখাতে পারেনি জীবন’ (ছবি: সংগৃহীত)

 সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ০৪ আগস্ট ২০২৬ | ০৮:২৮ | আপডেট: ০৪ আগস্ট ২০২৬ | ০৯:৩৩

| প্রিন্ট সংস্করণ

একটি মঞ্চ। সামনে সারি সারি মুখ। কারও চোখে প্রিয় সন্তানের হারানোর শোক, কারও শরীরে এখনও বহন করা জুলাইয়ের ক্ষত। ২০২৪-এর সেই উত্তাল দিনগুলো পেরিয়ে দুই বছর পরও স্বজন হারানোর বেদনা যেন একই রকম তাজা। তাদের স্মরণ করতে গিয়ে ফিরে এলো সেই দিনগুলোর কথা। রাজপথ, মিছিল, গুলির শব্দ, রক্ত আর স্বপ্নের বাংলাদেশ।

শহীদ ও আহত জুলাইযোদ্ধাদের পরিবারের সদস্যদের নিয়ে সোমবার বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিতে অনুষ্ঠিত হলো স্মরণসভা ও সম্মাননা অনুষ্ঠান ‘ভয় দেখাতে পারেনি জীবন’। সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পৃষ্ঠপোষকতায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে প্রাণ দেওয়া ও আহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয়। একই সঙ্গে তাদের পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হয় সম্মাননা স্মারক।
জাতীয় সংগীত ও নৃত্যকলা কেন্দ্র মিলনায়তনে সন্ধ্যার আয়োজনের শুরুতেই সমবেত যন্ত্রসংগীতে বেজে ওঠে ‘ধনধান্য পুষ্পভরা’ ও ‘মুক্তির মন্দির সোপান তলে’। সুর থামার পর জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের স্মরণে পালন করা হয় এক মিনিট নীরবতা। এরপর প্রদর্শিত হয় জুলাইযোদ্ধাদের স্মরণে নির্মিত তথ্যচিত্র ‘মৃত্যুঞ্জয়ীদের চরণ চুমি’। পর্দায় ফিরে আসে সেই উত্তাল সময়ের নানা মুহূর্ত; মিলনায়তনের নীরবতায় যেন আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে হারিয়ে যাওয়া মানুষগুলোর উপস্থিতি।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী। স্বাগত বক্তব্য দেন, বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক রেজাউদ্দিন স্টালিন। মঞ্চে আরও ছিলেন একাডেমির সচিব মোহাম্মদ জাকির হোসেন।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দিনগুলোর স্মৃতিচারণ করে সংস্কৃতিমন্ত্রী বলেন, ফ্যাসিবাদী শক্তিকে পরাজিত করার মধ্য দিয়ে ইতিহাসের অনিবার্য একটি ঘটনা ঘটেছে। তাঁর ভাষায়, দেশ চেয়েছে স্বাধীনতা, জনগণ চেয়েছে বিপ্লবী পরিবর্তন, মানুষ চেয়েছে গণতান্ত্রিক সমাজ। জনতার দেশ প্রতিষ্ঠা এবং আধিপত্যবাদ থেকে মুক্তির আকাঙ্ক্ষাই এই আন্দোলনের পেছনে ছিল।
শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে তরুণ ছাত্রদের ধরে নিয়ে হত্যা দেশের ইতিহাসে বিরল ঘটনা। অন্যায়ের বিরুদ্ধে গণতন্ত্রকামী মানুষের প্রতিরোধ কখনও থামানো যায়নি, ভবিষ্যতেও যাবে না। আমরা চাই না আর কোনো পরিবারের সন্তান এভাবে হারিয়ে যাক।

স্মরণসভায় শহীদ খালিদ হাসান সাইফুল্লাহ, শহীদ শাহরিয়ার খান আনাস, শহীদ ফারহান ফাইয়াজ, শহীদ নাঈমা সুলতানা, শহীদ নাফিসা হোসেন মারওয়া ও শহীদ মাহমুদুর রহমান সৈকতের পরিবারের সদস্যদের হাতে সম্মাননা স্মারক তুলে দেওয়া হয়। একইভাবে আহত জুলাইযোদ্ধা মো. সিয়াম উদ্দিন, নুপুর চৌধুরী, মো. আশরাফুল ফাহিম ও মো. ইমাম হাসানের হাতেও সম্মাননা তুলে দেন অতিথিরা।

আরও পড়ুন

×