রবীন্দ্রপ্রয়াণ
শিল্পকলায় গান, কবিতায় কবিগুরুর প্রতি শ্রদ্ধার্ঘ্য
রবীন্দ্রপ্রয়াণ দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে নৃত্য পরিবেশন করেন শিল্পীরা। গতকাল শনিবার রাজধানীর শিল্পকলা একাডেমিতে- সমকাল
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ০৯ আগস্ট ২০২৬ | ০৭:৪১ | আপডেট: ০৯ আগস্ট ২০২৬ | ০৮:১০
| প্রিন্ট সংস্করণ
মৃত্যুর ৮৫ বছর পরও রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর যেন বাঙালির সাংস্কৃতিক জীবনে সমানভাবে উপস্থিত। তাঁর গান, কবিতা ও দর্শনে মানুষ, প্রকৃতি, প্রেম, বিরহ, আনন্দ-বেদনা এবং মানবমুক্তির যে অনুসন্ধান, তা সময় পেরিয়ে আজও নতুন প্রজন্মকে আলোড়িত করে। সেই চিরায়ত সৃষ্টির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিতে অনুষ্ঠিত হলো বিশেষ সাংস্কৃতিক আয়োজন ‘২২ শ্রাবণ বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রয়াণ দিবসের শ্রদ্ধার্ঘ্য’।
গতকাল শনিবার রাজধানীর জাতীয় নাট্যশালা মিলনায়তনে সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পৃষ্ঠপোষকতায় আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী। অনুষ্ঠানে রবীন্দ্রনাথের ‘পৃথিবী’ কবিতার অংশবিশেষ পাঠ করেন তিনি। সভাপতিত্ব করেন সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব কানিজ মওলা।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক রেজাউদ্দিন স্টালিন। তিনি রবীন্দ্রনাথের কবিতাও পাঠ করেন। শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক আহমেদ জিয়াউর রহমান।
আলোচনায় বক্তারা বলেন, রবীন্দ্রনাথকে শুধু অতীতের কোনো সাহিত্যিক বা সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে দেখলে তাঁর সৃষ্টির ব্যাপ্তি অনুধাবন করা সম্ভব নয়। নতুন প্রজন্মের কাছে তাঁর সাহিত্য, সংগীত ও দর্শন পৌঁছে দিতে নিয়মিত সাংস্কৃতিক চর্চার প্রয়োজন। বিশেষ করে, তাঁর মানবতাবাদী দর্শন ও অসাম্প্রদায়িক চেতনাকে সমাজে ছড়িয়ে দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেন তারা।
আলোচনার পাশাপাশি গান, নৃত্য ও আবৃত্তিতে সাজানো হয় পুরো আয়োজন। শুরুতে চাঁদপুর জেলা শিল্পকলা একাডেমির শিল্পীরা পরিবেশনা উপস্থাপন করেন। পরে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির শিল্পীদের সমবেত সংগীতে তৈরি হয় রবীন্দ্রসংগীতের আবহ। তারা পরিবেশন করেন ‘আগুনের পরশমণি’।
একক সংগীতে অংশ নেন তানিয়া ইসলাম, ফাহিম হোসেন চৌধুরী, মোহাম্মদ শহিদুল হক, অণিমা রায়, দেবলীনা সুর, আহমেদ শাকিল হাসমী, চঞ্চল খান, শাহনাজ নাসরিন ইলা, সোনিয়া পারভেজ, শিমু দে, পান্না দত্ত, মহাদেব সাহা ও সৃজনী।
শিল্পকলা একাডেমির শিল্পীদের পাশাপাশি নৃত্যনন্দন, ভাবনা, কায়া আশ্রম, আরাধনা, তপস্যা ও দিবা সাংস্কৃতিক সংগঠনের শিল্পীরা নৃত্য পরিবেশন করেন। রবীন্দ্রনাথের গান ও কবিতার প্রেম, প্রকৃতি, বিরহ, জীবন ও মৃত্যুচেতনা তাদের নৃত্যের ছন্দ ও মুদ্রায় উঠে আসে।
অনুষ্ঠানে রবীন্দ্র সৃজনকলা বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ও সরকারি সংগীত কলেজের শিল্পী-শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে ছিল সমবেত সংগীত পরিবেশনা। আবৃত্তি করেন টিটো মুন্সী ও সীমা ইসলাম।
গান, কবিতা ও নৃত্যের সম্মিলনে সন্ধ্যার আয়োজন হয়ে ওঠে রবীন্দ্রনাথের বহুমাত্রিক সৃষ্টিজগতের এক সাংস্কৃতিক পুনর্পাঠ। প্রয়াণ দিবসে শিল্পকলার এ শ্রদ্ধার্ঘ্যে যেন আবারও উচ্চারিত হলো শরীরের মৃত্যু রবীন্দ্রনাথকে থামাতে পারেনি; তাঁর সৃষ্টি আজও বাঙালির জীবন ও সংস্কৃতির গভীরে প্রবহমান।
- বিষয় :
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর