চার বিভাগে ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টির আভাস
চট্টগ্রামে ভূমিধসের শঙ্কা
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ০৭ আগস্ট ২০২৬ | ০৯:২২
| প্রিন্ট সংস্করণ
সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে দেশের চার বিভাগে আজ শুক্রবার কোথাও কোথাও ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টি হতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। বিশেষ করে চট্টগ্রাম বিভাগের পাহাড়ি এলাকায় অতিভারী বৃষ্টির কারণে ভূমিধসের আশঙ্কার কথাও বলা হয়েছে। এদিকে দেশের কয়েকটি নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। আগামী কয়েক দিনে উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের কিছু নিচু এলাকা সাময়িকভাবে প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কার কথা জানিয়েছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের ঝড় সতর্কীকরণ কেন্দ্রের বিশেষ সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে, শুক্রবার ঢাকা, খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের কোথাও কোথাও ভারী (৪৪ থেকে ৮৮ মিলিমিটার) থেকে অতিভারী (৮৮ মিলিমিটারের বেশি) বৃষ্টি হতে পারে। চট্টগ্রাম বিভাগের পাহাড়ি এলাকার কোথাও কোথাও ভূমিধসের ঝুঁকি রয়েছে।
আবহাওয়াবিদ মো. হাফিজুর রহমান বলেন, ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টিপাত এবং পাহাড়ি এলাকায় ভূমিধসের আশঙ্কার সতর্কবার্তাটি শুধু শুক্রবারের জন্য প্রযোজ্য। এর পরও বৃষ্টি থাকবে, তবে অতিভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা কমে যাবে এবং বৃষ্টি কিছুটা হ্রাস পাবে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের পাঁচ দিনের পূর্বাভাস অনুযায়ী, শুক্রবার সন্ধ্যা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় রাজশাহী, ঢাকা, ময়মনসিংহ, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক স্থানে এবং রংপুর বিভাগের কিছু এলাকায় বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী বর্ষণের সম্ভাবনা রয়েছে। এ সময় দিন ও রাতের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে। শনিবার রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের অধিকাংশ এলাকায় এবং ঢাকা, খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের অনেক স্থানে বৃষ্টি বা বজ্রবৃষ্টি হতে পারে। দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে ভারী বর্ষণের সম্ভাবনা রয়েছে। রোববার ও সোমবার দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টি-বজ্রবৃষ্টি অব্যাহত থাকতে পারে। এ সময়ও কোথাও কোথাও ভারী বর্ষণের সম্ভাবনা রয়েছে।
এদিকে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, দেশের উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের কয়েকটি নদীর পানি এখনও বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। বৃহস্পতিবার গাইবান্ধার তারাপুর পয়েন্টে তিস্তা নদীর পানি বিপৎসীমার ১৩ সেন্টিমিটার এবং সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জে কুশিয়ারা নদীর পানি বিপৎসীমার ১১ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। গত এক দিনে সুরমা নদীর পানি স্থিতিশীল থাকলেও বেড়েছে কুশিয়ারার পানি। আগামী তিন দিন এ নদীর পানি স্থিতিশীল থাকতে পারে। তবে আগামী দুই দিনের মধ্যে সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলার কিছু স্থানে নদী সতর্কসীমা স্পর্শ করতে পারে। এতে নদীসংলগ্ন নিচু এলাকার কোথাও কোথাও সাময়িক প্লাবনের আশঙ্কা রয়েছে।
অন্যদিকে আগামী এক দিনের মধ্যে গাইবান্ধা এলাকায় তিস্তা-সংলগ্ন নিচু এলাকার বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে। গত এক দিনে রংপুর বিভাগের তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার নদীর পানি বেড়েছে। আগামী দুই দিনে এসব নদীর পানি কমতে পারে এবং তৃতীয় দিনে স্থিতিশীল থাকতে পারে। এ ছাড়া ব্রহ্মপুত্র-যমুনা অববাহিকার নদ-নদীর পানি আগামী তিন দিন পর্যন্ত বাড়তে পারে। গঙ্গা নদীর পানিও বাড়ছে, আর পদ্মার পানি বর্তমানে স্থিতিশীল থাকলেও আগামী তিন দিনে তা বৃদ্ধি পেতে পারে।
- বিষয় :
- আবহাওয়া