ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মতপ্রকাশের স্বাধীনতার নামে হয়রানি ও চরিত্রহনন গ্রহণযোগ্য নয়: আইসিটি মন্ত্রী

সরকারকে নিয়ে বিভ্রান্তিকর কনটেন্ট ঠেকাতে মেটা-গুগলের সঙ্গে বৈঠক

মতপ্রকাশের স্বাধীনতার নামে হয়রানি ও চরিত্রহনন গ্রহণযোগ্য নয়: আইসিটি মন্ত্রী
×

ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম। ছবি: সংগৃহীত

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ০৪ আগস্ট ২০২৬ | ২০:৫৭

সরকারকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর ও মিথ্যা কনটেন্টের বিস্তার ঠেকাতে মেটা, গুগলসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্মের প্রতিনিধিদের সঙ্গে শিগগিরই বৈঠক করবে সরকার। একই সঙ্গে মতপ্রকাশের স্বাধীনতার নামে ব্যক্তিগত হয়রানি, বুলিং ও চরিত্রহননমূলক কনটেন্ট কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় বলে মন্তব্য করেছেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম।

মঙ্গলবার রাজধানীতে সাইবার সুরক্ষা এজেন্সি আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে দেশের সাইবার নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও কার্যকর করতে সাইবার ইনসিডেন্ট রিপোর্টিং সিস্টেম (সিআইআরএস) এবং ন্যাশনাল আইসিটি অ্যান্ড সাইবার সিকিউরিটি রেটিং সিস্টেম (এনআরএস) উদ্বোধন করা হয়। একই সঙ্গে জাতীয় সাইবার সিকিউরিটি স্ট্র্যাটেজি ২০২৬-২০৩০-এর প্রাথমিক খসড়াও উপস্থাপন করা হয়।

মন্ত্রী বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মানহানিকর, বিভ্রান্তিকর ও চরিত্রহননমূলক কনটেন্টের কারণে অনেক মানুষ, বিশেষ করে তরুণ-তরুণীরা মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হচ্ছেন। তাই বাকস্বাধীনতার আড়ালে এ ধরনের অপব্যবহার কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না। এ বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে নীতিগত আলোচনা চলছে। সরকারকে নিয়ে মিথ্যা প্রচারণা ও বিভ্রান্তিকর কনটেন্ট প্রতিরোধে মেটা, গুগলসহ সংশ্লিষ্ট প্ল্যাটফর্মগুলোর প্রতিনিধিদের সঙ্গে শিগগিরই বৈঠক হবে বলেও জানান তিনি।

ফকির মাহবুব আনাম বলেন, নতুন চালু হওয়া সিআইআরএস-এর মাধ্যমে নাগরিক ও প্রতিষ্ঠান সাইবার হামলা, অনলাইন প্রতারণা, হয়রানি বা অন্যান্য সাইবার ঘটনার অভিযোগ অনলাইনে জানাতে পারবেন। অভিযোগ যাচাই করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করা হবে। অন্যদিকে এনআরএস সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের তথ্যপ্রযুক্তি ও সাইবার নিরাপত্তা সক্ষমতা মূল্যায়ন করবে। এর মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানের দুর্বলতা চিহ্নিত করে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও উন্নত করা সম্ভব হবে।

প্রধানমন্ত্রীর ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ বলেন, সাইবার নিরাপত্তা ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ভিন্ন বিষয় হলেও একে অপরের সঙ্গে সম্পর্কিত। ভুয়া তথ্য, বিভ্রান্তিকর প্রচার, ট্রলিং ও ব্যক্তিগত হয়রানি এখন বড় চ্যালেঞ্জ। এগুলো মোকাবিলা শুধু সরকারের দায়িত্ব নয়; নাগরিক, বেসরকারি খাত ও প্রতিষ্ঠান—সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। ভবিষ্যতে সাইবার হামলার ঝুঁকি আরও বাড়বে উল্লেখ করে তিনি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা ও ডেটা প্রযুক্তিতে দক্ষ জনবল গড়ে তোলার ওপর জোর দেন।

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান বলেন, নতুন সাইবার ইনসিডেন্ট রিপোর্টিং সিস্টেম দেশের ব্যাংকিং খাতের সাইবার নিরাপত্তা জোরদারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। সম্ভাব্য সাইবার হুমকি সম্পর্কে আগাম সতর্কবার্তা দেওয়া এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মধ্যে দ্রুত সমন্বয় গড়ে তুলতেও এটি কার্যকর হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি বিভাগের সচিব মো. মামুনুর রশীদ ভূঞার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিটিআরসির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) মো. এমদাদ উল বারীসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন

×